হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ लोगों अपने परवरदिगार की इबादत करो जिसने तुमको और उन लोगों को जो तुम से पहले थे पैदा किया है अजब नहीं तुम परहेज़गार बन जाओ
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দের অর্থ:
اعْبُدُوا – ইবাদত করো, একমাত্র আল্লাহর আনুগত্য ও দাসত্ব করো।
خَلَقَكُمْ – তোমাদের সৃষ্টি করেছেন (অস্তিত্বহীনতা থেকে বের করে এনেছেন)।
لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ – যাতে তোমরা মুত্তাকী (পরহেজগার) হও, অর্থাৎ আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলো।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা সমগ্র মানবজাতিকে সম্বোধন করে বলছেন: হে মানুষ! তোমরা সবাই তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করো। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোকেও সৃষ্টি করেছেন। তিনি তোমাদের লালন-পালন করেন, অস্তিত্ব দান করেছেন এবং অগণিত নিয়ামত দিয়ে ধন্য করেছেন। সুতরাং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা উচিত, তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা উচিত নয়।
এই আহ্বান সর্বজনীন—শুধু মক্কার অধিবাসীদের জন্য নয়, বরং কিয়ামত পর্যন্ত আগত প্রতিটি মানুষের জন্য। যারা জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন এবং বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক), তাদের সবার জন্য এই নির্দেশ প্রযোজ্য। ছোট শিশু ও পাগলরা এর আওতাভুক্ত নয়।
আল্লাহ এখানে তাঁর সৃষ্টিকর্তার গুণ উল্লেখ করেছেন—তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আগের লোকদেরও সৃষ্টি করেছেন। এতে করে মানুষ যেন চিন্তা করে যে, যে সৃষ্টি করেছে, তার ইবাদত করাই কি উচিত নয়? সৃষ্টিকর্তাকে বাদ দিয়ে সৃষ্ট বস্তুর পূজা করা কত বড় অন্যায়!
আর এই ইবাদতের উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন—অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে নিজেকে তাঁর শাস্তি থেকে রক্ষা করা। ইবাদতই মানুষকে তাকওয়ার পথে পরিচালিত করে, আর তাকওয়াই মানুষের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্যের চাবিকাঠি।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু—তিনি শাস্তি দেওয়ার আগে সতর্ক করেন এবং সঠিক পথ দেখান।
আল্লাহর সৃষ্টিকর্তা হওয়ার গুণটি চিন্তা করলে অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জন্মে, যা ইবাদতে আন্তরিকতা আনে।
তাকওয়াই মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত—যার মাধ্যমে দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তি উভয়ই অর্জিত হয়।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলাম কেবল একটি গোত্র বা জাতির জন্য নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।
ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ নিজের প্রকৃত পরিচয় খুঁজে পায় এবং আত্মাকে পবিত্র করে, যা তাকে সত্যিকারের সুখ ও প্রশান্তি দান করে।
আর তাদের উদাহরণ সেসব লোকের মত যারা দুর্যোগপূর্ণ ঝড়ো রাতে পথ চলে, যাতে থাকে আঁধার, গর্জন ও বিদ্যুৎচমক। মৃত্যুর ভয়ে গর্জনের সময় কানে আঙ্গুল দিয়ে রক্ষা পেতে চায়। অথচ সমস্ত কাফেরই আল্লাহ কর্তৃক পরিবেষ্ঠিত।
বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।
যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।
এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।