যখন আমি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি—সুস্থতা, সম্পদ, স্বাচ্ছন্দ্য বা অন্য কোনো নেয়ামত দান করি—সে আমার শুকরিয়া আদায় করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহংকারবশত নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়। যেন সে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আমার কোনো প্রয়োজন নেই। অথচ যখন তাকে দুঃখ-কষ্ট, দারিদ্র্য বা রোগ-ব্যাধি স্পর্শ করে, তখন সে চরম হতাশ ও নিরাশ হয়ে পড়ে এবং আমার রহমত থেকে সম্পূর্ণভাবে নিরাশ হয়ে যায়। কারণ সে জানে না যে, সুখ-দুঃখ উভয় অবস্থাই আমার পক্ষ থেকে পরীক্ষা। তবে যাদেরকে আমি হেফাজত করি, তারা সুখে শুকরিয়া আদায় করে এবং দুঃখে ধৈর্য ধারণ করে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মানুষের স্বভাব হলো নেয়ামত পেলে অহংকারী হয়ে ওঠা এবং কষ্ট পেলে হতাশ হয়ে পড়া। মুমিনের উচিত এই দুর্বলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা।
সুখ-সমৃদ্ধি আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা—তাতে অহংকার না করে শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
দুঃখ-কষ্টও আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা—তাতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর রহমতের আশা রাখা উচিত।
প্রকৃত মুমিন সর্বাবস্থায় আল্লাহমুখী থাকে—সুখে কৃতজ্ঞ, দুঃখে সবরকারী। এই ভারসাম্যই ঈমানের পরিচয়।
হতাশা ও নিরাশা ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য নয়; আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া কুফরি ও গুনাহের কাজ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।