বরং আল্লাহ তোমাদের সাহায্যকারী, আর তাঁর সাহায্যই হচ্ছে উত্তম সাহায্য।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দের অর্থ:
مَوْلَاكُمْ (মাওলাকুম): তোমাদের অভিভাবক, সাহায্যকারী ও রক্ষক।
خَيْرُ النَّاصِرِينَ (খাইরুন নাসিরীন): সাহায্যকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছেন যে, কাফিররা তোমাদের কখনো প্রকৃত সাহায্যকারী হতে পারে না। তারা যদি ক্ষমতা, সম্পদ বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে শক্তিশালী মনে হয়, তবুও তাদের ওপর নির্ভর করা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, তাদের সাহায্য চাওয়া মানে আল্লাহর ওপর আস্থা হারানো, আর আল্লাহই তো তোমাদের প্রকৃত অভিভাবক ও সাহায্যকারী।
তোমরা যখন আল্লাহর ওপর ভরসা করবে এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলবে, তখন তিনি নিজেই তোমাদের রক্ষা করবেন এবং শত্রুদের মোকাবিলায় তোমাদের সাহায্য করবেন। আল্লাহর সাহায্যের বিকল্প নেই—তিনি এমনভাবে সাহায্য করেন যা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি শত্রুদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেন, অন্তরে শক্তি সঞ্চার করেন এবং বিজয় দান করেন। তাই কাফিরদের ভয় না করে, তাদের আনুগত্য না করে, একমাত্র আল্লাহর ওপরই নির্ভর করা উচিত। কেননা, তিনি হচ্ছেন সর্বোত্তম সাহায্যকারী—যিনি সাহায্য করলে কোনো শক্তি তা রুখতে পারে না।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
মুমিনের চূড়ান্ত ভরসা কেবল আল্লাহর ওপরই হওয়া উচিত, অন্য কারো ওপর নয়।
কাফির বা অন্য কারো সাহায্যের আশায় তাদের আনুগত্য করা বা তাদের কাছে মাথা নত করা সম্পূর্ণ হারাম ও আত্মসম্মানহানিকর।
আল্লাহর সাহায্য সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকরী—তিনি যখন সাহায্য করেন, তখন কোনো শক্তিই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
এই আয়াত মুমিনদের মনে সাহস ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে যে, সংখ্যালঘু হলেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে বিজয় তাদেরই হবে।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহকে অভিভাবক মানলে তিনি আমাদের রক্ষা করবেন এবং বিপদ-সংকট থেকে উদ্ধার করবেন।
খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুতঃ জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।
আর আল্লাহ সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই নির্দেশে ওদের খতম করছিলে। এমনকি যখন তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে ও কর্তব্য স্থির করার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। আর যা তোমরা চাইতে তা দেখার পর কৃতঘ্নতা প্রদর্শন করেছ, তাতে তোমাদের কারো কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারো বা কাম্য ছিল আখেরাত। অতঃপর তোমাদিগকে সরিয়ে দিলেন ওদের উপর থেকে যাতে তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহর মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।