আল-জ্বিন · 22/28
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-জ্বিন
قُلْ إِنِّي لَن يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِن دُونِهِ مُلْتَحَدًا ۝٢٢
Qul innee lany yujeeranee minal laahi ahad, wa lan ajida min doonihee multahadaa
📖 বাংলা অর্থ
বলুনঃ আল্লাহ তা’আলার কবল থেকে আমাকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না এবং তিনি ব্যতীত আমি কোন আশ্রয়স্থল পাব না।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَن يُجِيرَنِي — আমাকে রক্ষা করতে পারবে না, নিরাপদ দিতে পারবে না।
  • مُلْتَحَدًا — আশ্রয়স্থল, আড়াল, কোনো নিরাপদ স্থান বা পালানোর জায়গা।

তাফসীর:

হে নবী! আপনি তাদের বলুন— “আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিজেকে রক্ষা করার কোনো ক্ষমতা রাখি না। যদি আমি তাঁর অবাধ্যতা করি, তবে আমাকে কেউই আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আর আল্লাহ ছাড়া আমি কোনো আশ্রয়স্থলও পাব না, যেখানে গিয়ে আমি তাঁর শাস্তি থেকে পালাতে বা আড়াল হতে পারি।”

অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, তিনি যেন মানুষকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন— তিনি নিজেও আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কারো কোনো উপকার বা অপকার করতে সক্ষম নন। তাঁর দায়িত্ব শুধু এই যে, আল্লাহ যা কিছু তাঁর কাছে পাঠিয়েছেন, তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার পরিণাম হবে জাহান্নামের আগুন, যেখান থেকে সে কখনো বের হতে পারবে না।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর রাসূল (সা.) নিজেও সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত ছিলেন। তাঁর ক্ষমতা ছিল না কারো ক্ষতি বা উপকার করার, বরং তিনি ছিলেন শুধু আল্লাহর বার্তাবাহক। এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই এবং সকল বিষয়ে আমাদের একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা করতে হবে।
  2. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, প্রকৃত নিরাপত্তা ও আশ্রয় শুধুমাত্র আল্লাহর নিকটেই। দুনিয়ার কোনো শক্তি, সম্পদ বা অবস্থান আমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। তাই আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর নাফরমানি থেকে দূরে থাকা।
  3. রাসূল (সা.)-এর এই ঘোষণা আমাদেরকে দ্বীনের দাওয়াতের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার শিক্ষা দেয়। দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে নিঃস্বার্থভাবে, নিজের কোনো লাভ-ক্ষতির হিসাব না রেখে, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
  4. এই আয়াত মুমিনদের জন্য একটি সান্ত্বনা যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) নিজেও মানুষের মতোই ছিলেন এবং আল্লাহর বিধানের কাছে তিনিও সমানভাবে জবাবদিহি করতেন। তাই আমাদের উচিত রাসূলের (সা.) অনুসরণ করা এবং তাঁর দেখানো পথে চলা, যাতে আমরা আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে পারি।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 20-24 — আল-জ্বিন

20قُلْ إِنَّمَا أَدْعُو رَبِّي وَلَا أُشْرِكُ بِهِ أَحَدًا
বলুনঃ আমি তো আমার পালনকর্তাকেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করি না।
21قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا رَشَدًا
বলুনঃ আমি তোমাদের ক্ষতি সাধন করার ও সুপথে আনয়ন করার মালিক নই।
22قُلْ إِنِّي لَن يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِن دُونِهِ مُلْتَحَدًا
বলুনঃ আল্লাহ তা’আলার কবল থেকে আমাকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না এবং তিনি ব্যতীত আমি কোন আশ্রয়স্থল পাব না।
23إِلَّا بَلَاغًا مِّنَ اللَّهِ وَرِسَالَاتِهِ ۚ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا
কিন্তু আল্লাহ তা’আলার বাণী পৌছানো ও তাঁর পয়গাম প্রচার করাই আমার কাজ। যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে, তার জন্যে রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি। তথায় তারা চিরকাল থাকবে।
24حَتَّىٰ إِذَا رَأَوْا مَا يُوعَدُونَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ أَضْعَفُ نَاصِرًا وَأَقَلُّ عَدَدًا
এমনকি যখন তারা প্রতিশ্রুত শাস্তি দেখতে পাবে, তখন তারা জানতে পারবে, কার সাহায্যকারী দূর্বল এবং কার সংখ্যা কম।
আল-জ্বিনকুরআন সূচী
28আয়াত
মাক্কীRevelation
22আয়াত

অনুবাদ — আল-জ্বিন 22

সূরা আল-জ্বিন আয়াত 22 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বলুনঃ আল্লাহ তা’আলার কবল থেকে আমাকে কেউ রক্ষা করতে পারবে…

সূরা আয়াত 22/28 — আল-জ্বিন الجن (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-জ্বিন শুনুন, আল-জ্বিন অনুবাদ, আল-জ্বিন mp3, আল-জ্বিন pdf. আয়াত 20–24. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না