আল-জ্বিন · 12/28
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-জ্বিন
وَأَنَّا ظَنَنَّا أَن لَّن نُّعْجِزَ اللَّهَ فِي الْأَرْضِ وَلَن نُّعْجِزَهُ هَرَبًا ۝١٢
Wa annaa zanannaaa al lan nu`jizal laaha fil ardi wa lan nu`jizahoo harabaa
📖 বাংলা অর্থ
আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহ তা’আলাকে পরাস্ত করতে পারব না এবং পলায়ন করেও তাকে অপারক করত পরব না।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ظَنَنَّا - আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছি, দৃঢ় বিশ্বাস করেছি।
  • لَنْ نُعْجِزَ اللَّهَ - আমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারব না, অর্থাৎ তাঁর শক্তি ও কর্তৃত্বের বাইরে যেতে পারব না।
  • فِي الْأَرْضِ - পৃথিবীর বুকে যেখানেই থাকি না কেন।
  • هَرَبًا - পলায়ন করে, পালিয়ে গিয়ে।

তাফসীর:

জিন সম্প্রদায়ের ঈমানদার সদস্যরা যখন কুরআনের আয়াত শুনে হিদায়াত লাভ করল, তখন তারা তাদের পূর্বের ভুল ধারণা ও পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরে এসে আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি ব্যক্ত করল। তারা বলল: “আমরা এখন দৃঢ়ভাবে জেনে গেছি এবং নিশ্চিত বিশ্বাস করেছি যে, আমরা পৃথিবীর বুকে যেখানেই থাকি না কেন, আল্লাহকে কখনোই অক্ষম করতে পারব না। তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতার বাইরে আমাদের কোনো অবস্থান নেই। আমরা যদি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করি—পৃথিবীর কোনো প্রান্তে বা আকাশে উড়ে গিয়ে—তবুও আমরা তাঁর শাস্তি ও পাকড়াও থেকে রক্ষা পেতে সক্ষম হব না। কারণ আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান, তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে।”

এই উপলব্ধি তাদের অন্তরে এমন এক দৃঢ় বিশ্বাসের জন্ম দিল যে, আল্লাহর সামনে কোনো প্রকার পলায়ন বা প্রতিরোধের পথ নেই। তারা বুঝতে পারল, মানুষের ও জিনের জন্য একমাত্র মুক্তির পথ হলো আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা, তাঁর আদেশ মান্য করা এবং তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য তাঁরই দয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা। এই ঘোষণার মাধ্যমে তারা তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করল যে, আল্লাহকে অসম্মান করা বা তাঁর আদেশ অমান্য করার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ, এবং কোনো শক্তি বা উপায়ই তাঁকে ব্যর্থ করতে পারে না।

দাওয়াতী বার্তা:

প্রিয় পাঠক! এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সামনে আমাদের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণই একমাত্র সত্য পথ। আমরা যতই শক্তিশালী, বুদ্ধিমান বা সম্পদশালী হই না কেন, আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে আমাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস তাঁরই নিয়ন্ত্রণে। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের উচিত তাঁর আদেশ মেনে চলা, তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে এবং তাঁর পথে চলে, আল্লাহ তাকে কখনো একা ছাড়েন না। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভুলে নিজের শক্তি বা বুদ্ধির উপর নির্ভর করে, সে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আসুন, আমরা সবাই এই সত্যকে অন্তরে ধারণ করি এবং আমাদের জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন।



📜 আয়াত 10-14 — সূরা আল-জ্বিন

10وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَن فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا
আমরা জানি না পৃথিবীবাসীদের অমঙ্গল সাধন করা অভীষ্ট, না তাদের পালনকর্তা তাদের মঙ্গল সাধন করার ইচ্ছা রাখেন।
11وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَٰلِكَ ۖ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا
আমাদের কেউ কেউ সৎকর্মপরায়ণ এবং কেউ কেউ এরূপ নয়। আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথে বিভক্ত।
12وَأَنَّا ظَنَنَّا أَن لَّن نُّعْجِزَ اللَّهَ فِي الْأَرْضِ وَلَن نُّعْجِزَهُ هَرَبًا
আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহ তা’আলাকে পরাস্ত করতে পারব না এবং পলায়ন করেও তাকে অপারক করত পরব না।
13وَأَنَّا لَمَّا سَمِعْنَا الْهُدَىٰ آمَنَّا بِهِ ۖ فَمَن يُؤْمِن بِرَبِّهِ فَلَا يَخَافُ بَخْسًا وَلَا رَهَقًا
আমরা যখন সুপথের নির্দেশ শুনলাম, তখন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব, যে তার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস করে, সে লোকসান ও জোর-জবরের আশংকা করে না।
14وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ ۖ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولَٰئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا
আমাদের কিছুসংখ্যক আজ্ঞাবহ এবং কিছুসংখ্যক অন্যায়কারী। যারা আজ্ঞাবহ হয়, তারা সৎপথ বেছে নিয়েছে।
আল-জ্বিনকুরআন সূচী
28আয়াত
মাক্কীRevelation
12আয়াত

অনুবাদ — আল-জ্বিন 12

সূরা আল-জ্বিন আয়াত 12 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহ তা’আলাকে পরাস্ত করতে…

সূরা আয়াত 12/28 — সূরা আল-জ্বিন الجن (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-জ্বিন শুনুন, সূরা আল-জ্বিন অনুবাদ, সূরা আল-জ্বিন mp3, সূরা আল-জ্বিন pdf. আয়াত 10–14. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 8, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না