Yaaa aiyuhal lazeena aamanooo atee`ul laaha wa atee`ur Rasoola wa ulil amri minkum fa in tanaaza`tum fee shai`in faruddoohu ilal laahi war Rasooli in kuntum tu`minoona billaahi wal yawmil Aakhir; zaalika khairunw wa ahsanu taaweelaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ ईमानदारों ख़ुदा की इताअत करो और रसूल की और जो तुममें से साहेबाने हुकूमत हों उनकी इताअत करो और अगर तुम किसी बात में झगड़ा करो पस अगर तुम ख़ुदा और रोज़े आख़िरत पर ईमान रखते हो तो इस अम्र में ख़ुदा और रसूल की तरफ़ रूजू करो यही तुम्हारे हक़ में बेहतर है और अन्जाम की राह से बहुत अच्छा है
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أُولِي الْأَمْرِ – তোমাদের মধ্যকার শাসকগণ, নেতৃবৃন্দ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ।
تَنَازَعْتُمْ – তোমরা কোনো বিষয়ে মতভেদ করলে, দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে।
رُدُّوهُ – তাকে ফিরিয়ে দাও, ন্যস্ত করো।
تَأْوِيلًا – পরিণাম, ফলাফল, শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে।
তাফসীর:
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করো এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলো। আর তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর আনুগত্য করো, কারণ রাসূলের আনুগত্য আসলে আল্লাহরই আনুগত্য। আর তোমাদের মধ্যকার শাসক, নেতা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আনুগত্য করো — তবে শর্ত হলো, তারা যতক্ষণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আদেশ না দেয়। যদি তারা আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ দেয়, তবে সে ক্ষেত্রে তাদের কথা মানা যাবে না।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: যদি তোমরা কোনো বিষয়ে মতভেদ করো — দ্বীনি বা দুনিয়াবি যেকোনো বিষয়েই হোক — তাহলে সেই বিরোধের মীমাংসা করো আল্লাহর কিতাব (কুরআন) এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহর মাধ্যমে। রাসূল (সা.)-এর জীবদ্দশায় তাঁর কাছে ফিরে যাবে এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুন্নাহ ও হাদীসের দিকে ফিরে যাবে। এই নির্দেশই ঈমানের দাবি — যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহ ও আখিরাতের দিনের প্রতি ঈমান রাখো। কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি প্রকৃত ঈমান রাখে, সে কখনো কুরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো সমাধান খোঁজে না।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন: এই যে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়া — এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং এর পরিণামও অত্যন্ত সুন্দর। কারণ নিজেদের মতামত ও প্রবৃত্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী চলাই উত্তম এবং এর ফলাফলও অধিক সুন্দর ও স্থায়ী।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মুমিনের জীবনে সর্বোচ্চ আনুগত্য হলো আল্লাহর — এরপর রাসূল (সা.)-এর — আর এরপর বৈধ শাসক ও নেতাদের। এই ধারাবাহিকতা ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তি।
শাসক বা নেতার আনুগত্য শর্তসাপেক্ষ — তারা যতক্ষণ আল্লাহর বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আদেশ দেয়। আল্লাহর নাফরমানির আদেশে কারো আনুগত্য জায়েয নয়।
মতভেদ ও দ্বন্দ্ব মানবজীবনের বাস্তবতা; কিন্তু সমাধানের পথ একটিই — কুরআন ও সুন্নাহ। নিজেদের মতামত, গোত্রপ্রীতি বা ব্যক্তিগত স্বার্থকে বিচারক বানানো ঈমানের পরিপন্থী।
কুরআন-সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়াই একমাত্র নিরাপদ পথ — এর পরিণাম দুনিয়াতেও শান্তি এবং আখিরাতেও মুক্তি। যারা এই পথ অনুসরণ করে, তারা কখনো পথভ্রষ্ট হয় না।
প্রকৃত ঈমানের পরিচয় হলো — বিপদ-সংকট ও মতভেদের মুহূর্তে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশকেই চূড়ান্ত মান্য করা। যে ব্যক্তি এতে দ্বিধা করে, তার ঈমান অসম্পূর্ণ।
আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, অবশ্য আমি প্রবিষ্ট করাব তাদেরকে জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহর সমূহ। সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। সেখানে তাদের জন্য থাকবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্ত্রীগণ। তাদেরকে আমি প্রবিষ্ট করব ঘন ছায়া নীড়ে।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।
আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়।
আর যখন আপনি তাদেরকে বলবেন, আল্লাহর নির্দেশের দিকে এসো-যা তিনি রসূলের প্রতি নাযিল করেছেন, তখন আপনি মুনাফেকদিগকে দেখবেন, ওরা আপনার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরে যাচ্ছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।