ইউসুফ · 42/111
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ইউসুফ
وَقَالَ لِلَّذِي ظَنَّ أَنَّهُ نَاجٍ مِّنْهُمَا اذْكُرْنِي عِندَ رَبِّكَ فَأَنسَاهُ الشَّيْطَانُ ذِكْرَ رَبِّهِ فَلَبِثَ فِي السِّجْنِ بِضْعَ سِنِينَ ۝٤٢
Wa qaala lillazee zanna annahoo najim minhumaz kurnee `inda rabbika fa-ansaahush Shaitaanu zikra Rabbihee falabisa fis sijni bad`a sineen
📖 বাংলা অর্থ
যে ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা ছিল যে, সে মুক্তি পাবে, তাকে ইউসুফ বলে দিলঃ আপন প্রভুর কাছে আমার আলোচনা করবে। অতঃপর শয়তান তাকে প্রভুর কাছে আলোচনার কথা ভুলিয়ে দিল। ফলে তাঁকে কয়েক বছর কারাগারে থাকতে হল।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ظَنَّ — এখানে অর্থ ‘নিশ্চিত জানা’ বা ‘দৃঢ় বিশ্বাস করা’।
  • نَاجٍ — মুক্তি পাওয়া, রক্ষা পাওয়া।
  • اذْكُرْنِي — আমার কথা উল্লেখ করো, আমাকে স্মরণ করো।
  • رَبِّكَ — এখানে অর্থ আপনার মনিব/প্রভু (অর্থাৎ রাজা)।
  • فَأَنسَاهُ الشَّيْطَانُ ذِكْرَ رَبِّهِ — শয়তান তাকে (সাকির) তার প্রভুর কাছে (ইউসুফের) কথা স্মরণ করানো ভুলিয়ে দিল।
  • بِضْعَ سِنِينَ — কয়েক বছর; অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে সাত বছর।

তাফসীর:

হযরত ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) যখন কারাগারে দুই সহবন্দীর স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা দিলেন, তখন তিনি জানতে পারলেন যে, তাদের মধ্যে একজন (সাকি/পানপাত্র বাহক) মুক্তি পেয়ে রাজার সেবায় ফিরে যাবে। সেই সুযোগে তিনি সাকিকে বললেন: “আমার কথা তোমার মনিবের কাছে উল্লেখ করো।” অর্থাৎ, তাকে বলো যে, কারাগারে একজন নির্দোষ ও অন্যায়ভাবে বন্দী ব্যক্তি রয়েছে; তার বিষয়ে অনুগ্রহ করে তদন্ত করুন এবং তাকে মুক্তি দিন। ইউসুফ (আ.) চেয়েছিলেন, মানুষের মাধ্যমে আল্লাহর নির্ধারিত ব্যবস্থায় তার মুক্তির পথ তৈরি হোক।

কিন্তু শয়তান সাকির স্মৃতি থেকে এই কথাটি মুছে দিল—সে রাজার কাছে ইউসুফের কথা উল্লেখ করতে ভুলে গেল। ফলে ইউসুফ (আ.) কারাগারে আরও কয়েক বছর (অধিকাংশ বর্ণনা মতে সাত বছর) অবস্থান করতে বাধ্য হন। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা এবং তাঁর জ্ঞান-ধৈর্যের আরও বিকাশের সুযোগ। ইউসুফ (আ.) এতে ধৈর্য ধারণ করেন এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখেন।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর ওপর ভরসা ও ধৈর্য: বিপদে পড়লে মানুষের সাহায্য চাওয়া জায়েয, তবে চূড়ান্ত ভরসা একমাত্র আল্লাহর ওপরই রাখতে হবে। ইউসুফ (আ.) মানুষের মাধ্যমে সাহায্য চাইলেও যখন তা না হলো, তখন তিনি হতাশ হননি; বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে терпение অবলম্বন করেছেন।
  2. শয়তানের প্রতারণা থেকে সতর্কতা: শয়তান মানুষের ভালো কাজ ভুলিয়ে দিতে পারে। তাই ভালো কাজ দেরি না করে সাথে সাথে করা উচিত এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত, যেন শয়তান আমাদেরকে সৎকর্ম থেকে বিরত রাখতে না পারে।
  3. বিপদ মুমিনের জন্য পরীক্ষা: কারাগারে দীর্ঘ সময় অবস্থান ইউসুফ (আ.)-এর মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিপদ-আপদ মুমিনের জন্য রহমতের কারণ হতে পারে, যদি সে ধৈর্য ধারণ করে।
  4. নিরপরাধের পক্ষে কথা বলা: ইউসুফ (আ.) নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। ইসলাম নির্দোষ ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে শাস্তি থেকে বাঁচাতে প্রচেষ্টা করতে উৎসাহিত করে।
  5. আল্লাহর পরিকল্পনা উত্তম: মানুষের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও আল্লাহর পরিকল্পনা কখনো ব্যর্থ হয় না। ইউসুফ (আ.)-এর পরবর্তী জীবনে আমরা দেখি, আল্লাহ তাকে আরও বড় মর্যাদা দিয়েছেন। তাই মুমিনের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকা।


