Qul law shaaa`al laahu maa talawtuhoo `alaikum wa laaa adraakum bihee faqad labistu feekum `umuram min qablih; afalaa ta`qiloon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
বলে দাও, যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে আমি এটি তোমাদের সামনে পড়তাম না, আর নাইবা তিনি তোমাদেরেকে অবহিত করতেন এ সম্পর্কে। কারণ আমি তোমাদের মাঝে ইতিপূর্বেও একটা বয়স অতিবাহিত করেছি। তারপরেও কি তোমরা চিন্তা করবে না?
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ऐ रसूल) कह दो कि ख़ुदा चाहता तो मै न तुम्हारे सामने इसको पढ़ता और न वह तुम्हें इससे आगाह करता क्योंकि मै तो (आख़िर) तुमने इससे पहले मुद्दतों रह चुका हूँ (और कभी 'वही' का नाम भी न लिया)
বলে দাও, যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে আমি এটি তোমাদের সামনে পড়তাম না, আর নাইবা তিনি তোমাদেরেকে অবহিত করতেন এ সম্পর্কে। কারণ আমি তোমাদের মাঝে ইতিপূর্বেও একটা বয়স অতিবাহিত করেছি। তারপরেও কি তোমরা চিন্তা করবে না?
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لَبِثْتُ – আমি অবস্থান করেছি, কাটিয়েছি।
عُمُرًا – একটি দীর্ঘ সময়, জীবনকাল।
أَدْرَاكُم – তোমাদেরকে জানিয়েছি, তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি তাদেরকে বলুন, “যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে আমি তোমাদের কাছে এই কুরআন তিলাওয়াত করতাম না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে এ সম্পর্কে অবহিতও করতেন না।” এর অর্থ হলো, এই কুরআন আমার নিজের রচিত বা মনগড়া কিছু নয়; বরং এটি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত। কারণ, তোমরা নিজেরাই জানো যে, এই কুরআন নাযিল হওয়ার আগে আমি তোমাদের মধ্যে দীর্ঘকাল (চল্লিশ বছর) অবস্থান করেছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমি কোনোদিন পড়িনি, লিখিনি, কোনো কবিতা রচনা করিনি, আর কোনো জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোচনাও করিনি। আমার জীবন ছিল সম্পূর্ণ সাধারণ ও নিরক্ষর মানুষের মতো। তোমরা আমার এই অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলে। অতএব, এখন যখন আমি তোমাদের কাছে এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভবিষ্যতের সংবাদ এবং আইন-বিধানের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সত্য ও নির্ভুল, তখন কি তোমরা বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করবে না যে, এটি আমার নিজের রচনা হওয়া অসম্ভব? নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী। কারণ, একজন নিরক্ষর মানুষের পক্ষে এত বড় গ্রন্থ রচনা করা এবং তাতে এমন সব বিষয়ের সঠিক সংবাদ দেওয়া, যা তার জানার পথ ছিল না, তা কখনো সম্ভব নয়। তাই এটা প্রমাণ করে যে, এই কুরআন আল্লাহরই বাণী এবং আমি তাঁরই প্রেরিত রাসূল।
শিক্ষা ও উপদেশ:
দীর্ঘ পরিচিত জীবনই একজন সত্যবাদী দাবিদারের সত্যতা প্রমাণের সবচেয়ে বড় সাক্ষী। নবী করীম (সা.)-এর ৪০ বছরের সততা ও আমানতদারিতা তাঁর নবুওয়াতের দাবিকে সত্য প্রমাণের জন্য যথেষ্ট ছিল।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সত্য প্রচারের পূর্বে নিজের চরিত্র ও আমল দ্বারা সমাজে বিশ্বস্ততা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, মানুষ তখনই আমাদের কথা গ্রহণ করে, যখন আমাদের জীবন তাদের কাছে পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য হয়।
কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত একটি অলৌকিক গ্রন্থ। এর প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি সংবাদ সত্য। এটি মানুষের রচিত কোনো গ্রন্থ নয়। তাই এর প্রতি আমাদের ঈমান আনা এবং এর নির্দেশনা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।
বিবেক-বুদ্ধি ব্যবহার করে সত্যকে উপলব্ধি করা এবং মিথ্যা থেকে দূরে থাকা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আল্লাহ আমাদেরকে এমন বিবেক দিয়েছেন, যার মাধ্যমে আমরা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে পারি। তাই আমাদের উচিত এই বিবেককে সঠিক পথে ব্যবহার করা।
আর যখন তাদের কাছে আমার প্রকৃষ্ট আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে সমস্ত লোক বলে, যাদের আশা নেই আমার সাক্ষাতের, নিয়ে এসো কোন কোরআন এটি ছাড়া, অথবা একে পরিবর্তিত করে দাও। তাহলে বলে দাও, একে নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তিত করা আমার কাজ নয়। আমি সে নির্দেশেরই আনুগত্য করি, যা আমার কাছে আসে। আমি যদি স্বীয় পরওয়ারদেগারের নাফরমানী করি, তবে কঠিন দিবসের আযাবের ভয় করি।
বলে দাও, যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে আমি এটি তোমাদের সামনে পড়তাম না, আর নাইবা তিনি তোমাদেরেকে অবহিত করতেন এ সম্পর্কে। কারণ আমি তোমাদের মাঝে ইতিপূর্বেও একটা বয়স অতিবাহিত করেছি। তারপরেও কি তোমরা চিন্তা করবে না?
অতঃপর তার চেয়ে বড় জালেম, কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করেছে কিংবা তাঁর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে অভিহিত করছে? কস্মিনকালেও পাপীদের কোন কল্যাণ হয় না।
আর উপাসনা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর, যা না তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে, না লাভ এবং বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। তুমি বল, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ে অবহিত করছ, যে সম্পর্কে তিনি অবহিত নন আসমান ও যমীনের মাঝে ? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত থেকে যাকে তোমরা শরীক করছ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।