Wa Rusulan qad qasas naahum `alaika min qablu wa Rusulal lam naqsushum `alaik; wa kallamallaahu Moosaa takleemaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এছাড়া এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাইনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে কথোপকথন করেছেন সরাসরি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जिनका हाल हमने तुमसे पहले ही बयान कर दिया और बहुत से ऐसे रसूल (भेजे) जिनका हाल तुमसे बयान नहीं किया और ख़ुदा ने मूसा से (बहुत सी) बातें भी कीं
এছাড়া এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাইনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে কথোপকথন করেছেন সরাসরি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
قَصَصْنَاهُمْ – আমরা তাদের বিবরণ তোমার কাছে বর্ণনা করেছি।
لَمْ نَقْصُصْهُمْ – আমরা তাদের বিবরণ তোমার কাছে বর্ণনা করিনি।
تَكْلِيمًا – সরাসরি কথা বলা, যা বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি এমন অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি যাদের বিবরণ পূর্ববর্তী সূরাসমূহে বা এই সূরার পূর্ববর্তী অংশে তোমার (মুহাম্মাদ ﷺ) কাছে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন— নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা (আলাইহিমুস সালাম) প্রমুখ। আর আমি এমনও অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি যাদের বিবরণ তোমার কাছে বর্ণনা করিনি; এটা আমার পক্ষ থেকে এক বিশেষ প্রজ্ঞা ও হিকমতের কারণে। কারণ সব রাসূলের বিবরণ বর্ণনা করা তোমার জন্য ও উম্মতের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল না; বরং যে পরিমাণে প্রয়োজন ছিল তা বর্ণনা করা হয়েছে।
এরপর আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সম্মান ও মর্যাদা ঘোষণা করে বলেন, আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন— কোনো মাধ্যম ছাড়াই, যা তার জন্য এক বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বাস্তব ও সত্য কথা বলা, যা তাঁর নিজস্ব গুণ। এতে আল্লাহর জন্য "কلام" (কথা বলা) গুণটি সাব্যস্ত হয়— যা তাঁর শান ও মর্যাদার উপযোগী, কোনো সৃষ্টির মতো নয়। এ আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা সত্যিই কথা বলেন, এবং তিনি মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে সরাসরি সম্বোধন করে কথা বলেছেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অনেক রাসূল প্রেরণ করেছেন; তাদের সবার প্রতি ঈমান আনা প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক। কুরআনে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং যাদের উল্লেখ করা হয়নি— সবার প্রতি আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে।
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কিছু বিষয় গোপন রাখা তাঁরই ইচ্ছা ও প্রজ্ঞার অংশ; আমাদের জন্য তা জেনে নেওয়া জরুরি নয়।
আল্লাহ তাআলার সাথে কথা বলার সম্মান মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেওয়া হয়েছে, যা তার বিশেষ মর্যাদার পরিচায়ক। এটি মুমিনদের জন্য অনুপ্রেরণা যে, আল্লাহর নৈকট্য ও তাঁর সাথে সম্পর্ক স্থাপনই সর্বোচ্চ সৌভাগ্য।
আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস রাখা জরুরি— তিনি কথা বলেন, তিনি শোনেন, তিনি দেখেন— কিন্তু তাঁর কোনো গুণই সৃষ্টির গুণের মতো নয়। এ বিশ্বাসই মুমিনের ঈমানকে পরিশুদ্ধ করে।
রাসূলগণ সকলেই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত এবং তাঁদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা আমাদের ঈমানের অংশ।
কিন্তু যারা তাদের মধ্যে জ্ঞানপক্ক ও ঈমানদার, তারা তাও মান্য করে যা আপনার উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার পূর্বে। আর যারা নামাযে অনুবর্তিতা পালনকারী, যারা যাকাত দানকারী এবং যারা আল্লাহ ও কেয়ামতে আস্থাশীল। বস্তুতঃ এমন লোকদেরকে আমি দান করবো মহাপুণ্য।
আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি, যেমন করে ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের প্রতি এবং সে সমস্ত নবী-রসূলের প্রতি যাঁরা তাঁর পরে প্রেরিত হয়েছেন। আর ওহী পাঠিয়েছি, ইসমাঈল, ইব্রাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব, ও তাঁর সন্তাবর্গের প্রতি এবং ঈসা, আইয়ুব, ইউনূস, হারুন ও সুলায়মানের প্রতি। আর আমি দাউদকে দান করেছি যবুর গ্রন্থ।
এছাড়া এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাইনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে কথোপকথন করেছেন সরাসরি।
সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারী রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশীল, প্রাজ্ঞ।
আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তিনি যে তা সজ্ঞানেই করেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহ নিজেও সাক্ষী এবং ফেরেশতাগণও সাক্ষী। আর সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।