অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- مُنقَلَبٍ — প্রত্যাবর্তনস্থল, পরিণতি, ফিরে যাওয়ার জায়গা।
- يَنقَلِبُونَ — তারা ফিরে যাবে, প্রত্যাবর্তন করবে।
- انتَصَرُوا — প্রতিশোধ নিয়েছে, জবাব দিয়েছে, আত্মরক্ষা করেছে।
- ظُلِمُوا — তাদের প্রতি জুলুম/অত্যাচার করা হয়েছে।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী আয়াতে কবিদের সম্পর্কে যে নিন্দা ও তিরস্কার করেছেন, তা থেকে কিছু কবিকে ব্যতিক্রম ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ, যারা প্রকৃত মুমিন, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা সেই নিন্দার আওতাভুক্ত নয়। বরং তাদের প্রশংসা করা হয়েছে।
এই ব্যতিক্রমী কবিরা কারা? তারা হলেন সেইসব কবি যারা:
- ঈমান এনেছে — আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে।
- সৎকর্ম করেছে — তাদের কথা ও কাজ উভয়ই সৎ ও ন্যায়সংগত ছিল।
- আল্লাহকে অধিক স্মরণ করেছে — তাদের কবিতা তাদেরকে আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল করেনি; বরং তারা আল্লাহর প্রশংসা, তাওহীদের বর্ণনা এবং ইসলামের সত্য তুলে ধরার মাধ্যমেই কবিতা রচনা করেছে।
- অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিয়েছে — যখন কাফির কবিরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে ও মুসলিমদেরকে কটূক্তি করে কবিতা রচনা করত, তখন এই মুমিন কবিরা (যেমন হাসসান বিন সাবিত রা.) পাল্টা কবিতা রচনা করে ইসলাম ও রাসূলের পক্ষে জবাব দিতেন। এটি ছিল ন্যায়সঙ্গত আত্মরক্ষা ও সত্যের পক্ষে অবস্থান।
এরপর আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন — যারা জুলুম করেছে (শিরক করেছে, আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে, রাসূল ও মুমিনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং তাদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে), তারা খুব শীঘ্রই জানতে পারবে যে, তাদের প্রত্যাবর্তন কতটা ভয়াবহ! তারা জাহান্নামের দিকে ফিরে যাবে, যেখানে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি ও লাঞ্ছনা।
উপকারিতা ও শিক্ষা:
- ইসলাম শিল্প ও সাহিত্যের বিরোধী নয়; বরং ইসলাম চায় শিল্প-সাহিত্য সৎ উদ্দেশ্যে ও সত্যের সেবায় ব্যবহৃত হোক। কবিতা বা যেকোনো শিল্প মাধ্যম যদি সত্য, ন্যায় ও ইসলামের সেবায় ব্যবহৃত হয়, তবে তা প্রশংসনীয়।
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা এবং অত্যাচারীর জুলুমের জবাব দেওয়া বৈধ ও প্রশংসনীয় কাজ। তবে তা অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত সীমার মধ্যে হতে হবে।
- আল্লাহর জিকির ও স্মরণ যেকোনো পেশা বা কাজের সাথে একীভূত করা যায়। কবি হয়েও কেউ আল্লাহমুখী থাকতে পারে, ব্যবসায়ী হয়েও কেউ আল্লাহভীরু থাকতে পারে — মূল বিষয় হলো অন্তরের অবস্থা ও কাজের উদ্দেশ্য।
- জুলুমকারীদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। তারা মনে করুক বা না করুক, আল্লাহর ন্যায়বিচার অবশ্যম্ভাবী। প্রতিটি জালিমকে তার কর্মের ফল ভোগ করতেই হবে।
- এই আয়াত আমাদের শেখায় — যেকোনো প্রতিভা বা দক্ষতাকে আল্লাহর পথে ব্যবহার করা সর্বোত্তম সৌভাগ্য। যে ব্যক্তি তার প্রতিভা দিয়ে ইসলামের সেবা করে, সে আল্লাহর বিশেষ রহমতের অধিকারী।
📜 আয়াত 225-227 — আশ-শুআরা
অনুবাদ — আশ-শুআরা 227
সূরা আশ-শুআরা আয়াত 227 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম…সূরা আয়াত 227/227 — আশ-শুআরা الشعراء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আশ-শুআরা শুনুন, আশ-শুআরা অনুবাদ, আশ-শুআরা mp3, আশ-শুআরা pdf. আয়াত 225–227. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








