আল-জ্বিন · 6/28
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-জ্বিন
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا ۝٦
Wa annahoo kaana rijaa lum minal insi ya`oozoona birijaalim minal jinni fazaa doohum rahaqaa
📖 বাংলা অর্থ
অনেক মানুষ অনেক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্নম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • يَعُوذُونَ - আশ্রয় প্রার্থনা করা, পানাহ চাওয়া।
  • رَهَقًا - ভয়, আতঙ্ক, গুনাহ, বা অহংকার ও দাম্ভিকতা বৃদ্ধি পাওয়া।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন জাহিলিয়াত যুগের একটি মারাত্মক ভুল বিশ্বাস ও কর্ম সম্পর্কে। জাহিলিয়াতের যুগে আরবের কিছু মানুষ যখন কোনো নির্জন, ভয়ংকর প্রান্তরে বা মরুভূমিতে সফর করত, তখন তারা জিনদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত। তারা বলত, “আমি এই উপত্যকার অধিপতি (জিন) এর নিকট তার মূর্খ সম্প্রদায়ের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।” তারা মনে করত, কোনো নির্দিষ্ট স্থানের জিন সেখানকার কর্তা, আর তার নামে আশ্রয় নিলে সে তাদের রক্ষা করবে।

কিন্তু এর ফল কী দাঁড়াল? আল্লাহ বলেন, এর ফলে জিনদের ভয়, আতঙ্ক ও অহংকার আরও বেড়ে গেল। জিনরা মনে করত, মানুষ আমাদের ভয় পায়, আমাদের কাছে পানাহ চায়, অর্থাৎ আমরা তাদের উপর প্রভাবশালী। ফলে তারা মানুষের ক্ষতি করা আরও বাড়িয়ে দিত এবং মানুষকে আরও ভয়-ভীতি ও বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিত। মানুষের এই আচরণ জিনদের দাম্ভিকতা ও সীমালঙ্ঘনকে আরও বৃদ্ধি করেছিল।

এই আয়াত থেকে আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই। শুধু আল্লাহ তাআলাই আশ্রয়দাতা এবং রক্ষাকর্তা। তাঁর বাইরে কাউকে আশ্রয়দাতা মনে করা, বিশেষ করে জিন, তাবিজ-কবজ, ঝাড়-ফুঁক, জ্যোতিষী, গণক বা যাদুকরদের নিকট আশ্রয় চাওয়া—এটি শিরক এবং ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি এমন একটি মহাপাপ যা আল্লাহ ক্ষমা করেন না যতক্ষণ না বান্দা তাওবাহ করে। এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট আশ্রয় চাওয়া কখনোই উপকার বয়ে আনে না; বরং তা মানুষের ভয়, অস্থিরতা ও বিপদকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! আমাদের জীবনকে শুধুমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে গড়ে তুলতে হবে। কোনো বিপদে, ভয়ে বা সংকটে পড়লে সরাসরি আল্লাহর নিকটই পানাহ চাইতে হবে। তিনি ছাড়া কেউ ক্ষতি করতে পারে না, আবার উপকারও করতে পারে না। জিন, পীর, দরবেশ, কবর বা যেকোনো সৃষ্টিকে ভয় করা বা তাদের নিকট আশ্রয় চাওয়া আমাদের ঈমানকে দুর্বল করে। আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখুন, তাঁর নিকটই কান্নাকাটি করুন। তিনিই একমাত্র রক্ষাকর্তা, তিনিই একমাত্র আশ্রয়স্থল। কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন গড়ুন, তবেই দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা অর্জিত হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শিরক ও কুসংস্কার থেকে হিফাজত করুন। আমিন।



📜 আয়াত 4-8 — সূরা আল-জ্বিন

4وَأَنَّهُ كَانَ يَقُولُ سَفِيهُنَا عَلَى اللَّهِ شَطَطًا
আমাদের মধ্যে নির্বোধেরা আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে বাড়াবাড়ির কথাবার্তা বলত।
5وَأَنَّا ظَنَنَّا أَن لَّن تَقُولَ الْإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا
অথচ আমরা মনে করতাম, মানুষ ও জিন কখনও আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না।
6وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
অনেক মানুষ অনেক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্নম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত।
7وَأَنَّهُمْ ظَنُّوا كَمَا ظَنَنتُمْ أَن لَّن يَبْعَثَ اللَّهُ أَحَدًا
তারা ধারণা করত, যেমন তোমরা মানবেরা ধারণা কর যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ তা’আলা কখনও কাউকে পুনরুত্থিত করবেন না।
8وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا
আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ।
আল-জ্বিনকুরআন সূচী
28আয়াত
মাক্কীRevelation
6আয়াত

অনুবাদ — আল-জ্বিন 6

সূরা আল-জ্বিন আয়াত 6 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অনেক মানুষ অনেক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্নম্ভরিতা…

সূরা আয়াত 6/28 — সূরা আল-জ্বিন الجن (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-জ্বিন শুনুন, সূরা আল-জ্বিন অনুবাদ, সূরা আল-জ্বিন mp3, সূরা আল-জ্বিন pdf. আয়াত 4–8. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না