আর তারা বলবে-সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দূঃখ দূর করেছেন। নিশ্চয় আমাদের পালনকর্তা ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أَذْهَبَ – দূর করেছেন, সরিয়ে দিয়েছেন
الْحَزَنَ – দুঃখ, চিন্তা, ভয় ও কষ্ট
لَغَفُورٌ – নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল
شَكُورٌ – অত্যন্ত গুণগ্রাহী, কৃতজ্ঞতা গ্রহণকারী ও উত্তম প্রতিদানদাতা
তাফসীর:
জান্নাতবাসীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন এবং চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির আবাসে পৌঁছবেন, তখন তারা কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠে বলবেন: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের থেকে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন।” অর্থাৎ, দুনিয়ার কষ্ট, কবরের ভয়, হাশরের কঠিন মুহূর্ত, জাহান্নামের আশঙ্কা—এসব কিছুই চিরতরে বিদায় নিয়েছে। তাদের অন্তরে আর কোনো চিন্তা, ভয় বা অনুতাপ থাকবে না।
তারা আরও বলবেন: “নিশ্চয়ই আমাদের রব অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও গুণগ্রাহী।” অর্থাৎ, তিনি আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করেছেন এবং আমাদের ছোট ছোট নেক আমলগুলোও গ্রহণ করে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহে এই চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন, যেখানে কোনো ক্লান্তি, পরিশ্রম বা কষ্ট আমাদের স্পর্শ করবে না।
ফায়দা (শিক্ষা):
আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা জান্নাতবাসীদের একটি চিরন্তন অভ্যাস—আমাদের উচিত দুনিয়াতেও প্রতিটি নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।
আল্লাহর দুইটি মহান গুণ—ক্ষমা ও গুণগ্রাহিতা—আমাদের জন্য আশার বার্তা। আমরা যতই পাপ করি না কেন, আন্তরিক তওবা করলে তিনি ক্ষমা করবেন এবং আমাদের ভালো কাজগুলো তিনি কখনো নষ্ট হতে দেবেন না।
দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট সাময়িক; ধৈর্য ধরলে আল্লাহ তা দূর করবেন এবং এর বিনিময়ে দেবেন চিরস্থায়ী সুখ।
জান্নাতের জীবনে কোনো দুঃখ, ভয় বা ক্লান্তি নেই—এটি মুমিনের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিদান, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর অনুগ্রহেই দান করবেন।
অতঃপর আমি কিতাবের অধিকারী করেছি তাদেরকে যাদেরকে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছি। তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নির্দেশক্রমে কল্যাণের পথে এগিয়ে গেছে। এটাই মহা অনুগ্রহ।
আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে তার শাস্তিও লাঘব করা হবে না। আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।