Wa many yuslim wajha hooo ilal laahi wa huwa muhsinun faqadistamsaka bil`ur watil wusqaa; wa ilal laahi `aaqibatul umoor
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে স্বীয় মুখমন্ডলকে আল্লাহ অভিমূখী করে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করে, সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর দিকে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और जो शख्स ख़ुदा के आगे अपना सर (तस्लीम) ख़म करे और वह नेकोकार (भी) हो तो बेशक उसने (ईमान की) मज़बूत रस्सी पकड़ ली और (आख़िर तो) सब कामों का अन्जाम ख़ुदा ही की तरफ है
যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে স্বীয় মুখমন্ডলকে আল্লাহ অভিমূখী করে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করে, সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর দিকে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يُسْلِمْ وَجْهَهُ – নিজের চেহারা ও মনকে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করা, অর্থাৎ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া।
مُحْسِنٌ – যে ব্যক্তি তার আমল ও কাজকে সুন্দর ও সঠিকভাবে করে, অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করে।
الْعُرْوَةِ الْوُثْقَى – মজবুত ও শক্ত রশি বা হাতল, যা কখনো ছিঁড়ে না। এখানে এর অর্থ হলো ইসলাম ও তাওহিদের মজবুত বন্ধন।
তাফসির:
যে ব্যক্তি নিজের সমগ্র সত্তা, ইচ্ছা ও উদ্দেশ্যকে আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণরূপে সোপর্দ করে দেয় এবং তার আমল-আচরণে, কথায় ও কাজে নিখুঁতভাবে সৎ ও সুন্দর থাকে—অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার ইবাদত করে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পথ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে—সে যেন একটি অত্যন্ত মজবুত ও কখনো ছিঁড়ে না এমন রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছে। এই রশি হলো ইসলামের পবিত্র বন্ধন, যা তাকে জাহান্নামের পতন থেকে রক্ষা করে এবং জান্নাতের পথ দেখায়। তার এই আঁকড়ে ধরা এমন এক নিরাপদ আশ্রয়, যা কখনো ভাঙবে না বা দুর্বল হবে না।
আর সকল বিষয়ের পরিণতি ও চূড়ান্ত ফয়সালা একমাত্র আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়। দুনিয়ার সব কাজ-কর্ম, ভালো-মন্দ, সবকিছুর শেষ পরিণতি আল্লাহর কাছেই। তিনি সৎকর্মশীলদের তাদের উত্তম কাজের পুরস্কার দেবেন এবং মন্দ কাজকারীদের তাদের মন্দ কাজের শাস্তি দেবেন। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত নিজের জীবনকে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী সাজানো, যাতে আখিরাতে সফলতা অর্জন করতে পারে।
ফায়দা (শিক্ষা):
ইসলামের পথ হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও মজবুত পথ। যে ব্যক্তি এই পথে চলে, সে কখনো ধ্বংস হবে না।
শুধু মুখে ঈমান বলা যথেষ্ট নয়, বরং আমলও সুন্দর ও সঠিক হতে হবে। ঈমান ও সৎকর্ম একসাথে থাকলেই প্রকৃত সাফল্য।
জীবনের প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং তাঁর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়াই মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
দুনিয়ার কোনো কাজই শেষ পর্যন্ত টেকে না; সবকিছুর পরিণাম আল্লাহর কাছেই। তাই দুনিয়ার মোহে বিভ্রান্ত না হয়ে আখিরাতের সাফল্যের জন্যই চেষ্টা করা উচিত।
এই আয়াত মুমিনকে আশ্বস্ত করে যে, আল্লাহর ওপর ভরসা করলে এবং তাঁর পথে চললে কোনো ভয় বা চিন্তা নেই—আল্লাহই সর্বোত্তম রক্ষক ও পুরস্কারদাতা।
তোমরা কি দেখ না আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যাকিছু আছে, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ন করে দিয়েছেন? এমন লোক ও আছে; যারা জ্ঞান, পথনির্দেশ ও উজ্জল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বাকবিতন্ডা করে।
তাদেরকে যখন বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ কর, তখন তারা বলে, বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছি, তারই অনুসরণ করব। শয়তান যদি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে দাওয়াত দেয়, তবুও কি?
যে ব্যক্তি কুফরী করে তার কুফরী যেন আপনাকে চিন্তিত না করে। আমারই দিকে তাদের প্রত্যাবর্তন, অতঃপর আমি তাদের কর্ম সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করব। অন্তরে যা কিছু রয়েছে, সে সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ পরিজ্ঞাত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।