আত-তওবা · 116/129
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আত-তওবা
إِنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۚ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ ۝١١٦
Innal laaha lahoo mulkus samaawaati wal ardi yuhyee wa yumeet; wa maa lakum min doonil laahi minw waliyyinw wa laa naseer
📖 বাংলা অর্থ
নিশ্চয় আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সাম্রাজ্য। তিনিই জিন্দা করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন সহায়ও নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ — আসমান ও জমিনের সার্বভৌম মালিকানা ও শাসন।
  • يُحْيِي وَيُمِيتُ — তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন।
  • وَلِيٍّ — অভিভাবক, যে তোমাদের বিষয়াদি দেখাশোনা করে।
  • نَصِيرٍ — সাহায্যকারী, যে বিপদ থেকে রক্ষা করে ও শত্রুর মোকাবিলায় সহায়তা করে।

তাফসীর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলার জন্যই সমগ্র আসমান ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া এ সৃষ্টিজগতে আর কারও কোনো কর্তৃত্ব নেই। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই করেন — যাকে ইচ্ছা জীবন দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা মৃত্যু দেন। তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা থেকে আসমান-জমিনের কোনো কিছুই গোপন নয়। হে মানুষ! আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া তোমাদের জন্য এমন কোনো অভিভাবক নেই যে তোমাদের বিষয়াদি পরিচালনা করবে, আর এমন কোনো সাহায্যকারীও নেই যে তোমাদের বিপদ থেকে রক্ষা করবে বা শত্রুর বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবে। সুতরাং যখন তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক বা সাহায্যকারী নেই, তখন তোমাদের উচিত সম্পূর্ণরূপে তাঁরই ওপর নির্ভর করা, তাঁরই আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ তা‘আলাই একমাত্র সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী — আসমান ও জমিনের সবকিছু তাঁর হাতেই। এ উপলব্ধি মানুষের অন্তরকে আল্লাহমুখী করে এবং সবকিছুতে তাঁর ওপর ভরসা জাগায়।
  2. জীবন-মৃত্যু সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। এ বিশ্বাস মানুষকে মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী জীবন গড়তে উদ্বুদ্ধ করে।
  3. আল্লাহ ছাড়া কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী নেই — এ সত্য মানুষকে সব বিপদে-আপদে আল্লাহর দিকেই ফিরিয়ে আনে এবং তাকে আত্মনির্ভরশীল ও ধৈর্যশীল করে তোলে।
  4. যখন সব ক্ষমতা আল্লাহর, তখন মানুষের উচিত তাঁর আদেশ মেনে চলা এবং তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট থাকা — এটাই সফলতার চাবিকাঠি।


📜 আয়াত 114-118 — সূরা আত-তওবা

114وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ ۚ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهٌ حَلِيمٌ
আর ইব্রাহীম কর্তৃক স্বীয় পিতার মাগফেরাত কামনা ছিল কেবল সেই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা তিনি তার সাথে করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে একথা প্রকাশ পেল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিলেন। নিঃসন্দেহে ইব্রাহীম ছিলেন বড় কোমল হৃদয়, সহনশীল।
115وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّىٰ يُبَيِّنَ لَهُم مَّا يَتَّقُونَ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আর আল্লাহ কোন জাতিকে হেদায়েত করার পর পথভ্রষ্ট করেন না যতক্ষণ না তাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বলে দেন সেসব বিষয় যা থেকে তাদের বেঁচে থাকা দরকার। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব বিষয়ে ওয়াকেফহাল।
116إِنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۚ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ
নিশ্চয় আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সাম্রাজ্য। তিনিই জিন্দা করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন সহায়ও নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই।
117لَّقَد تَّابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِن بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
আল্লাহ দয়াশীল নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা কঠিন মহূর্তে নবীর সঙ্গে ছিল, যখন তাদের এক দলের অন্তর ফিরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি দয়াপরবশ হন তাদের প্রতি। নিঃসন্দেহে তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল ও করুনাময়।
118وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّىٰ إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَن لَّا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
এবং অপর তিনজনকে যাদেরকে পেছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্বেও তাদের জন্য সঙ্কুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠলো; আর তারা বুঝতে পারলো যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন আশ্রয়স্থল নেই-অতঃপর তিনি সদয় হলেন তাদের প্রতি যাতে তারা ফিরে আসে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দয়াময় করুণাশীল।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
116আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 116

সূরা আত-তওবা আয়াত 116 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নিশ্চয় আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সাম্রাজ্য। তিনিই জিন্দা করেন…

সূরা আয়াত 116/129 — সূরা আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আত-তওবা শুনুন, সূরা আত-তওবা অনুবাদ, সূরা আত-তওবা mp3, সূরা আত-তওবা pdf. আয়াত 114–118. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না