Qaala Rabbi annaa yakoonu lee ghulaamunw wa qad balaghaniyal kibaru wamraatee `aaqirun qaala kazaalikal laahu yaf`alu maa yashaaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তিনি বললেন হে পালনকর্তা! কেমন করে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার যে বার্ধক্য এসে গেছে, আমার স্ত্রীও যে বন্ধ্যা। বললেন, আল্লাহ এমনি ভাবেই যা ইচ্ছা করে থাকেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ज़करिया ने अर्ज़ की परवरदिगार मुझे लड़का क्योंकर हो सकता है हालॉकि मेरा बुढ़ापा आ पहुंचा और (उसपर) मेरी बीवी बॉझ है (ख़ुदा ने) फ़रमाया इसी तरह ख़ुदा जो चाहता है करता है
তিনি বললেন হে পালনকর্তা! কেমন করে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার যে বার্ধক্য এসে গেছে, আমার স্ত্রীও যে বন্ধ্যা। বললেন, আল্লাহ এমনি ভাবেই যা ইচ্ছা করে থাকেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أَنَّى: কীভাবে, কোথা থেকে।
بَلَغَنِيَ الْكِبَرُ: বার্ধক্য আমাকে পূর্ণরূপে গ্রাস করেছে, আমার ওপর তার প্রভাব স্পষ্ট।
عَاقِرٌ: বন্ধ্যা, যে সন্তান জন্ম দিতে পারে না।
তাফসীর:
যখন ফেরেশতারা যাকারিয়া (আঃ)-কে সুসংবাদ দিলেন যে, তার একটি পুত্র সন্তান হবে, যার নাম হবে ইয়াহইয়া, তখন তিনি বিস্ময় ও আনন্দে প্রশ্ন করলেন: "হে আমার রব! আমার সন্তান কীভাবে হবে, অথচ আমি তো বার্ধক্যে পৌঁছে গেছি—বৃদ্ধ বয়স আমার শরীরকে দুর্বল করে দিয়েছে, হাড় ক্ষয়ে গেছে, এবং আমার স্ত্রীও তো বন্ধ্যা—তার সন্তান হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই?"
এ প্রশ্নটি ছিল অবিশ্বাস বা আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহের কারণে নয়, বরং এটি ছিল বিস্ময় ও কৌতূহল থেকে—যেভাবে একজন মানুষ স্বাভাবিক কারণের বিপরীত কোনো ঘটনা শুনে আশ্চর্য হয়ে যায়। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, এই অসম্ভব ঘটনাটি কীভাবে ঘটবে?
এর জবাবে আল্লাহ তাকে বললেন: "এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা করেন।" অর্থাৎ, মানুষের স্বাভাবিক নিয়ম-কানুনের বাইরেও আল্লাহ যা চান তা ঘটাতে সক্ষম। তিনি যখন কোনো কিছু করার ইচ্ছা করেন, তখন তা হয়ে যায়—চাই তা স্বাভাবিক কারণেই হোক বা অস্বাভাবিক ও অলৌকিক উপায়েই হোক। বার্ধক্য ও বন্ধ্যাত্ব আল্লাহর পক্ষে কোনো বাধা নয়। তাঁর ক্ষমতা সীমাহীন, আর তাঁর ইচ্ছার সামনে সবকিছু বশীভূত।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর ক্ষমতা অসীম—তিনি প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের ঊর্ধ্বে। মানুষের কাছে যা অসম্ভব মনে হয়, আল্লাহর কাছে তা অত্যন্ত সহজ।
বার্ধক্য, রোগ, দুর্বলতা—এসব কিছুই আল্লাহর ইচ্ছার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাঁর কাছে সবকিছু সম্ভব।
নবী ও রাসূলগণও আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে প্রশ্ন করতেন এবং তাঁর কাছ থেকে উত্তর পেতেন। এটি আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর কাছে প্রশ্ন করা এবং তাঁর উপর পূর্ণ আস্থা রাখা ঈমানের অংশ।
এই আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করতে শেখায়। যখন সব দরজা বন্ধ মনে হয়, তখন আল্লাহর দরজা খোলা থাকে। হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমতের প্রতিই আমাদের দৃষ্টি রাখা উচিত।
আল্লাহ যা করেন তা হিকমতের সাথে করেন—তিনি যা চান, যেভাবে চান, যার জন্য চান তা করেন। আমাদের উচিত তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করা।
সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে, আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
যখন তিনি কামরার ভেতরে নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন যে, আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারীদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবী হবেন।
তিনি বললেন হে পালনকর্তা! কেমন করে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার যে বার্ধক্য এসে গেছে, আমার স্ত্রীও যে বন্ধ্যা। বললেন, আল্লাহ এমনি ভাবেই যা ইচ্ছা করে থাকেন।
তিনি বললেন, হে পালনকর্তা আমার জন্য কিছু নিদর্শন দাও। তিনি বললেন, তোমার জন্য নিদর্শন হলো এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত কারও সাথে কথা বলবে না। তবে ইশারা ইঙ্গতে করতে পারবে এবং তোমার পালনকর্তাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে আর সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করবে।
আর যখন ফেরেশতা বলল হে মারইয়াম!, আল্লাহ তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছেন। আর তোমাকে বিশ্ব নারী সমাজের উর্ধ্বে মনোনীত করেছেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।