Rabbanaa wab`as feehim Rasoolam minhum yatloo `alaihim aayaatika wa yu`allimuhumul Kitaaba wal Hikmata wa yuzakkeehim; innaka Antal `Azeezul Hakeem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(और) ऐ हमारे पालने वाले मक्के वालों में उन्हीं में से एक रसूल को भेज जो उनको तेरी आयतें पढ़कर सुनाए और आसमानी किताब और अक्ल की बातें सिखाए और उन (के नुफ़ूस) के पाकीज़ा कर दें बेशक तू ही ग़ालिब और साहिबे तदबीर है
হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
وَابْعَثْ – প্রেরণ করুন, পাঠান।
رَسُولًا مِّنْهُمْ – তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল।
يَتْلُو – পাঠ করবেন, তিলাওয়াত করবেন।
آيَاتِكَ – আপনার আয়াতসমূহ (প্রকাশিত বাণী)।
الْكِتَابَ – কিতাব (কুরআন)।
الْحِكْمَةَ – প্রজ্ঞা, সুন্নাহ বা শরীয়তের গভীর জ্ঞান।
يُزَكِّيهِمْ – তাদেরকে পবিত্র করবেন (শিরক ও মন্দ চরিত্র থেকে পরিশুদ্ধ করবেন)।
الْعَزِيزُ – পরাক্রমশালী, যাঁকে পরাজিত করা অসম্ভব।
الْحَكِيمُ – প্রজ্ঞাময়, যিনি প্রতিটি কাজ যথাযথ স্থানে ও নিয়মে করেন।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ) যখন কাবা ঘরের ভিত্তি নির্মাণ করছিলেন, তখন তারা এই দোয়া করেছিলেন। তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন: “হে আমাদের রব! এই উম্মতের মধ্যে (আরব উপদ্বীপে, বিশেষত বনী ইসমাঈলের বংশধরদের মধ্যে) তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করুন। তিনি তাদের কাছে আপনার অবতীর্ণ আয়াতসমূহ পাঠ করবেন, তাদেরকে কিতাব (কুরআন) ও প্রজ্ঞা (সুন্নাহ) শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন—শিরক, মূর্তিপূজা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে পরিশুদ্ধ করবেন।”
এই দোয়ার মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সাঃ)-কে শেষ নবী হিসেবে প্রেরণের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন। তিনি (সাঃ) কুরআন তিলাওয়াত করেছেন, মানুষের মাঝে জ্ঞান-বিজ্ঞান, নৈতিকতা ও ঈমানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাদের অন্তরকে পবিত্র করেছেন। এই আয়াতে আল্লাহর দুটি গুণের উল্লেখ করা হয়েছে—আল-আযীয (পরাক্রমশালী), যিনি সবকিছুর উপর বিজয়ী এবং আল-হাকীম (প্রজ্ঞাময়), যিনি সব কাজ হিকমতের সাথে করেন। রাসূল প্রেরণ তাঁরই পরাক্রম ও প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
নবী-রাসূল প্রেরণ আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য বিরাট রহমত। এটি আল্লাহর পরাক্রম ও প্রজ্ঞার নিদর্শন।
রাসূল (সাঃ)-এর প্রধান কাজ চারটি: কুরআন তিলাওয়াত, কিতাব শিক্ষা, প্রজ্ঞা (সুন্নাহ) শিক্ষা এবং মানুষের চরিত্র পবিত্র করা। আমাদের উচিত এই চারটি বিষয়কে জীবনে বাস্তবায়ন করা।
দোয়ার মাধ্যমে মহৎ উদ্দেশ্য সাধিত হয়। ইবরাহীম (আঃ)-এর দোয়া আজও আমাদের জন্য শিক্ষা যে, আমরা যেন উম্মতের কল্যাণ ও হিদায়াতের জন্য দোয়া করি।
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা—যা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনে, মন্দ চরিত্র থেকে পবিত্র করে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য দেয়।
আল্লাহর গুণাবলী (আযীয ও হাকীম) স্মরণ করলে আমাদের অন্তরে আস্থা জন্মে যে, আল্লাহর প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা নিখুঁত ও কল্যাণকর।
পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজ্বের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী। দয়ালু।
হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।
ইব্রাহীমের ধর্ম থেকে কে মুখ ফেরায়? কিন্তু সে ব্যক্তি, যে নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করে। নিশ্চয়ই আমি তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং সে পরকালে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।