আন-নিসা · 60/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَن يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا ۝٦٠
Alam tara ilal lazeena yaz`umoona annahum aarmanoo bimaa unzilaa ilaika wa maaa unzila min qablika yureedoona ai yatahaakamooo ilat Taaghooti wa qad umirooo ai yakfuroo bih, wa yureedush Shaitaanu ai yudillahum dalaalam ba`eedaa
📖 বাংলা অর্থ
আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • الطَّاغُوتِ (তাগুত): আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে মানুষের তৈরি সেই বিধান বা শাসকব্যবস্থা, যা আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধে চলে এবং মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিচ্যুত করে।
  • يَتَحَاكَمُوا (ইয়াতাহাকামু): নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের মীমাংসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিধান বা আদালতের কাছে যাওয়া।
  • ضَلَالًا بَعِيدًا (দালালান বাঈদা): সত্য পথ থেকে এত দূরে সরে যাওয়া যে, আর ফিরে আসার পথ খুঁজে না পাওয়া।

তাফসির:

হে নবী! আপনি কি দেখছেন না তাদের অবস্থা, যারা মিথ্যা দাবি করে যে, তারা ঈমান এনেছে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে (কুরআন) এবং আপনার পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে (তাওরাত, ইনজিল ইত্যাদি)? অথচ তারা যখন নিজেদের মধ্যে কোনো বিবাদ বা ঝগড়া হয়, তখন তারা আল্লাহর বিধানের দিকে ফিরে যায় না, বরং তাগুতের দিকে যেতে চায় — অর্থাৎ সেই শাসক, বিধান বা রীতিনীতির দিকে যা আল্লাহর আইনের বিপরীত। অথচ তাদেরকে স্পষ্টভাবে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন তাগুতকে অস্বীকার করে এবং তার কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকে। কিন্তু তারা সেই আদেশ অমান্য করে তাগুতের দিকে ধাবিত হয়। এটা তাদের মুনাফেকির প্রমাণ, কারণ ঈমানের দাবি এবং তাগুতের দিকে যাওয়া একসাথে হতে পারে না। শয়তান চায় তাদেরকে সত্য পথ থেকে এমন দূরে সরিয়ে দিতে যে, তারা আর কোনোদিন হিদায়াতের আলো দেখতে পাবে না — এটাই তাদের জন্য চরম পথভ্রষ্টতা।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. প্রকৃত ঈমানের অর্থ হলো আল্লাহর বিধানকে সর্বোচ্চ মান্য করা এবং জীবনের প্রতিটি বিষয়ে তার কাছেই ফিরে যাওয়া। যে ব্যক্তি মুখে ঈমান দাবি করে কিন্তু আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে মানুষের তৈরি আইন বা অন্য কোনো ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেয়, তার ঈমান সত্য নয়।
  2. মুসলিমের জন্য কোনো বিবাদ-সংঘাত হলে প্রথম ও শেষ আশ্রয় হওয়া উচিত কুরআন ও সুন্নাহ। অন্য কোনো আদালত বা ব্যবস্থায় গিয়ে মীমাংসা চাওয়া ঈমানের পরিপন্থী।
  3. শয়তান মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। সে মানুষকে ধীরে ধীরে সত্য পথ থেকে সরিয়ে এমন গভীর পথভ্রষ্টতায় নিয়ে যায়, যেখান থেকে ফিরে আসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমাদের সর্বদা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলাম শুধু নামাজ-রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজের বিচার-ব্যবস্থা, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি — সবকিছুতে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা মুমিনের দায়িত্ব। যে ব্যক্তি আল্লাহর আইনের পরিবর্তে অন্য আইনকে এগিয়ে দেয়, সে নিজের ঈমানকে দুর্বল করে ফেলে।
  5. আল্লাহর আদেশ অমান্য করে শয়তানের অনুসরণ করলে মানুষ ধীরে ধীরে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, সত্য তার কাছে অসত্য এবং অসত্য সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। তাই আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, যাতে আমরা শয়তানের প্রতারণার শিকার না হই।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 58-62 — আন-নিসা

58۞ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ ۚ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا
নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।
59يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ ۖ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।
60أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَن يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا
আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়।
61وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَىٰ مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُودًا
আর যখন আপনি তাদেরকে বলবেন, আল্লাহর নির্দেশের দিকে এসো-যা তিনি রসূলের প্রতি নাযিল করেছেন, তখন আপনি মুনাফেকদিগকে দেখবেন, ওরা আপনার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরে যাচ্ছে।
62فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَاءُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا
এমতাবস্থায় যদি তাদের কৃতকর্মের দরুন বিপদ আরোপিত হয়, তবে তাতে কি হল! অতঃপর তারা আপনার কাছে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে খেয়ে ফিরে আসবে যে, মঙ্গল ও সম্প্রীতি ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
60আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 60

সূরা আন-নিসা আয়াত 60 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার…

সূরা আয়াত 60/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 58–62. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না