আন-নিসা · 142/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَىٰ يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا ۝١٤٢
Innal munaafiqeena yukhaadi`oonal laaha wa huwa khaadi`uhum wa izaa qaamooo ilas Salaati qaamoo kusaalaa yuraaa`oonan naasa wa laa yazkuroonal laaha illaa qaleelaa
📖 বাংলা অর্থ
অবশ্যই মুনাফেকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে, অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে। বস্তুতঃ তারা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন দাঁড়ায়, একান্ত শিথিল ভাবে লোক দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يُخَادِعُونَ — প্রতারণা করে, ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে।
  • خَادِعُهُمْ — তাদের প্রতারক (অর্থাৎ তাদের প্রতারণার শাস্তিদাতা)।
  • كُسَالَى — অলসভাবে, শৈথিল্যের সাথে, অনিচ্ছা সহকারে।
  • يُرَاءُونَ — লোক দেখানো (রিয়া) করে, মানুষের প্রশংসা লাভের উদ্দেশ্যে কাজ করে।
  • قَلِيلًا — অল্প, সামান্য।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

মুনাফিকরা মনে করে তারা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে পারবে। তারা মুখে ঈমান প্রকাশ করে, কিন্তু অন্তরে কুফরী লুকিয়ে রাখে। তারা ভাবে, তাদের এই দ্বৈত আচরণ আল্লাহর অজ্ঞাত থাকবে। অথচ আল্লাহ তাদের এই প্রতারণার সম্পূর্ণ খবর রাখেন এবং তাদেরকে তাদের প্রতারণারই উপযুক্ত শাস্তি দেবেন। অর্থাৎ, দুনিয়ায় তিনি তাদের জান-মাল নিরাপদ রাখেন, কিন্তু আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিনতম আযাব। এটি তাদের প্রতারণারই প্রতিফল।

আর যখন তারা নামাযে দাঁড়ায়, তখন তারা অলসতা ও অনীহার সাথে দাঁড়ায়। তাদের অন্তরে নামাযের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই, তারা একে বোঝা মনে করে। তারা নামায পড়ে শুধু মানুষের দেখানোর জন্য, যাতে লোকেরা তাদেরকে মুসলিম মনে করে সম্মান করে। তারা আল্লাহর স্মরণ করে খুবই অল্প, শুধু লোক দেখানোর জন্য অল্প কিছুক্ষণ। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, "যদি তারা এই অল্প যিকরটুকুও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করত, তবে তা তাদের জন্য অনেক হয়ে যেত।" কিন্তু তাদের নিয়ত শুদ্ধ না হওয়ায় সামান্য যিকরও তাদের কোনো উপকারে আসে না।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহকে কেউ ধোঁকা দিতে পারে না। তিনি অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কেও সম্পূর্ণ অবগত। তাই আমাদের উচিত সর্বদা অন্তর ও বাহিরকে একই রকম পবিত্র রাখা, এবং আল্লাহর সাথে কোনো প্রকার প্রতারণা করা থেকে বিরত থাকা।
  2. নামায ও ইবাদতের মূল চাবিকাঠি হলো নিষ্ঠা (ইখলাস)। মানুষের দেখানো বা প্রশংসা লাভের জন্য করা ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটি বড় গুনাহ। তাই প্রতিটি আমল যেন কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হয়।
  3. অলসতা ও অনীহা সহকারে নামায পড়া মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য। মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো নামাযের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা থাকা, এবং তা আন্তরিকতা ও মনোযোগের সাথে আদায় করা।
  4. আল্লাহর যিকর অল্প হলেও তা যদি আন্তরিক হয়, তবে তা অনেক মূল্যবান। কিন্তু যিকর মুখে করলেও অন্তর যদি উদাসীন থাকে, তবে তা কোনো ফল বয়ে আনে না। তাই আমাদের উচিত অন্তরের সাথে যিকর করা এবং তা নিয়মিত করার চেষ্টা করা।
  5. এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, চেহারায় ইসলাম প্রকাশ করা কিন্তু অন্তরে কুফরী বা বিদ্বেষ পোষণ করা — এটি মারাত্মক অপরাধ। মুমিনের উচিত সত্যপরায়ণ ও স্বচ্ছ হওয়া, যাতে তার অন্তর ও বাহির একই রকম হয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 140-144 — আন-নিসা

140وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ إِنَّكُمْ إِذًا مِّثْلُهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا
আর কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন আল্লাহ তা’ আলার আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মত হয়ে যাবে। আল্লাহ দোযখের মাঝে মুনাফেক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন।
141الَّذِينَ يَتَرَبَّصُونَ بِكُمْ فَإِن كَانَ لَكُمْ فَتْحٌ مِّنَ اللَّهِ قَالُوا أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ وَإِن كَانَ لِلْكَافِرِينَ نَصِيبٌ قَالُوا أَلَمْ نَسْتَحْوِذْ عَلَيْكُمْ وَنَمْنَعْكُم مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ ۚ فَاللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ وَلَن يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلًا
এরা এমনি মুনাফেক যারা তোমাদের কল্যাণ-অকল্যাণের প্রতীক্ষায় ওঁৎপেতে থাকে। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় তোমাদের যদি কোন বিজয় অর্জিত হয়, তবে তারা বলে, আমরাও কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? পক্ষান্তরে কাফেরদের যদি আংশিক বিজয় হয়, তবে বলে, আমরা কি তোমাদেরকে ঘিরে রাখিনি এবং মুসলমানদের কবল থেকে রক্ষা করিনি? সুতরাং আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কেয়ামতের দিন মীমাংসা করবেন এবং কিছুতেই আল্লাহ কাফেরদেরকে মুসলমানদের উপর বিজয় দান করবেন না।
142إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَىٰ يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا
অবশ্যই মুনাফেকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে, অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে। বস্তুতঃ তারা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন দাঁড়ায়, একান্ত শিথিল ভাবে লোক দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।
143مُّذَبْذَبِينَ بَيْنَ ذَٰلِكَ لَا إِلَىٰ هَٰؤُلَاءِ وَلَا إِلَىٰ هَٰؤُلَاءِ ۚ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُ سَبِيلًا
এরা দোদুল্যমান অবস্থায় ঝুলন্ত; এদিকেও নয় ওদিকেও নয়। বস্তুতঃ যাকে আল্লাহ গোমরাহ করে দেন, তুমি তাদের জন্য কোন পথই পাবে না কোথাও।
144يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۚ أَتُرِيدُونَ أَن تَجْعَلُوا لِلَّهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا مُّبِينًا
হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে?
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
142আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 142

সূরা আন-নিসা আয়াত 142 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অবশ্যই মুনাফেকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে, অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের…

সূরা আয়াত 142/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 140–144. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না