আল-জ্বিন · 21/28
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-জ্বিন
قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا رَشَدًا ۝٢١
Qul innee laaa amliku lakum darranw wa laa rashadaa
📖 বাংলা অর্থ
বলুনঃ আমি তোমাদের ক্ষতি সাধন করার ও সুপথে আনয়ন করার মালিক নই।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ضَرًّا — ক্ষতি, অমঙ্গল, অপকার।
  • رَشَدًا — কল্যাণ, মঙ্গল, হিদায়াত ও সঠিক পথ।

তাফসীর:

হে নবী! আপনি তাদেরকে বলুন, “আমি তোমাদের জন্য কোনো ক্ষতি করার মালিক নই, আর তোমাদের জন্য কোনো কল্যাণ বা মঙ্গল আনারও মালিক নই।” অর্থাৎ, আল্লাহ যা কিছু নির্ধারণ করেছেন, তা বদলানোর বা আটকানোর ক্ষমতা আমার নেই। আমি তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল; আমার কাজ হলো আল্লাহর বাণী ও নির্দেশ তোমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তোমাদের উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা সম্পূর্ণ একমাত্র আল্লাহর হাতে। তিনি চাইলে আমাকে দিয়েও তোমাদের ক্ষতি করাতে পারেন, আর চাইলে আমার মাধ্যমে কল্যাণও পৌঁছাতে পারেন। কিন্তু নিজ থেকে আমার কোনো ক্ষমতা নেই।

আরও বলুন, “আমি যদি আল্লাহর অবাধ্য হই, তবে আমাকে কেউ আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না এবং আল্লাহ ছাড়া আমি কোনো আশ্রয়স্থলও পাব না।” তবে আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যে দায়িত্ব পেয়েছি—তা হলো তাঁর বাণী ও রিসালাত পৌঁছে দেওয়া। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার পরিণাম হবে জাহান্নামের আগুন, যেখান থেকে সে কখনো বের হতে পারবে না।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেও ক্ষতি-কল্যাণের মালিক নন; বরং তিনিও আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত। এটি তাওহীদের গভীর শিক্ষা—সব ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে।
  2. নবী-রাসূলদের প্রকৃত দায়িত্ব হলো আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া, মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করা নয়। তাই আমাদের কর্তব্য হলো তাদের আনীত পথের অনুসরণ করা।
  3. এই ঘোষণা মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা ও আস্থা সৃষ্টি করে—যিনি সবকিছুর মালিক, তাঁর ওপরই আমরা নির্ভর করি।
  4. আখিরাতের শাস্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা। যে এ পথ ছাড়বে, তার জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জাহান্নাম—এ সতর্কবার্তা আমাদেরকে সৎকর্মে অটল থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায়, দাওয়াতের কাজে নবীজীর মতো বিনয়ী ও দায়িত্বশীল হতে হবে—নিজের কোনো ক্ষমতা নেই জেনেও আল্লাহর পথে ডাকতে হবে, আর ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিতে হবে।


📜 আয়াত 19-23 — আল-জ্বিন

19وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا
আর যখন আল্লাহ তা’আলার বান্দা তাঁকে ডাকার জন্যে দন্ডায়মান হল, তখন অনেক জিন তার কাছে ভিড় জমাল।
20قُلْ إِنَّمَا أَدْعُو رَبِّي وَلَا أُشْرِكُ بِهِ أَحَدًا
বলুনঃ আমি তো আমার পালনকর্তাকেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করি না।
21قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا رَشَدًا
বলুনঃ আমি তোমাদের ক্ষতি সাধন করার ও সুপথে আনয়ন করার মালিক নই।
22قُلْ إِنِّي لَن يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِن دُونِهِ مُلْتَحَدًا
বলুনঃ আল্লাহ তা’আলার কবল থেকে আমাকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না এবং তিনি ব্যতীত আমি কোন আশ্রয়স্থল পাব না।
23إِلَّا بَلَاغًا مِّنَ اللَّهِ وَرِسَالَاتِهِ ۚ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا
কিন্তু আল্লাহ তা’আলার বাণী পৌছানো ও তাঁর পয়গাম প্রচার করাই আমার কাজ। যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে, তার জন্যে রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি। তথায় তারা চিরকাল থাকবে।
আল-জ্বিনকুরআন সূচী
28আয়াত
মাক্কীRevelation
21আয়াত

অনুবাদ — আল-জ্বিন 21

সূরা আল-জ্বিন আয়াত 21 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বলুনঃ আমি তোমাদের ক্ষতি সাধন করার ও সুপথে আনয়ন করার…

সূরা আয়াত 21/28 — আল-জ্বিন الجن (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-জ্বিন শুনুন, আল-জ্বিন অনুবাদ, আল-জ্বিন mp3, আল-জ্বিন pdf. আয়াত 19–23. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না