আন-নিসা · 165/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
رُّسُلًا مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا ۝١٦٥
Rusulam mubashshireena wa munzireena li`allaa yakoona linnaasi `alal laahi hujjatum ba`dar Rusul; wa kaanallaahu `Azeezan Hakeema
📖 বাংলা অর্থ
সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারী রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশীল, প্রাজ্ঞ।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مُبَشِّرِينَ — সুসংবাদদাতা (যারা ঈমানদারদের জান্নাতের সুসংবাদ দেন)
  • مُنذِرِينَ — ভয় প্রদর্শনকারী (যারা কাফিরদের আযাবের ভয় দেখান)
  • حُجَّةٌ — অজুহাত বা দলিল-প্রমাণ
  • عَزِيزًا — পরাক্রমশালী, অপরাজেয়
  • حَكِيمًا — প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ

তাফসির (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি তাঁর পূর্ণ অনুগ্রহ ও দয়াবশতঃ যুগে যুগে বহু রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁদেরকে পাঠানো হয়েছে দুইটি প্রধান দায়িত্ব দিয়ে—একটি হলো সুসংবাদদাতা হিসেবে, যারা ঈমান আনয়নকারীদের জন্য জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির সুসংবাদ ঘোষণা করবেন; আর অন্যটি হলো সতর্ককারী হিসেবে, যারা কুফরি ও পাপাচারে লিপ্তদের জন্য আল্লাহর আযাব ও শাস্তির ভয় দেখাবেন।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো—মানুষ যেন কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে কোনো অজুহাত পেশ করতে না পারে। অর্থাৎ, তারা যেন না বলতে পারে, “হে আমাদের রব! আপনি আমাদের কাছে কোনো রাসূল পাঠাননি, আমরা আপনার নির্দেশ জানতাম না, তাই আমাদের শাস্তি দেওয়া অন্যায়।” রাসূলগণের প্রেরণের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের কাছে দলিল-প্রমাণ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। এরপর যে ব্যক্তি ঈমান আনবে, সে নিজের মঙ্গলের জন্যই আনবে; আর যে কুফরি করবে, সে নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনবে।

আর আল্লাহ তাআলা عَزِيزًا (পরাক্রমশালী)—তিনি তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাউকে জয়ী হতে দেন না, তাঁর ক্ষমতার কোনো সীমা নেই; এবং حَكِيمًا (প্রজ্ঞাময়)—তিনি যা কিছুই করেন, নিখুঁত প্রজ্ঞা ও সুদূরপ্রসারী কল্যাণের ভিত্তিতে করেন। রাসূল প্রেরণের এই ব্যবস্থাও তাঁর অসীম প্রজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ, যাতে মানুষের কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে যায় এবং তাদের জন্য কোনো অজুহাত অবশিষ্ট না থাকে।

গৃহীত শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর রহমত ও দয়া অপরিসীম—তিনি মানুষকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় ছেড়ে দেননি, বরং তাদের হিদায়াতের জন্য রাসূল পাঠিয়ে সত্যের পথ দেখিয়েছেন। এটি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিরাট কারণ।
  2. ইসলামের দৃষ্টিতে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার মূলনীতি অত্যন্ত সুস্পষ্ট—যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের কাছে সত্যের বাণী পৌঁছানো না হয়, ততক্ষণ তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি চাপিয়ে দেওয়া হয় না। এটি ইসলামের ন্যায়পরায়ণতার উজ্জ্বল প্রমাণ।
  3. রাসূলগণের আগমন প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি কখনো অবিচার করেন না; বরং তিনি প্রতিটি জাতির কাছে তাদের ভাষায় ও তাদের বোধগম্য উপায়ে হিদায়াতের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
  4. এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়—যে ব্যক্তি সত্য জানার পরও তা অমান্য করে, তার কোনো অজুহাত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূলের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
  5. আল্লাহর গুণাবলি আযীযহাকীম আমাদের মনে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি করে যে, তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিখুঁত এবং তাঁর প্রতিটি বিধান মানবজাতির জন্য কল্যাণকর। তাই তাঁর আদেশ মেনে চলাই আমাদের সাফল্যের চাবিকাঠি।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 163-167 — আন-নিসা

163۞ إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَىٰ نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِن بَعْدِهِ ۚ وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَعِيسَىٰ وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ ۚ وَآتَيْنَا دَاوُودَ زَبُورًا
আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি, যেমন করে ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের প্রতি এবং সে সমস্ত নবী-রসূলের প্রতি যাঁরা তাঁর পরে প্রেরিত হয়েছেন। আর ওহী পাঠিয়েছি, ইসমাঈল, ইব্রাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব, ও তাঁর সন্তাবর্গের প্রতি এবং ঈসা, আইয়ুব, ইউনূস, হারুন ও সুলায়মানের প্রতি। আর আমি দাউদকে দান করেছি যবুর গ্রন্থ।
164وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِن قَبْلُ وَرُسُلًا لَّمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ ۚ وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَىٰ تَكْلِيمًا
এছাড়া এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাইনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে কথোপকথন করেছেন সরাসরি।
165رُّسُلًا مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا
সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারী রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশীল, প্রাজ্ঞ।
166لَّٰكِنِ اللَّهُ يَشْهَدُ بِمَا أَنزَلَ إِلَيْكَ ۖ أَنزَلَهُ بِعِلْمِهِ ۖ وَالْمَلَائِكَةُ يَشْهَدُونَ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ شَهِيدًا
আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তিনি যে তা সজ্ঞানেই করেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহ নিজেও সাক্ষী এবং ফেরেশতাগণও সাক্ষী। আর সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
167إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَن سَبِيلِ اللَّهِ قَدْ ضَلُّوا ضَلَالًا بَعِيدًا
যারা কুফরী অবলম্বন করেছে, এবং আল্লাহর পথে বাধার সৃষ্টি করেছে, তারা বিভ্রান্তিতে সুদূরে পতিত হয়েছে।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
165আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 165

সূরা আন-নিসা আয়াত 165 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারী রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের পরে আল্লাহর…

সূরা আয়াত 165/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 163–167. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না