আল-বাকারা · 20/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ ۖ كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُم مَّشَوْا فِيهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ۝٢٠
Yakaadul barqu yakhtafu absaarahum kullamaaa adaaa`a lahum mashaw feehi wa izaaa azlama `alaihim qaamoo; wa law shaaa`al laahu lazahaba bisam`ihim wa absaarihim; innal laaha `alaa kulli shai`in Qadeer
📖 বাংলা অর্থ
বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:

  • يَكَادُ – নিকটবর্তী হওয়া, প্রায় হয়ে যাওয়া।
  • الْبَرْقُ – বিদ্যুৎ চমক।
  • يَخْطَفُ – ছিনিয়ে নেওয়া, দ্রুত কেড়ে নেওয়া।
  • أَبْصَارَهُمْ – তাদের দৃষ্টিশক্তি (চোখের জ্যোতি)।
  • كُلَّمَا – যখনই, প্রতিবার।
  • أَضَاءَ – আলোকিত করা, আলো দেওয়া।
  • مَشَوْا – তারা হাঁটে, চলাফেরা করে।
  • أَظْلَمَ – অন্ধকার হয়ে যাওয়া।
  • قَامُوا – দাঁড়িয়ে যায়, থমকে যায় (চলতে না পেরে)।
  • لَذَهَبَ – নিয়ে যেতেন, বিলীন করে দিতেন।
  • سَمْعِهِمْ – তাদের শ্রবণশক্তি।
  • قَدِيرٌ – সর্বশক্তিমান, সবকিছুতে সক্ষম।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের অবস্থাকে একটি চমৎকার উপমার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তাদের অবস্থা এমন যেন তারা এক অন্ধকার রাতে পথ চলছে, আর আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। সেই বিদ্যুতের তীব্র আলো প্রায় তাদের চোখের দৃষ্টি কেড়ে নেওয়ার উপক্রম হয়। এত তীব্র তার ঝলকানি! অথচ যখনই বিদ্যুৎ চমকে আলো ছড়িয়ে পড়ে, তারা সেই আলোয় কিছুটা পথ এগিয়ে যায়। কিন্তু সাথে সাথে যখন আবার অন্ধকার নেমে আসে, তখন তারা হতবাক হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে যায়, আর এক কদমও এগোতে পারে না।

এটিই মুনাফিকদের প্রকৃত অবস্থা। যখন ইসলামের কোনো সুন্দর দিক, কোনো কল্যাণ বা সত্যের আভাস তাদের সামনে আসে, তখন তারা কিছুটা আকৃষ্ট হয়, কিছুটা লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু যখনই কঠিন পরিস্থিতি আসে, জিহাদ, কুরবানি বা ত্যাগের প্রয়োজন পড়ে, তখনই তারা থমকে দাঁড়ায়, পিছিয়ে যায়।

এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন, যদি তিনি চাইতেন, তবে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণরূপে কেড়ে নিতে পারতেন। তাদের অন্তর তো অন্ধকারেই ছিল, বাহ্যিক ইন্দ্রিয়গুলোও তিনি চাইলে নষ্ট করে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তাদের অবকাশ দিয়েছেন, যাতে তারা ফিরে আসার সুযোগ পায়। আল্লাহ তাআলা সবকিছুর উপরই ক্ষমতাবান। তার ইচ্ছা ছাড়া একটি পাতাও নড়ে না।

এই আয়াত থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, আমরা যেন মুনাফিকদের মতো না হই। ঈমানের আলো যখন হৃদয়ে আসে, তখন তাকে ধরে রাখতে হবে। আর যখন কঠিন পরিস্থিতি আসে, তখনই যেন আমরা দাঁড়িয়ে না যাই, বরং দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যাই। আল্লাহর উপর ভরসা রাখলে তিনি আমাদের পথ দেখাবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সত্যের উপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।



📜 আয়াত 18-22 — সূরা আল-বাকারা

18صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ
তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।
19أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ السَّمَاءِ فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِم مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ ۚ وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكَافِرِينَ
আর তাদের উদাহরণ সেসব লোকের মত যারা দুর্যোগপূর্ণ ঝড়ো রাতে পথ চলে, যাতে থাকে আঁধার, গর্জন ও বিদ্যুৎচমক। মৃত্যুর ভয়ে গর্জনের সময় কানে আঙ্গুল দিয়ে রক্ষা পেতে চায়। অথচ সমস্ত কাফেরই আল্লাহ কর্তৃক পরিবেষ্ঠিত।
20يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ ۖ كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُم مَّشَوْا فِيهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।
21يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।
22الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَّكُمْ ۖ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
20আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 20

সূরা আল-বাকারা আয়াত 20 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার…

সূরা আয়াত 20/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 18–22. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না