Fa ammal lazeena aamanoo wa `amilus saalihaati fa yuwaffeehim ujoorahum wa yazeeduhum min fadlihee wa ammal lazeenas tankafoo wastakbaroo fa yu`azzibuhum `azaaban aleemanw wa laa yajidoona lahum min doonil laahi waliyyanw wa laa naseeraa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তিনি তাদেরকে পরিপূর্ণ সওয়াব দান করবেন, বরং স্বীয় অনুগ্রহে আরো বেশী দেবেন। পক্ষান্তরে যারা লজ্জাবোধ করেছে এবং অহঙ্কার করেছে তিনি তাদেরকে দেবেন বেদনাদায়ক আযাব। আল্লাহকে ছাড়া তারা কোন সাহায্যকারী ও সমর্থক পাবে না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
पस जिन लोगों ने ईमान कुबूल किया है और अच्छे (अच्छे) काम किए हैं उनका उन्हें सवाब पूरा पूरा भर देगा बल्कि अपने फ़ज़ल (व करम) से कुछ और ज्यादा ही देगा और लोग उसका बन्दा होने से इन्कार करते थे और शेख़ी करते थे उन्हें तो दर्दनाक अज़ाब में मुब्तिला करेगा और लुत्फ़ ये है कि वह लोग ख़ुदा के सिवा न अपना सरपरस्त ही पाएंगे और न मददगार
অতঃপর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তিনি তাদেরকে পরিপূর্ণ সওয়াব দান করবেন, বরং স্বীয় অনুগ্রহে আরো বেশী দেবেন। পক্ষান্তরে যারা লজ্জাবোধ করেছে এবং অহঙ্কার করেছে তিনি তাদেরকে দেবেন বেদনাদায়ক আযাব। আল্লাহকে ছাড়া তারা কোন সাহায্যকারী ও সমর্থক পাবে না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
اسْتَنْكَفُوا — অহংকারবশত দূরে সরে থাকা, নিজেকে বড় মনে করা, ইবাদত করতে লজ্জাবোধ করা।
اسْتَكْبَرُوا — অহংকার করা, আল্লাহর আনুগত্যের সামনে মাথা নত না করা।
أَلِيمًا — অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, বেদনাদায়ক।
وَلِيًّا — বন্ধু, অভিভাবক, সাহায্যকারী।
نَصِيرًا — রক্ষাকারী, সহায়তা প্রদানকারী।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে মানুষের দুটি দলকে তাদের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
প্রথম দল হলো মুমিন ও সৎকর্মশীলগণ — যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর রাসূলদের উপর, এবং ঈমানের দাবি অনুযায়ী সৎকর্ম করেছে — অর্থাৎ, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খাঁটি নিয়তে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দেখানো পথ অনুযায়ী ভালো কাজ করেছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন, কোনো কিছু কম করবেন না। শুধু তাই নয়, তিনি তাদেরকে অতিরিক্ত অনুগ্রহ দান করবেন — যা তাদের কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, এবং কোনো মানুষের কল্পনাতেও আসেনি। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ দান ও করুণা।
দ্বিতীয় দল হলো অহংকারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব্যক্তিগণ — যারা আল্লাহর ইবাদত করতে লজ্জাবোধ করেছে, নিজেদেরকে বড় মনে করেছে, এবং আল্লাহর সামনে বিনয়ী হতে অস্বীকার করেছে। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। সেই দিন তাদের জন্য আল্লাহ ছাড়া কোনো বন্ধু (ওলী) থাকবে না যে তাদের উপকার করতে পারবে, এবং কোনো সাহায্যকারী (নাসীর) থাকবে না যে তাদের থেকে ক্ষতি দূর করতে পারবে। তারা সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় শাস্তির সম্মুখীন হবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ঈমান ও সৎকর্মের সমন্বয়ই সাফল্যের চাবিকাঠি। শুধু মুখে ঈমান বলা যথেষ্ট নয়, কর্মেও তা প্রমাণ করতে হয়।
আল্লাহর দান অপরিসীম — তিনি শুধু প্রতিদানই দেন না, বরং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দেন। এটি মুমিনের জন্য আশার বাণী।
অহংকার ও আত্মম্ভরিতা মানুষের ধ্বংসের মূল কারণ। আল্লাহর সামনে বিনয়ী হওয়াই শ্রেষ্ঠ গুণ।
কিয়ামতের দিন কোনো বন্ধু বা সাহায্যকারী কারো কাজে আসবে না — শুধু আল্লাহর রহমতই একমাত্র ভরসা।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার ক্ষমতা, পদমর্যাদা বা সম্পদ যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর সামনে সবাই সমান — একমাত্র তাকওয়া ও আনুগত্যই মর্যাদার মাপকাঠি।
হে আহলে-কিতাবগণ! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর শানে নিতান্ত সঙ্গত বিষয় ছাড়া কোন কথা বলো না। নিঃসন্দেহে মরিয়ম পুত্র মসীহ ঈসা আল্লাহর রসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি প্রেরণ করেছেন মরিয়মের নিকট এবং রূহ-তাঁরই কাছ থেকে আগত। অতএব, তোমরা আল্লাহকে এবং তার রসূলগণকে মান্য কর। আর একথা বলো না যে, আল্লাহ তিনের এক, একথা পরিহার কর; তোমাদের মঙ্গল হবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ একক উপাস্য। সন্তান-সন্ততি হওয়াটা তাঁর যোগ্য বিষয় নয়। যা কিছু আসমান সমূহ ও যমীনে রয়েছে সবই তার। আর কর্মবিধানে আল্লাহই যথেষ্ট।
মসীহ আল্লাহর বান্দা হবেন, তাতে তার কোন লজ্জাবোধ নেই এবং ঘনিষ্ঠ ফেরেশতাদেরও না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর দাসত্বে লজ্জাবোধ করবে এবং অহংকার করবে, তিনি তাদের সবাইকে নিজের কাছে সমবেত করবেন।
অতঃপর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তিনি তাদেরকে পরিপূর্ণ সওয়াব দান করবেন, বরং স্বীয় অনুগ্রহে আরো বেশী দেবেন। পক্ষান্তরে যারা লজ্জাবোধ করেছে এবং অহঙ্কার করেছে তিনি তাদেরকে দেবেন বেদনাদায়ক আযাব। আল্লাহকে ছাড়া তারা কোন সাহায্যকারী ও সমর্থক পাবে না।
অতএব, যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাতে দৃঢ়তা অবলম্বন করেছে তিনি তাদেরকে স্বীয় রহমত ও অনুগ্রহের আওতায় স্থান দেবেন এবং নিজের দিকে আসার মত সরল পথে তুলে দেবেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।