خَطِيئَةً (খাত্বি'আত) — অনিচ্ছাকৃত ভুল বা ছোট অপরাধ।
إِثْمًا (ইছমান) — ইচ্ছাকৃত পাপ বা বড় অপরাধ।
يَرْمِ بِهِ (ইয়ারমি বিহি) — তাকে (অপরাধকে) কারো উপর চাপানো বা অপবাদ দেওয়া।
بَرِيئًا (বারীআন) — নির্দোষ, যে অপরাধ করেনি।
بُهْتَانًا (বুহতানান) — চরম মিথ্যা অপবাদ, যা শুনে মানুষ হতবাক হয়ে যায়।
مُبِينًا (মুবীনান) — স্পষ্ট, প্রকাশ্য।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
যে ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল করে ফেলে, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পাপে লিপ্ত হয়, তারপর সেই অপরাধ বা পাপের দায়ভার একটি নির্দোষ ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দেয় এবং তাকে অপবাদ দেয়—সে আসলে নিজের উপর চরম অন্যায় করে বসে। কারণ, সে একই সাথে দুটি গুরুতর অপরাধ করে: প্রথমত, সে নিজের অপরাধ ঢাকতে মিথ্যা বলে; দ্বিতীয়ত, সে একজন খাঁটি নির্দোষ মানুষকে কলঙ্কিত করে। এই কাজের মাধ্যমে সে যে মিথ্যা অপবাদ রটায়, তা এতই জঘন্য যে শুনে মানুষের মন হতবাক হয়ে যায়। আর এই অপবাদ ও মিথ্যা দায়ারোপের পাপ অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রকাশ্য, যা কোনোভাবেই লুকানো সম্ভব নয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে এই ব্যক্তি গুরুতর অপরাধী, এবং তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। কারণ, সে কেবল নিজের পাপই করেনি, বরং একজন নির্দোষ মানুষের জীবনকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
একজন মুমিনের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সততা ও আমানতদারিতা। নিজের ভুল স্বীকার করা সাহসের কাজ, কিন্তু অন্যকে দোষারোপ করে নিজেকে বাঁচানো কাপুরুষতা ও বড় পাপ।
নির্দোষ ব্যক্তিকে অপবাদ দেওয়া ইসলামে কবিরা গুনাহ। এর মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়।
আল্লাহ সবকিছু দেখেন এবং জানেন। কেউ যদি অন্যায়ভাবে কাউকে অপবাদ দেয়, তবে আল্লাহ তাকে এই মিথ্যার জন্য জবাবদিহি করবেন। তাই আমাদের উচিত সত্য কথা বলা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকা।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, নিজের ভুল ঢাকতে গিয়ে আরও বড় পাপ করা উচিত নয়। বরং ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং ক্ষমা চাওয়াই উত্তম পথ।
সমাজে শান্তি বজায় রাখতে হলে একে অপরের সম্মান রক্ষা করতে হবে। কারো উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া তার সম্মান নষ্ট করার শামিল, যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
যদি আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা না হত, তবে তাদের একদল আপনাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেই ফেলেছিল। তারা পথভ্রান্ত করতে পারে না কিন্তু নিজেদেরকেই এবং আপনার কোন অনিষ্ট করতে পারে না। আল্লাহ আপনার প্রতি ঐশী গ্রন্থ ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না। আপনার প্রতি আল্লাহর করুণা অসীম।
তাদের অধিকাংশ সলা-পরামর্শ ভাল নয়; কিন্তু যে সলা-পরামর্শ দান খয়রাত করতে কিংবা সৎকাজ করতে কিংবা মানুষের মধ্যে সন্ধিস্থাপন কল্পে করতো তা স্বতন্ত্র। যে একাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আমি তাকে বিরাট ছওয়াব দান করব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।