আন-নাহল · 76/128
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নাহল
وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا رَّجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا أَبْكَمُ لَا يَقْدِرُ عَلَىٰ شَيْءٍ وَهُوَ كَلٌّ عَلَىٰ مَوْلَاهُ أَيْنَمَا يُوَجِّههُّ لَا يَأْتِ بِخَيْرٍ ۖ هَلْ يَسْتَوِي هُوَ وَمَن يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ ۙ وَهُوَ عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ ۝٧٦
Wa darabal laahu masalar rajulaini ahaduhumaaa abkamu laa yaqdiru `alaa shai`inw wa huwa kallun `alaa mawlaahu ainamaa yuwajjihhu laa yaati bikhairin hal yastawee huwa wa many-yaamuru bil`adli wa huwa `alaa Siraatim MMustaqeem
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ আরেকটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, দু’ব্যক্তির, একজন বোবা কোন কাজ করতে পারে না। সে মালিকের উপর বোঝা। যেদিকে তাকে পাঠায়, কোন সঠিক কাজ করে আসে না। সে কি সমান হবে ঐ ব্যক্তির, যে ন্যায় বিচারের আদেশ করে এবং সরল পথে কায়েম রয়েছে।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • أَبْكَمُ (আবকাম) – বোবা, যে কথা বলতে পারে না; এখানে এমন ব্যক্তি বোঝানো হয়েছে যে বধিরও, ফলে সে কিছুই বুঝতে পারে না এবং বুঝাতেও পারে না।
  • كَلٌّ (কাল্লুন) – ভার, বোঝা; যে ব্যক্তি নিজে কিছু করতে পারে না, অন্যের ওপর নির্ভরশীল।
  • مَوْلَاهُ (মাওলাহু) – তার অভিভাবক, যে তার দেখাশোনা করে।
  • أَيْنَمَا يُوَجِّههُ (আইনামা ইউওয়াজ্জিহহু) – তাকে যেদিকেই পাঠানো হয়।
  • صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ (সিরাতিন মুস্তাকিম) – সরল ও সঠিক পথ।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে শিরক ও তাওহীদের তুলনামূলক একটি চমৎকার উদাহরণ পেশ করেছেন। তিনি দুটি ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন—একজন হলো বোবা, বধির ও সম্পূর্ণ অক্ষম ব্যক্তি, যে নিজের কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না। সে তার অভিভাবকের জন্য একটি ভারী বোঝা। তাকে যেকোনো কাজে পাঠানো হোক না কেন, সে কোনো ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারে না; কারণ সে বোঝেও না এবং বোঝাতেও পারে না। অপরজন হলো এমন একজন সুস্থ, সক্ষম ও জ্ঞানী ব্যক্তি, যে নিজে সরল পথে চলে এবং অন্যদেরকে ন্যায়বিচার ও ইনসাফের নির্দেশ দেয়। তার কথা ও কাজ উভয়ই কল্যাণকর।

এখন প্রশ্ন হলো—এই দুজন কি কখনো সমান হতে পারে? জ্ঞানবান ও বিবেকবান কেউই কি এই দুই ব্যক্তিকে এক পর্যায়ে গণ্য করবে? অবশ্যই না।

এই উদাহরণের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুশরিকদেরকে বোঝাতে চেয়েছেন—তোমরা যেসব মূর্তি ও প্রতিমার পূজা করছ, তারা সম্পূর্ণ অক্ষম, বোবা, বধির; তারা কোনো উপকারও করতে পারে না, কোনো ক্ষতিও দূর করতে পারে না। বরং তাদেরকে পূজা করতে গিয়ে তোমরাই তাদের সেবা করছ, বহন করছ, পূজার উপকরণ সংগ্রহ করছ—তারা তোমাদের জন্য এক বিশাল বোঝা। অন্যদিকে আল্লাহ তাআলা হচ্ছেন সেই পূর্ণ ক্ষমতাবান সত্তা, যিনি সবকিছু শোনেন, দেখেন, বলেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে সঠিক পথ দেখান এবং তাদের প্রতি অসীম দয়া ও অনুগ্রহ করেন।

এখন চিন্তা করুন—যে সত্তা সম্পূর্ণ অক্ষম ও জড়, আর সেই সত্তা যিনি সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞানী—তারা কি কখনো সমান হতে পারে? এই তুলনা নিজেই প্রমাণ করে যে, শিরক সম্পূর্ণ ভুল ও অযৌক্তিক। আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর উপাসনা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

প্রিয় পাঠক! এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আমরা যেন কেবলমাত্র আল্লাহর ওপরই ভরসা করি এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাই। তিনি ছাড়া আর কেউ আমাদের কোনো উপকার করতে পারে না। আল্লাহ আমাদেরকে সরল পথে চলার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



📜 আয়াত 74-78 — সূরা আন-নাহল

74فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
অতএব, আল্লাহর কোন সদৃশ সাব্যস্ত করো না, নিশ্চয় আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।
75۞ ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا عَبْدًا مَّمْلُوكًا لَّا يَقْدِرُ عَلَىٰ شَيْءٍ وَمَن رَّزَقْنَاهُ مِنَّا رِزْقًا حَسَنًا فَهُوَ يُنفِقُ مِنْهُ سِرًّا وَجَهْرًا ۖ هَلْ يَسْتَوُونَ ۚ الْحَمْدُ لِلَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, অপরের মালিকানাধীন গোলামের যে, কোন কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন একজন যাকে আমি নিজের পক্ষ থেকে চমৎকার রুযী দিয়েছি। অতএব, সে তা থেকে ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে উভয়ে কি সমান হয়? সব প্রশংসা আল্লাহর, কিন্তু অনেক মানুষ জানে না।
76وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا رَّجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا أَبْكَمُ لَا يَقْدِرُ عَلَىٰ شَيْءٍ وَهُوَ كَلٌّ عَلَىٰ مَوْلَاهُ أَيْنَمَا يُوَجِّههُّ لَا يَأْتِ بِخَيْرٍ ۖ هَلْ يَسْتَوِي هُوَ وَمَن يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ ۙ وَهُوَ عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
আল্লাহ আরেকটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, দু’ব্যক্তির, একজন বোবা কোন কাজ করতে পারে না। সে মালিকের উপর বোঝা। যেদিকে তাকে পাঠায়, কোন সঠিক কাজ করে আসে না। সে কি সমান হবে ঐ ব্যক্তির, যে ন্যায় বিচারের আদেশ করে এবং সরল পথে কায়েম রয়েছে।
77وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ وَمَا أَمْرُ السَّاعَةِ إِلَّا كَلَمْحِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো এমন, যেমন চোখের পলক অথবা তার চাইতেও নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান।
78وَاللَّهُ أَخْرَجَكُم مِّن بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ ۙ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর।
আন-নাহলকুরআন সূচী
128আয়াত
মাক্কীRevelation
76আয়াত

অনুবাদ — আন-নাহল 76

সূরা আন-নাহল আয়াত 76 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ আরেকটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, দু’ব্যক্তির, একজন বোবা কোন কাজ…

সূরা আয়াত 76/128 — সূরা আন-নাহল النحل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নাহল শুনুন, সূরা আন-নাহল অনুবাদ, সূরা আন-নাহল mp3, সূরা আন-নাহল pdf. আয়াত 74–78. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না