সাবা · 9/54
অনুবাদ উচ্চারণ — সাবা
أَفَلَمْ يَرَوْا إِلَىٰ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۚ إِن نَّشَأْ نَخْسِفْ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًا مِّنَ السَّمَاءِ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّكُلِّ عَبْدٍ مُّنِيبٍ ۝٩
Afalam yaraw ilaa maa baina aydeehim wa maa khalfahum minas samaaa`i wal ard; in nashad nakhsif bihimul arda aw nusqit `alaihim kisafam minas samaaa`; inna fee zaalika la Aayatal likulli `abdim muneeb
📖 বাংলা অর্থ
তারা কি তাদের সামনের ও পশ্চাতের আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিলক্ষ্য করে না? আমি ইচ্ছা করলে তাদের সহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আকাশের কোন খন্ড তাদের উপর পতিত করব। আল্লাহ অভিমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • নাখসিফা (نَخْسِفَ): মাটিতে ধসিয়ে দেওয়া, ভূগর্ভে নিমজ্জিত করা।
  • কিসাফান (كِسَفًا): টুকরো, খণ্ড, কোনো বস্তুর অংশবিশেষ।
  • মুনীব (مُنِيبٌ): যে ব্যক্তি বারবার আল্লাহর দিকে ফিরে যায়, তাওবাকারী, অন্তর দিয়ে আল্লাহর অভিমুখী।

আয়াতের ব্যাখ্যা:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই কাফিরদের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন যারা পুনরুত্থান ও আখিরাতকে অস্বীকার করে। তারা কি চোখ খুলে দেখে না তাদের সামনে ও পেছনে বিস্তৃত এই বিশাল পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলীকে? তারা কি ভাবে না যে, এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা তাদের ওপর সম্পূর্ণ ক্ষমতাবান? তারা আসলে আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে আবদ্ধ, চারদিক থেকে আল্লাহর ক্ষমতা তাদের পরিবেষ্টন করে আছে।

আল্লাহ বলেন, আমরা ইচ্ছা করলেই তাদের পায়ের নিচের পৃথিবীকে ধসিয়ে দিতে পারি, যেমনটি করেছিলাম কারুনের সাথে। অথবা ইচ্ছা করলেই আকাশ থেকে তাদের ওপর আগুন বা পাথরের টুকরো বর্ষণ করতে পারি, যেমনটি করেছিলাম শুআইব (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের সাথে। যারা সত্যকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের জন্য এটাই তো সহজ শাস্তির উপায়।

এই ঘটনাগুলোর মধ্যে নিহিত রয়েছে আল্লাহর পরিপূর্ণ ক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রমাণ। যে আল্লাহ পৃথিবীকে ধসিয়ে দিতে পারেন, আকাশ থেকে শাস্তি নামাতে পারেন, তিনি অবশ্যই মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুত্থিত করতেও সক্ষম। এই নিদর্শন থেকে শিক্ষা নেয় সেই বান্দা, যে তার প্রভুর দিকে বারবার ফিরে আসে, তাওবা করে, একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করে এবং তাঁর একত্বকে অন্তর দিয়ে মেনে নেয়।


আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:

  1. আল্লাহর ক্ষমতা অপরিসীম: এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহ তাআলা সবকিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। তাঁর ইচ্ছাতেই পৃথিবী ধসে যায়, আকাশ থেকে শাস্তি নেমে আসে। তাই তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক থাকা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
  2. প্রকৃতির মাঝে আল্লাহর নিদর্শন: আকাশ-পৃথিবী, চন্দ্র-সূর্য, দিন-রাত—সবকিছুর মাঝে আল্লাহর ক্ষমতার অসংখ্য নিদর্শন ছড়িয়ে আছে। একজন জ্ঞানী ও সৎকর্মপরায়ণ বান্দা এসব নিদর্শন দেখে আল্লাহর মহত্ত্ব উপলব্ধি করে এবং তাঁর প্রতি আরও নিকটবর্তী হয়।
  3. তাওবার গুরুত্ব: আয়াতের শেষে "মুনীব" শব্দটি এসেছে, যার অর্থ তাওবাকারী। এটি প্রমাণ করে যে, মানুষ যত বড় গুনাহগারই হোক না কেন, আল্লাহর দরজা সবসময় খোলা। যে বান্দা আন্তরিকভাবে তাওবা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন এবং তার ওপর রহমত বর্ষণ করেন।
  4. আখিরাতে বিশ্বাসের যুক্তি: যে আল্লাহ পৃথিবী ও আকাশের ওপর এতটা ক্ষমতা রাখেন, তিনি মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করতেও সক্ষম। তাই আখিরাতে বিশ্বাস করা এবং সেই দিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই আয়াত আমাদের সেই চিরন্তন সত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 7-11 — সাবা

7وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا هَلْ نَدُلُّكُمْ عَلَىٰ رَجُلٍ يُنَبِّئُكُمْ إِذَا مُزِّقْتُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ إِنَّكُمْ لَفِي خَلْقٍ جَدِيدٍ
কাফেররা বলে, আমরা কি তোমাদেরকে এমন ব্যক্তির সন্ধান দেব, যে তোমাদেরকে খবর দেয় যে; তোমরা সম্পুর্ণ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তোমরা নতুন সৃজিত হবে।
8أَفْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَم بِهِ جِنَّةٌ ۗ بَلِ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ فِي الْعَذَابِ وَالضَّلَالِ الْبَعِيدِ
সে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে, না হয় সে উম্মাদ এবং যারা পরকালে অবিশ্বাসী, তারা আযাবে ও ঘোর পথভ্রষ্টতায় পতিত আছে।
9أَفَلَمْ يَرَوْا إِلَىٰ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۚ إِن نَّشَأْ نَخْسِفْ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًا مِّنَ السَّمَاءِ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّكُلِّ عَبْدٍ مُّنِيبٍ
তারা কি তাদের সামনের ও পশ্চাতের আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিলক্ষ্য করে না? আমি ইচ্ছা করলে তাদের সহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আকাশের কোন খন্ড তাদের উপর পতিত করব। আল্লাহ অভিমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।
10۞ وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ مِنَّا فَضْلًا ۖ يَا جِبَالُ أَوِّبِي مَعَهُ وَالطَّيْرَ ۖ وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيدَ
আমি দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এই আদেশ মর্মে যে, হে পর্বতমালা, তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং হে পক্ষী সকল, তোমরাও। আমি তাঁর জন্য লৌহকে নরম করে ছিলাম।
11أَنِ اعْمَلْ سَابِغَاتٍ وَقَدِّرْ فِي السَّرْدِ ۖ وَاعْمَلُوا صَالِحًا ۖ إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
এবং তাকে আমি বলে ছিলাম, প্রশস্ত বর্ম তৈরী কর, কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত কর এবং সৎকর্ম সম্পাদন কর। তোমরা যা কিছু কর, আমি তা দেখি।
সাবাকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীRevelation
9আয়াত

অনুবাদ — সাবা 9

সূরা সাবা আয়াত 9 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা কি তাদের সামনের ও পশ্চাতের আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিলক্ষ্য…

সূরা আয়াত 9/54 — সাবা سبأ (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সাবা শুনুন, সাবা অনুবাদ, সাবা mp3, সাবা pdf. আয়াত 7–11. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না