অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- ইছম (إِثْمًا): পাপ, গুনাহ, অপরাধ।
- ইয়াকছিব (يَكْسِبْ): অর্জন করা, উপার্জন করা (এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ করা বোঝানো হয়েছে)।
- আলা নাফসিহি (عَلَىٰ نَفْسِهِ): তার নিজের বিরুদ্ধে, তার নিজের ক্ষতিতে।
- আলিম (عَلِيمًا): সর্বজ্ঞ, সবকিছু সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
- হাকিম (حَكِيمًا): প্রজ্ঞাময়, প্রতিটি কাজে পরিপূর্ণ হিকমত ও প্রজ্ঞার অধিকারী।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে ঘোষণা করছেন যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পাপ বা গুনাহ করে বসে, তার এই পাপের ক্ষতিকর পরিণতি কেবল তার নিজের ওপরই বর্তাবে। এই পাপের বোঝা অন্য কাউকে দেওয়া হবে না, এবং এর খারাপ ফলও সে-ই ভোগ করবে। পাপ করার মাধ্যমে সে মূলত নিজেরই ক্ষতি করছে, অন্য কারো নয়। কারণ পাপের শাস্তি তাকে আখিরাতে ভোগ করতে হবে, এবং দুনিয়াতেও এর কারণে তার অন্তর অশান্ত ও কলুষিত হয়।
আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তিনি জানেন কে কী করছে, কী নিয়তে করছে এবং তার পরিণতি কী হবে। তার জ্ঞান কোনো কিছু থেকে লুকানো নেই। আর তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়। তিনি কারও ওপর জুলুম করেন না, বরং প্রত্যেককে তার কাজের উপযুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিদান বা শাস্তি দেন। তার বিধান ও সিদ্ধান্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিপূর্ণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:
- দায়িত্বশীলতা: এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রতিটি মানুষ তার নিজের কাজের জন্য নিজেই দায়ী। কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না। তাই আমাদের উচিত নিজের আমল সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং পাপ থেকে দূরে থাকা।
- ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা: আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ। তিনি কাউকে অযথা শাস্তি দেন না। তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কারণে তিনি জানেন কে কতটুকু অপরাধী এবং তার উপযুক্ত শাস্তি কী। এই বিশ্বাস আমাদের মনে প্রশান্তি আনে যে, দুনিয়ার কোনো জুলুম যদি আমরা সহ্য করি, তবে আল্লাহর দরবারে ন্যায়বিচার অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে।
- পাপের কুফল: পাপ শুধু আখিরাতের শাস্তির কারণ নয়, এটি মানুষের দুনিয়ার জীবনকেও ধ্বংস করে। পাপের কারণে মানুষের অন্তর অন্ধকার হয়ে যায়, সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ পার্থিব সুখ-শান্তি থেকেও বঞ্চিত হয়। তাই পাপ নিজের জন্যেই ক্ষতিকর।
- আল্লাহর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ওপর ভরসা: আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহ আমাদের দেখছেন এবং তিনি জানেন আমাদের জন্য কোনটা ভালো। তার সিদ্ধান্ত ও আদেশ-নিষেধ সবই প্রজ্ঞাপূর্ণ। তাই তার নির্দেশ মেনে চলা এবং তার ওপর ভরসা রাখা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। এই চিন্তা আমাদেরকে আল্লাহর আদেশ মেনে চলতে এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করে।
📜 আয়াত 109-113 — আন-নিসা
অনুবাদ — আন-নিসা 111
সূরা আন-নিসা আয়াত 111 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে কেউ পাপ করে, সে নিজের পক্ষেই করে। আল্লাহ মহাজ্ঞানী,…সূরা আয়াত 111/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 109–113. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