📜 আয়াত 40-44 — সূরা ইউসুফ

40مَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ ۚ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۚ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক কতগুলো নামের এবাদত কর, সেগুলো তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। আল্লাহ এদের কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও এবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।
41يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَمَّا أَحَدُكُمَا فَيَسْقِي رَبَّهُ خَمْرًا ۖ وَأَمَّا الْآخَرُ فَيُصْلَبُ فَتَأْكُلُ الطَّيْرُ مِن رَّأْسِهِ ۚ قُضِيَ الْأَمْرُ الَّذِي فِيهِ تَسْتَفْتِيَانِ
হে কারাগারের সঙ্গীরা! তোমাদের একজন আপন প্রভুকে মদ্যপান করাবে এবং দ্বিতীয়জন, তাকে শুলে চড়ানো হবে। অতঃপর তার মস্তক থেকে পাখী আহার করবে। তোমরা যে, বিষয়ে জানার আগ্রহী তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।
42وَقَالَ لِلَّذِي ظَنَّ أَنَّهُ نَاجٍ مِّنْهُمَا اذْكُرْنِي عِندَ رَبِّكَ فَأَنسَاهُ الشَّيْطَانُ ذِكْرَ رَبِّهِ فَلَبِثَ فِي السِّجْنِ بِضْعَ سِنِينَ
যে ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা ছিল যে, সে মুক্তি পাবে, তাকে ইউসুফ বলে দিলঃ আপন প্রভুর কাছে আমার আলোচনা করবে। অতঃপর শয়তান তাকে প্রভুর কাছে আলোচনার কথা ভুলিয়ে দিল। ফলে তাঁকে কয়েক বছর কারাগারে থাকতে হল।
43وَقَالَ الْمَلِكُ إِنِّي أَرَىٰ سَبْعَ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعَ سُنبُلَاتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ ۖ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَفْتُونِي فِي رُؤْيَايَ إِن كُنتُمْ لِلرُّؤْيَا تَعْبُرُونَ
বাদশাহ বললঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম, সাতটি মোটাতাজা গাভী-এদেরকে সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে যাচ্ছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুষ্ক। হে পরিষদবর্গ! তোমরা আমাকে আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা বল, যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী হয়ে থাক।
44قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ ۖ وَمَا نَحْنُ بِتَأْوِيلِ الْأَحْلَامِ بِعَالِمِينَ
তারা বললঃ এটা কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন। এরূপ স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমাদের জানা নেই।
ইউসুফকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
42আয়াত

অনুবাদ — ইউসুফ 42

সূরা ইউসুফ আয়াত 42 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা ছিল যে, সে মুক্তি পাবে, তাকে…

সূরা আয়াত 42/111 — সূরা ইউসুফ يوسف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ইউসুফ শুনুন, সূরা ইউসুফ অনুবাদ, সূরা ইউসুফ mp3, সূরা ইউসুফ pdf. আয়াত 40–44. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Friday, October 2, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না