আল-জ্বিন · 13/28
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-জ্বিন
وَأَنَّا لَمَّا سَمِعْنَا الْهُدَىٰ آمَنَّا بِهِ ۖ فَمَن يُؤْمِن بِرَبِّهِ فَلَا يَخَافُ بَخْسًا وَلَا رَهَقًا ۝١٣
Wa annaa lammaa sami`nal hudaaa aamannaa bihee famany yu`mim bi rabbihee falaa yakhaafu bakhsanw wa laa rahaqaa
📖 বাংলা অর্থ
আমরা যখন সুপথের নির্দেশ শুনলাম, তখন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব, যে তার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস করে, সে লোকসান ও জোর-জবরের আশংকা করে না।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • بَخْسًا অর্থ: ন্যূনতা, কমিয়ে দেওয়া, বা সওয়াব থেকে কিছু কমানো।
  • رَهَقًا অর্থ: জুলুম, অন্যায়, বা গুনাহের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া।

তাফসীর:

জিনদের এই বক্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষণীয়। তারা বলছে, “আমরা যখন কুরআন—এই হিদায়াতের উৎস—শুনলাম, তখনই তা সত্য বলে মেনে নিলাম এবং তার উপর ঈমান আনলাম।” অর্থাৎ, কুরআনের সত্যতা ও মাধুর্য তাদের হৃদয়ে এমন প্রভাব ফেলেছিল যে, তারা দ্বিধা বা সংশয় ছাড়াই তা গ্রহণ করে নিয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে, কুরআন是人类 ও জিন উভয়ের জন্য হিদায়াতের আলো।

এরপর তারা ঘোষণা করছে, “যে ব্যক্তি তার রবের প্রতি ঈমান আনে, তার কোনো ভয় নেই—না তার নেক আমল কমানোর ভয়, না তার উপর জুলুম বা অন্যায় চাপিয়ে দেওয়ার ভয়।” অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা ন্যায়পরায়ণ। তিনি কাউকে কম দেবেন না, কারো উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাবেন না। যে ঈমান এনে সৎকর্ম করে, তার জন্য রয়েছে পূর্ণ প্রতিদান এবং নিরাপত্তা।

এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ঈমানের অর্থ শুধু মুখে বলা নয়, বরং তা অন্তর থেকে গ্রহণ করা এবং তার উপর আমল করা। জিনদের মতো আমরাও যখন কুরআন শুনি, তখন আমাদের উচিত তা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তা মেনে নেওয়া। আর ঈমানের পর আমাদের কোনো ভয় থাকা উচিত নয়—আল্লাহর ন্যায়বিচারের উপর পূর্ণ আস্থা রাখা উচিত। এই আয়াত মুমিনের জন্য এক বিশাল সুসংবাদ—আল্লাহ কখনো বান্দার হক নষ্ট করেন না, বরং তার প্রতিটি নেক আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন।



📜 আয়াত 11-15 — সূরা আল-জ্বিন

11وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَٰلِكَ ۖ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا
আমাদের কেউ কেউ সৎকর্মপরায়ণ এবং কেউ কেউ এরূপ নয়। আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথে বিভক্ত।
12وَأَنَّا ظَنَنَّا أَن لَّن نُّعْجِزَ اللَّهَ فِي الْأَرْضِ وَلَن نُّعْجِزَهُ هَرَبًا
আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহ তা’আলাকে পরাস্ত করতে পারব না এবং পলায়ন করেও তাকে অপারক করত পরব না।
13وَأَنَّا لَمَّا سَمِعْنَا الْهُدَىٰ آمَنَّا بِهِ ۖ فَمَن يُؤْمِن بِرَبِّهِ فَلَا يَخَافُ بَخْسًا وَلَا رَهَقًا
আমরা যখন সুপথের নির্দেশ শুনলাম, তখন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব, যে তার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস করে, সে লোকসান ও জোর-জবরের আশংকা করে না।
14وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ ۖ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولَٰئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا
আমাদের কিছুসংখ্যক আজ্ঞাবহ এবং কিছুসংখ্যক অন্যায়কারী। যারা আজ্ঞাবহ হয়, তারা সৎপথ বেছে নিয়েছে।
15وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا
আর যারা অন্যায়কারী, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন।
আল-জ্বিনকুরআন সূচী
28আয়াত
মাক্কীRevelation
13আয়াত

অনুবাদ — আল-জ্বিন 13

সূরা আল-জ্বিন আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমরা যখন সুপথের নির্দেশ শুনলাম, তখন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম।…

সূরা আয়াত 13/28 — সূরা আল-জ্বিন الجن (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-জ্বিন শুনুন, সূরা আল-জ্বিন অনুবাদ, সূরা আল-জ্বিন mp3, সূরা আল-জ্বিন pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না