আত-তওবা · 113/129
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আত-তওবা
مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ۝١١٣
Maa kaana lin nabiyyi wallazeena aamanooo ai yastaghfiroo lilmushrikeena wa law kaanoo ulee qurbaa mim ba`di maa tabiyana lahum annahum Ashaabul jaheem
📖 বাংলা অর্থ
নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও তারা আত্নীয় হোক একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা দোযখী।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يَسْتَغْفِرُوا – ক্ষমা প্রার্থনা করা।
  • لِلْمُشْرِكِينَ – যারা আল্লাহর সাথে শরিক করে।
  • أُوْلِي قُرْبَى – নিকটাত্মীয়।
  • تَبَيَّنَ – স্পষ্ট হয়ে গেছে / প্রমাণিত হয়েছে।
  • أَصْحَابُ الْجَحِيمِ – জাহান্নামের অধিবাসী।

তাফসির:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুমিনদের জন্য শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, এমনকি যদি তারা তাদের নিকটাত্মীয়ও হয়। কারণ যখনই তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এই মুশরিকরা শিরকের উপর মৃত্যুবরণ করেছে এবং জাহান্নামের অধিবাসী, তখন তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা সম্পূর্ণ অনুচিত। কেননা আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, তিনি শিরকের অপরাধ ক্ষমা করবেন না। যে ব্যক্তি শিরক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। তাই মুশরিকদের জন্য দোয়া করা ও ক্ষমা চাওয়া আল্লাহর স্পষ্ট বিধানের পরিপন্থী। এই আয়াতটি মুশরিক আত্মীয়-স্বজনদের জন্য দোয়া করার ব্যাপারে মুমিনদের জন্য একটি স্পষ্ট নির্দেশনা ও সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ইসলামে আকীদা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কের চেয়েও শক্তিশালী। তাই আত্মীয় হলেও শিরকের উপর মৃত্যুবরণকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা অনুচিত।
  2. আল্লাহর বিধান স্পষ্ট হওয়ার পর তা মেনে চলা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য, এমনকি তা নিজের প্রিয়জনদের বিপক্ষে গেলেও।
  3. এই আয়াত মুমিনদের শেখায় যে, দুনিয়ার কোনো সম্পর্কই আল্লাহর সাথে সম্পর্কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।
  4. ইসলাম ধর্মে হিদায়াত ও সত্যের ব্যাপারে কোনো আপস নেই; সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তাকে মেনে নিতেই হবে।
  5. মুমিনদের উচিত জীবিত অবস্থায় আত্মীয়-স্বজনদের হিদায়াতের জন্য দোয়া করা, যাতে তারা ইসলাম গ্রহণ করে এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়।


📜 আয়াত 111-115 — সূরা আত-তওবা

111۞ إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ ۖ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ ۚ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ ۚ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।
112التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ ۗ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ
তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে।
113مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও তারা আত্নীয় হোক একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা দোযখী।
114وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ ۚ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهٌ حَلِيمٌ
আর ইব্রাহীম কর্তৃক স্বীয় পিতার মাগফেরাত কামনা ছিল কেবল সেই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা তিনি তার সাথে করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে একথা প্রকাশ পেল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিলেন। নিঃসন্দেহে ইব্রাহীম ছিলেন বড় কোমল হৃদয়, সহনশীল।
115وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّىٰ يُبَيِّنَ لَهُم مَّا يَتَّقُونَ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আর আল্লাহ কোন জাতিকে হেদায়েত করার পর পথভ্রষ্ট করেন না যতক্ষণ না তাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বলে দেন সেসব বিষয় যা থেকে তাদের বেঁচে থাকা দরকার। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব বিষয়ে ওয়াকেফহাল।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
113আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 113

সূরা আত-তওবা আয়াত 113 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও…

সূরা আয়াত 113/129 — সূরা আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আত-তওবা শুনুন, সূরা আত-তওবা অনুবাদ, সূরা আত-তওবা mp3, সূরা আত-তওবা pdf. আয়াত 111–115. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না