সাবা · 13/54
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা সাবা
يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاءُ مِن مَّحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَّاسِيَاتٍ ۚ اعْمَلُوا آلَ دَاوُودَ شُكْرًا ۚ وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ ۝١٣
Ya`maloona lahoo ma yashaaa`u mim mahaareeba wa tamaaseela wa jifaanin kaljawaabi wa qudoorir raasiyaat; i`maloo aala Daawooda shukraa; wa qaleelum min `ibaadiyash shakoor
📖 বাংলা অর্থ
তারা সোলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী দুর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত। হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমরা কাজ করে যাও। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • مَحَارِيبَ (মাহারিব): এর একবচন ‘মিহরাব’। অর্থ ইবাদতের স্থান, মসজিদ বা উচ্চস্থান।
  • تَمَاثِيلَ (তামাছিল): মূর্তি বা প্রতিকৃতি। (সুলাইমান আ.-এর যুগের শরীয়তে তা বৈধ ছিল)
  • جِفَانٍ (জিফান): এর একবচন ‘জাফনাহ’। অর্থ বড় বড় পাত্র বা থালা।
  • كَالْجَوَابِ (কাল জাওয়াব): ‘জাবিয়াহ’ অর্থ বড় হাউজ বা পানি সংরক্ষণের বিশাল আধার। অর্থাৎ এত বড় পাত্র যেন বিশাল হাউজ।
  • قُدُورٍ رَاسِيَاتٍ (কুদুর রাসিয়াত): স্থির ও অটল ডেকচি বা রান্নার পাত্র, যা এত বিশাল ছিল যে এক স্থান থেকে সরানো যেত না।

সম্পূর্ণ তাফসির:

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সুলাইমান আ.-এর প্রতি যে অসাধারণ অনুগ্রহ করেছিলেন, তারই কিছু চিত্র এই আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। জিনদের একটি বিশাল বাহিনী তাঁর আদেশে কাজ করত এবং তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী যা কিছু তিনি চাইতেন, তা নির্মাণ করত। তারা তৈরি করত মাহারিব অর্থাৎ ইবাদতের সুন্দর সুন্দর স্থান, মসজিদ ও উচ্চ প্রাসাদ। তৈরি করত তামাছিল বা নানা রকম প্রতিকৃতি ও ভাস্কর্য, যা সে যুগের শরীয়তে অনুমোদিত ছিল। তারা তৈরি করত জিফান অর্থাৎ এত বড় বড় থালা-পাত্র যা দেখতে বিশাল হাউজ বা পুকুরের মতো মনে হতো। আর তৈরি করত কুদুর রাসিয়াত অর্থাৎ এত বিশাল আকারের রান্নার ডেকচি যা একবার স্থাপন করা হলে তা আর সরানো যেত না, কারণ তার আকার ও ওজন ছিল অকল্পনীয়।

এরপর আল্লাহ তাআলা দাউদ ও সুলাইমান আ.-এর পরিবারকে সম্বোধন করে বলেন: “হে দাউদের পরিবার! কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আমল করো।” অর্থাৎ আল্লাহর এই বিশাল অনুগ্রহ ও ক্ষমতার বিনিময়ে তোমরা শুধু মুখে শুকরিয়া আদায় করো না; বরং আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের মাধ্যমে, তাঁর আদেশ পালনের মাধ্যমে প্রকৃত শুকরিয়া আদায় করো। কারণ প্রকৃত শুকরিয়া হলো আল্লাহর নেয়ামতকে তাঁর আনুগত্যে ব্যবহার করা, না তাঁর নাফরমানিতে।

তারপর আল্লাহ তাআলা একটি চিরন্তন সত্য তুলে ধরেছেন: “আর আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পই কৃতজ্ঞ।” হ্যাঁ, এটাই বাস্তব। মানুষের স্বভাব হলো নেয়ামত ভুলে যাওয়া এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কার্পণ্য করা। অথচ আল্লাহ তো প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের উপর অগণিত নেয়ামত বর্ষণ করছেন—চোখ, কান, হাত, পা, সুস্থতা, রিজিক, নিরাপত্তা—কোনো কিছুরই হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা কতজনই না এগুলোর প্রকৃত মূল্যায়ন করি এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি!

