আত-তওবা · 117/129
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তওবা
لَّقَد تَّابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِن بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ۝١١٧
Laqat taabal laahu `alan nabiyyi wal Muhaajireena wal Ansaaril lazeenat taba`oohu fee saa`atil `usrati mim ba`di maa kaada yazeeghu quloobu fareeqim minhum summma taaba `alaihim; innahoo bihim Ra`oofur Raheem
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ দয়াশীল নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা কঠিন মহূর্তে নবীর সঙ্গে ছিল, যখন তাদের এক দলের অন্তর ফিরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি দয়াপরবশ হন তাদের প্রতি। নিঃসন্দেহে তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল ও করুনাময়।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

لَقَد تَّابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِن بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

শব্দার্থ:

  • تَابَ عَلَى: তাওবা কবুল করা, অনুগ্রহ ও ক্ষমা করা।
  • سَاعَةِ الْعُسْرَةِ: সঙ্কটের সময়, কঠিন মুহূর্ত (এখানে তাবুক যুদ্ধের কঠিন সময়কে বোঝানো হয়েছে)।
  • يَزِيغُ: ঝুঁকে পড়া, বিচ্যুত হওয়া, দোদুল্যমান হওয়া।
  • فَرِيقٍ: একটি দল, কিছু সংখ্যক লোক।
  • رَءُوفٌ رَّحِيمٌ: অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁর তাওবা কবুল করেছেন। নবী (সা.) মুনাফিকদের তাবুক যুদ্ধে না যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, যা তিনি পরবর্তীতে অনুশোচনার সাথে স্মরণ করেছেন; আল্লাহ তা ক্ষমা করে দিয়েছেন। একইভাবে আল্লাহ তাআলা মুহাজিরদের তাওবাও কবুল করেছেন—যারা নিজেদের ঘর-বাড়ি ও আত্মীয়-স্বজন ত্যাগ করে ইসলামের খাতিরে হিজরত করেছিলেন। আরও কবুল করেছেন আনসারদের তাওবা—যারা নবী (সা.)-এর সাথে তাবুক যুদ্ধে বেরিয়েছিলেন অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে; চরম গরম, খাদ্য ও বাহনের তীব্র সংকট এবং শত্রুর আধিক্য সত্ত্বেও তারা তাঁর সাথে ছিলেন। এই কঠিন মুহূর্তে তাদের মধ্যকার একটি দলের অন্তর প্রায় সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল—তারা ভেবেছিল যুদ্ধে না গিয়ে ঘরে থাকা ভালো হবে; কিন্তু আল্লাহ তাদের অন্তরকে দৃঢ় রাখলেন এবং তাদেরকে তাওবার তাওফীক দিলেন। এরপর আল্লাহ তাদের প্রতি পুনরায় তাওবা কবুল করলেন—অর্থাৎ তাদের তাওবাকে আরও দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করলেন এবং তাদেরকে তাতে অটল রাখলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু। তাঁর রহমতের কারণেই তিনি তাদের তাওবার তাওফীক দিয়েছেন, তা কবুল করেছেন এবং তাদেরকে তাতে প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন।

উপকারিতা (ফায়েদা):

  1. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু; তিনি তাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন এবং তাওবার দরজা সবসময় খোলা রাখেন।
  2. কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া এবং নবী (সা.)-এর অনুসরণ করা অত্যন্ত সম্মানের বিষয়; আল্লাহ এমন বান্দাদের ভালোবাসেন এবং তাদের তাওবা কবুল করেন।
  3. মানুষের অন্তর দোদুল্যমান হতে পারে, কিন্তু আল্লাহ চাইলে তাকে দৃঢ় রাখেন; তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে অন্তর দৃঢ় রাখার জন্য প্রার্থনা করা।
  4. তাওবার পর আল্লাহর রহমতের আশা করা উচিত; নিরাশ হওয়া উচিত নয়, কারণ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
  5. এই আয়াত মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বড় সান্ত্বনা—তারা যত বড় ভুলই করুক না কেন, আন্তরিক তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ করা সম্ভব।


📜 আয়াত 115-119 — আত-তওবা

115وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّىٰ يُبَيِّنَ لَهُم مَّا يَتَّقُونَ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আর আল্লাহ কোন জাতিকে হেদায়েত করার পর পথভ্রষ্ট করেন না যতক্ষণ না তাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বলে দেন সেসব বিষয় যা থেকে তাদের বেঁচে থাকা দরকার। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব বিষয়ে ওয়াকেফহাল।
116إِنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۚ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ
নিশ্চয় আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সাম্রাজ্য। তিনিই জিন্দা করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন সহায়ও নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই।
117لَّقَد تَّابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِن بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
আল্লাহ দয়াশীল নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা কঠিন মহূর্তে নবীর সঙ্গে ছিল, যখন তাদের এক দলের অন্তর ফিরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি দয়াপরবশ হন তাদের প্রতি। নিঃসন্দেহে তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল ও করুনাময়।
118وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّىٰ إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَن لَّا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
এবং অপর তিনজনকে যাদেরকে পেছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্বেও তাদের জন্য সঙ্কুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠলো; আর তারা বুঝতে পারলো যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন আশ্রয়স্থল নেই-অতঃপর তিনি সদয় হলেন তাদের প্রতি যাতে তারা ফিরে আসে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দয়াময় করুণাশীল।
119يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
117আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 117

সূরা আত-তওবা আয়াত 117 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ দয়াশীল নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা…

সূরা আয়াত 117/129 — আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তওবা শুনুন, আত-তওবা অনুবাদ, আত-তওবা mp3, আত-তওবা pdf. আয়াত 115–119. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না