Fanaadat hul malaaa`ikatu wa huwa qaaa`imuny yusallee fil Mihraabi annal laaha yubashshiruka bi Yahyaa musaddiqam bi Kalimatim minal laahi wa saiyidanw wa hasooranw wa Nabiyyam minas saaliheen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যখন তিনি কামরার ভেতরে নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন যে, আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারীদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবী হবেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
अभी ज़करिया हुजरे में खड़े (ये) दुआ कर ही रहे थे कि फ़रिश्तों ने उनको आवाज़ दी कि ख़ुदा तुमको यहया (के पैदा होने) की खुशख़बरी देता है जो जो कलेमतुल्लाह (ईसा) की तस्दीक़ करेगा और (लोगों का) सरदार होगा और औरतों की तरफ़ रग़बत न करेगा और नेको कार नबी होगा
যখন তিনি কামরার ভেতরে নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন যে, আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারীদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবী হবেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি শব্দের অর্থ:
মুহরাব (المحراب): ইবাদতের স্থান, যেখানে জাকারিয়া (আঃ) নামাজ আদায় করতেন।
মুসাদ্দিকান (مصدقًا): সত্যায়নকারী, বিশ্বাসকারী।
কালিমাতিন মিনাল্লাহ (كلمة من الله): আল্লাহর পক্ষ থেকে সৃষ্ট একটি বাণী বা সত্তা—এখানে উদ্দেশ্য ঈসা (আঃ), যিনি আল্লাহর "কুন" (হয়ে যাও) শব্দে পিতৃহীনভাবে সৃষ্টি হয়েছিলেন।
সাইয়্যিদান (سيدًا): নেতা, সরদার, যিনি জ্ঞান ও ইবাদতে সম্প্রদায়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
হাসুরান (حصورًا): যে নিজেকে সংযত রাখে, প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত, বিশেষত নারী-সম্পর্ক থেকে বিরত থেকে আল্লাহর ইবাদতে নিবেদিত থাকে।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা আমাদের জানাচ্ছেন যে, নবী জাকারিয়া (আঃ) যখন মিহরাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছিলেন এবং আল্লাহর কাছে সন্তানের জন্য প্রার্থনা করছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাকে ডেকে সুসংবাদ দিলেন। ফেরেশতারা বললেন, "আল্লাহ তোমাকে এমন এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হবে ইয়াহইয়া।"
এই সন্তানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে কয়েকটি ধাপে:
তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত একটি শব্দকে সত্যায়ন করবেন — অর্থাৎ তিনি ঈসা (আঃ)-কে সত্য নবী হিসেবে বিশ্বাস করবেন এবং তার আগমনকে সমর্থন করবেন। ঈসা (আঃ) আল্লাহর "কুন" শব্দে পিতৃহীনভাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই তাকে "কালিমাতুল্লাহ" (আল্লাহর শব্দ) বলা হয়েছে।
তিনি হবেন সাইয়্যিদ (নেতা) — অর্থাৎ জ্ঞান, তাকওয়া, ইবাদত এবং মানুষের মাঝে মর্যাদার দিক থেকে তিনি হবেন শ্রেষ্ঠ। তিনি নিজ সম্প্রদায়ের জন্য হবেন আদর্শ নেতা।
তিনি হবেন হাসুর (সংযমী) — অর্থাৎ তিনি নিজেকে প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে সংযত রাখবেন, নারী-সম্পর্ক থেকে বিরত থাকবেন এবং নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইবাদতে নিবেদিত করবেন। এটি তার উচ্চ মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রমাণ।
তিনি হবেন নবী এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত — অর্থাৎ আল্লাহ তাকে নবুওয়াত দান করবেন এবং তিনি পুণ্যবানদের শ্রেষ্ঠতর স্তরে পৌঁছবেন।
এটি ছিল জাকারিয়া (আঃ)-এর জন্য এক অপূর্ব সুসংবাদ, কারণ তিনি ছিলেন বৃদ্ধ এবং তার স্ত্রীও ছিলেন বন্ধ্যা। আল্লাহর কুদরতে এই অসম্ভবকে সম্ভব করা হলো, যা প্রমাণ করে যে আল্লাহর ইচ্ছার সামনে কোনো বাধা নেই।
শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:
দোয়ার সময় আল্লাহর কাছে আশা রাখা: জাকারিয়া (আঃ) বৃদ্ধ বয়সেও আল্লাহর কাছে সন্তান প্রার্থনা করেছিলেন। আমাদের উচিত কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া।
নামাজের মধ্যে দোয়ার ফজিলত: নামাজের মধ্যে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাকারিয়া (আঃ)-এর দোয়া নামাজের মধ্যেই কবুল হয়েছিল।
সন্তান লালন-পালনের উদ্দেশ্য: সন্তান শুধু বংশধর নয়, বরং আল্লাহর পথে সৎকর্মশীল, সংযমী এবং সমাজের নেতা হওয়া উচিত। আমাদের সন্তানদের এমন গুণে গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত।
আত্মসংযমের মর্যাদা: প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার কাজ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত সফলতা আল্লাহর সন্তুষ্টিতে।
আল্লাহর কুদরতের প্রতি বিশ্বাস: আল্লাহ যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন। আমাদের উচিত তাঁর কুদরতের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর ওপর ভরসা করা।
অতঃপর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তম ভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাঁকে প্রবৃদ্ধি দান করলেন-অত্যন্ত সুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পন করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তার কছে আসতেন তখনই কিছু খাবার দেখতে পেতেন। জিজ্ঞেস করতেন "মারইয়াম! কোথা থেকে এসব তোমার কাছে এলো?" তিনি বলতেন, "এসব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন।"
সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে, আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
যখন তিনি কামরার ভেতরে নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন যে, আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারীদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবী হবেন।
তিনি বললেন হে পালনকর্তা! কেমন করে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার যে বার্ধক্য এসে গেছে, আমার স্ত্রীও যে বন্ধ্যা। বললেন, আল্লাহ এমনি ভাবেই যা ইচ্ছা করে থাকেন।
তিনি বললেন, হে পালনকর্তা আমার জন্য কিছু নিদর্শন দাও। তিনি বললেন, তোমার জন্য নিদর্শন হলো এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত কারও সাথে কথা বলবে না। তবে ইশারা ইঙ্গতে করতে পারবে এবং তোমার পালনকর্তাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে আর সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করবে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।