Wa maa kaanas tighfaaru ibraaheema li abeehi illaa `ammaw `idatinw wa `adahaaa iyyaahu falammaa tabaiyana lahooo annahoo `aduwwul lillaahi tabarra a minh; inna Ibraaheema la awwaahum haleem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর ইব্রাহীম কর্তৃক স্বীয় পিতার মাগফেরাত কামনা ছিল কেবল সেই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা তিনি তার সাথে করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে একথা প্রকাশ পেল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিলেন। নিঃসন্দেহে ইব্রাহীম ছিলেন বড় কোমল হৃদয়, সহনশীল।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और इबराहीम का अपने बाप के लिए मग़फिरत की दुआ माँगना सिर्फ इस वायदे की वजह से था जो उन्होंने अपने बाप से कर लिया था फिर जब उनको मालूम हो गया कि वह यक़ीनी ख़ुदा का दुश्मन है तो उससे बेज़ार हो गए, बेशक इबराहीम यक़ीनन बड़े दर्दमन्द बुर्दबार (सहन करने वाले) थे
আর ইব্রাহীম কর্তৃক স্বীয় পিতার মাগফেরাত কামনা ছিল কেবল সেই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা তিনি তার সাথে করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে একথা প্রকাশ পেল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিলেন। নিঃসন্দেহে ইব্রাহীম ছিলেন বড় কোমল হৃদয়, সহনশীল।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
استغفار — ক্ষমা প্রার্থনা করা।
موعدة — প্রতিশ্রুতি।
تبيّن — স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়া।
تبرّأ — সম্পর্কচ্ছেদ করা, দায়মুক্ত হওয়া।
أوّاه — অধিক বিনয়ী, কান্নাকারী, আল্লাহর কাছে অধিক কাতর প্রার্থনাকারী।
حليم — সহনশীল, ধৈর্যশীল, ক্ষমাশীল।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পিতা আযারের জন্য যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, তা কোনো সাধারণ বিষয় ছিল না। এটি ছিল কেবল একটি প্রতিশ্রুতির কারণে — ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পিতাকে বলেছিলেন, *“আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব।”* (সূরা মারইয়াম: ৪৭) — এই প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্যই তিনি তাঁর পিতার জন্য দু‘আ করেছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন যে, হয়তো এতে তাঁর পিতা হিদায়াত পাবে এবং ঈমান আনবে।
কিন্তু যখন ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তাঁর পিতা আল্লাহর শত্রু — অর্থাৎ সে কুফরীর উপরই মৃত্যুবরণ করবে এবং উপদেশ-নসীহত তার কোনো কাজে আসছে না — তখন তিনি তাঁর পিতার থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করলেন এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা বন্ধ করে দিলেন। এটি ছিল আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেকই, কারণ আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা নিষেধ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা এখানে ইবরাহীম (আঃ)-এর দুটি মহৎ গুণের কথা উল্লেখ করেছেন — তিনি ছিলেন ‘আওওয়াহ’ (অধিক বিনয়ী ও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে প্রার্থনাকারী) এবং ‘হালীম’ (অত্যন্ত সহনশীল ও ক্ষমাশীল)। তাঁর পিতা ও সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যত কষ্ট ও নির্যাতনই হোক না কেন, তিনি সব সহ্য করেছেন এবং তাদের জন্য কল্যাণ কামনা করেছেন।
শিক্ষা ও ফায়দা:
প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা — ইবরাহীম (আঃ) নিজের পিতাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য দু‘আ করেছিলেন। আমাদেরও উচিত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, যদিও তা কাফের-মুশরিকের সাথেই হোক না কেন।
সত্য স্পষ্ট হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া — যখন কোনো বিষয়ে সত্য স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন আবেগের বশবর্তী না হয়ে সত্যের উপরই অটল থাকতে হবে। ইবরাহীম (আঃ) পিতার প্রতি ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর নির্দেশের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন।
দু‘আ ও তাওয়াক্কুল — ইবরাহীম (আঃ)-এর মতো আমাদেরও উচিত আল্লাহর কাছে অধিক বিনয়ী হয়ে দু‘আ করা এবং সব বিষয়ে তাঁর উপর ভরসা রাখা।
সহনশীলতা ও ক্ষমা — মানুষের সাথে আচরণে সহনশীল ও ক্ষমাশীল হওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য। ইবরাহীম (আঃ) ছিলেন এর সর্বোচ্চ উদাহরণ।
আখিরাতের চিন্তা — এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, কুফরী ও শিরকের উপর মৃত্যুবরণকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা জায়েয নয়। আমাদের উচিত জীবদ্দশায়ই আত্মীয়-স্বজনকে ঈমানের দাওয়াত দেওয়া, যাতে তারা মুক্তি পায়।
তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে।
আর ইব্রাহীম কর্তৃক স্বীয় পিতার মাগফেরাত কামনা ছিল কেবল সেই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা তিনি তার সাথে করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে একথা প্রকাশ পেল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিলেন। নিঃসন্দেহে ইব্রাহীম ছিলেন বড় কোমল হৃদয়, সহনশীল।
আর আল্লাহ কোন জাতিকে হেদায়েত করার পর পথভ্রষ্ট করেন না যতক্ষণ না তাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বলে দেন সেসব বিষয় যা থেকে তাদের বেঁচে থাকা দরকার। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব বিষয়ে ওয়াকেফহাল।
নিশ্চয় আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সাম্রাজ্য। তিনিই জিন্দা করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন সহায়ও নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।