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর নেয়ামত যত বড়ই হোক না কেন, তার প্রকৃত শুকরিয়া হলো আল্লাহর আনুগত্য করা। আমরা যদি প্রতিদিন ফজরে ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি, নামাজে দাঁড়িয়ে তাঁর সামনে মাথা নত করি, রিজিকের সন্ধানে বের হওয়ার সময় হালাল উপার্জনের সংকল্প করি, আর নিজের জীবনকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সাজাই—তবেই আমরা প্রকৃত শুকরগুজার বান্দা হতে পারব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর প্রকৃত কৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।



📜 আয়াত 11-15 — সূরা সাবা

11أَنِ اعْمَلْ سَابِغَاتٍ وَقَدِّرْ فِي السَّرْدِ ۖ وَاعْمَلُوا صَالِحًا ۖ إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
এবং তাকে আমি বলে ছিলাম, প্রশস্ত বর্ম তৈরী কর, কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত কর এবং সৎকর্ম সম্পাদন কর। তোমরা যা কিছু কর, আমি তা দেখি।
12وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ غُدُوُّهَا شَهْرٌ وَرَوَاحُهَا شَهْرٌ ۖ وَأَسَلْنَا لَهُ عَيْنَ الْقِطْرِ ۖ وَمِنَ الْجِنِّ مَن يَعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ بِإِذْنِ رَبِّهِ ۖ وَمَن يَزِغْ مِنْهُمْ عَنْ أَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ
আর আমি সোলায়মানের অধীন করেছিলাম বায়ুকে, যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। আমি তার জন্যে গলিত তামার এক ঝরণা প্রবাহিত করেছিলাম। কতক জিন তার সামনে কাজ করত তার পালনকর্তার আদেশে। তাদের যে কেউ আমার আদেশ অমান্য করবে, আমি জ্বলন্ত অগ্নির-শাস্তি আস্বাদন করাব।
13يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاءُ مِن مَّحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَّاسِيَاتٍ ۚ اعْمَلُوا آلَ دَاوُودَ شُكْرًا ۚ وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ
তারা সোলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী দুর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত। হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমরা কাজ করে যাও। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ।
14فَلَمَّا قَضَيْنَا عَلَيْهِ الْمَوْتَ مَا دَلَّهُمْ عَلَىٰ مَوْتِهِ إِلَّا دَابَّةُ الْأَرْضِ تَأْكُلُ مِنسَأَتَهُ ۖ فَلَمَّا خَرَّ تَبَيَّنَتِ الْجِنُّ أَن لَّوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ الْغَيْبَ مَا لَبِثُوا فِي الْعَذَابِ الْمُهِينِ
যখন আমি সোলায়মানের মৃত্যু ঘটালাম, তখন ঘুণ পোকাই জিনদেরকে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করল। সোলায়মানের লাঠি খেয়ে যাচ্ছিল। যখন তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন, তখন জিনেরা বুঝতে পারল যে, অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান থাকলে তারা এই লাঞ্ছনাপূর্ণ শাস্তিতে আবদ্ধ থাকতো না।
15لَقَدْ كَانَ لِسَبَإٍ فِي مَسْكَنِهِمْ آيَةٌ ۖ جَنَّتَانِ عَن يَمِينٍ وَشِمَالٍ ۖ كُلُوا مِن رِّزْقِ رَبِّكُمْ وَاشْكُرُوا لَهُ ۚ بَلْدَةٌ طَيِّبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ
সাবার অধিবাসীদের জন্যে তাদের বাসভূমিতে ছিল এক নিদর্শন-দুটি উদ্যান, একটি ডানদিকে, একটি বামদিকে। তোমরা তোমাদের পালনকর্তার রিযিক খাও এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। স্বাস্থ্যকর শহর এবং ক্ষমাশীল পালনকর্তা।
সাবাকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীRevelation
13আয়াত

অনুবাদ — সাবা 13

সূরা সাবা আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা সোলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী দুর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির…

সূরা আয়াত 13/54 — সূরা সাবা سبأ (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা সাবা শুনুন, সূরা সাবা অনুবাদ, সূরা সাবা mp3, সূরা সাবা pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না