ইউনুস · 17/109
অনুবাদ উচ্চারণ — ইউনুস
فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ ۚ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْمُجْرِمُونَ ۝١٧
Faman azlamu mimmanif taraa `alal laahi kaziban aw kazzaba bi Aayaatih; innahoo laa yuflihul mujrimoon
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর তার চেয়ে বড় জালেম, কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করেছে কিংবা তাঁর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে অভিহিত করছে? কস্মিনকালেও পাপীদের কোন কল্যাণ হয় না।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا – আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করা, অর্থাৎ আল্লাহর নামে মনগড়া কথা বলা, তাঁর সাথে কাউকে শরিক সাব্যস্ত করা বা তাঁর সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রচার করা।
  • كَذَّبَ بِآيَاتِهِ – আল্লাহর আয়াতসমূহকে (কুরআন, নবী-রাসূলগণের মু'জিযা ও প্রমাণাদি) মিথ্যা বলা বা অস্বীকার করা।
  • لَا يُفْلِحُ الْمُجْرِمُونَ – অপরাধী/অপরাধকারীরা কখনো সফলকাম হয় না, তাদের উদ্দেশ্য ও আশা পূর্ণ হয় না।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেছেন যে, এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তার চেয়ে বেশি জালিম বা অত্যাচারী, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে—যেমন তাঁর কোনো শরিক বা সন্তান আছে বলে দাবি করে, অথবা তাঁর আয়াতসমূহকে (যেমন কুরআন ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সত্যতা) মিথ্যা বলে অস্বীকার করে। এটি সর্বপ্রকার জুলুমের চূড়ান্ত পর্যায়, কারণ এতে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয় এবং তাঁর স্পষ্ট নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। যারা এমন করে তারা নিজেদের উপরই অত্যাচার করে, কারণ তারা সত্যকে গ্রহণ না করে নিজেদের ধ্বংসের পথ বেছে নেয়। আল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই অপরাধীরা (মুশরিক ও মিথ্যাবাদীরা) কখনো সফলতা লাভ করবে না—দুনিয়াতেও নয়, আখিরাতেও নয়। তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং তারা চিরন্তন শাস্তির সম্মুখীন হবে। এই আয়াতটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সান্ত্বনা ও সমর্থন, কারণ কাফিররা তাঁকে মিথ্যা বলার অভিযোগ করত; আল্লাহ বলছেন, প্রকৃত জালিম তারাই, যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা বলে বা তাঁর আয়াত অস্বীকার করে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলা বা তাঁর আয়াত অস্বীকার করা সবচেয়ে বড় অন্যায়—প্রত্যেক মুসলিমের উচিত এই পাপ থেকে দূরে থাকা এবং সত্যকে সর্বদা গ্রহণ করা।
  2. সফলতা (ফালাহ) শুধুমাত্র সত্য ও ঈমানের পথে, আর যে পথে আল্লাহর সাথে মিথ্যা সম্পর্ক বা তাঁর নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান জড়িত, সেই পথ কখনোই কল্যাণের দিকে নিয়ে যায় না।
  3. এই আয়াত আমাদেরকে কুরআন ও রাসূল ﷺ-এর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে শেখায়, কারণ এটিই সত্যের মাপকাঠি এবং এর মাধ্যমেই দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য লাভ করা যায়।
  4. অপরাধ ও জুলুমের পথ পরিত্যাগ করে তাওবাহ করা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য, যাতে সে আল্লাহর রহমত ও সাফল্য পেতে পারে।


📜 আয়াত 15-19 — ইউনুস

15وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ ۙ قَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا ائْتِ بِقُرْآنٍ غَيْرِ هَٰذَا أَوْ بَدِّلْهُ ۚ قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِن تِلْقَاءِ نَفْسِي ۖ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰ إِلَيَّ ۖ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
আর যখন তাদের কাছে আমার প্রকৃষ্ট আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে সমস্ত লোক বলে, যাদের আশা নেই আমার সাক্ষাতের, নিয়ে এসো কোন কোরআন এটি ছাড়া, অথবা একে পরিবর্তিত করে দাও। তাহলে বলে দাও, একে নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তিত করা আমার কাজ নয়। আমি সে নির্দেশেরই আনুগত্য করি, যা আমার কাছে আসে। আমি যদি স্বীয় পরওয়ারদেগারের নাফরমানী করি, তবে কঠিন দিবসের আযাবের ভয় করি।
16قُل لَّوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلَا أَدْرَاكُم بِهِ ۖ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا مِّن قَبْلِهِ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
বলে দাও, যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে আমি এটি তোমাদের সামনে পড়তাম না, আর নাইবা তিনি তোমাদেরেকে অবহিত করতেন এ সম্পর্কে। কারণ আমি তোমাদের মাঝে ইতিপূর্বেও একটা বয়স অতিবাহিত করেছি। তারপরেও কি তোমরা চিন্তা করবে না?
17فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ ۚ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْمُجْرِمُونَ
অতঃপর তার চেয়ে বড় জালেম, কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করেছে কিংবা তাঁর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে অভিহিত করছে? কস্মিনকালেও পাপীদের কোন কল্যাণ হয় না।
18وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَٰؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِندَ اللَّهِ ۚ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ
আর উপাসনা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর, যা না তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে, না লাভ এবং বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। তুমি বল, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ে অবহিত করছ, যে সম্পর্কে তিনি অবহিত নন আসমান ও যমীনের মাঝে ? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত থেকে যাকে তোমরা শরীক করছ।
19وَمَا كَانَ النَّاسُ إِلَّا أُمَّةً وَاحِدَةً فَاخْتَلَفُوا ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ فِيمَا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
আর সমস্ত মানুষ একই উম্মতভুক্ত ছিল, পরে পৃথক হয়ে গেছে। আর একটি কথা যদি তোমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত না হয়ে যেত; তবে তারা যে বিষয়ে বিরোধ করছে তার মীমাংসা হয়ে যেত।
ইউনুসকুরআন সূচী
109আয়াত
মাক্কীRevelation
17আয়াত

অনুবাদ — ইউনুস 17

সূরা ইউনুস আয়াত 17 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর তার চেয়ে বড় জালেম, কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি…

সূরা আয়াত 17/109 — ইউনুস يونس (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ইউনুস শুনুন, ইউনুস অনুবাদ, ইউনুস mp3, ইউনুস pdf. আয়াত 15–19. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না