Maaa asaabaka min hasanatin faminal laahi wa maaa asaaabaka min saiyi`atin famin nafsik; wa arsalnaaka linnaasi Rasoolaa; wa kafaa billaahi Shaheedaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আপনার যে কল্যাণ হয়, তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আর আপনার যে অকল্যাণ হয়, সেটা হয় আপনার নিজের কারণে। আর আমি আপনাকে পাঠিয়েছি মানুষের প্রতি আমার পয়গামের বাহক হিসাবে। আর আল্লাহ সব বিষয়েই যথেষ্ট-সববিষয়ই তাঁর সম্মুখে উপস্থিত।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
हालॉकि (सच तो यूं है कि) जब तुमको कोई फ़ायदा पहुंचे तो (समझो कि) ख़ुदा की तरफ़ से है और जब तुमको कोई फ़ायदा पहुंचे तो (समझो कि) ख़ुद तुम्हारी बदौलत है और (ऐ रसूल) हमने तुमको लोगों के पास पैग़म्बर बनाकर भेजा है और (इसके लिए) ख़ुदा की गवाही काफ़ी है
আপনার যে কল্যাণ হয়, তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আর আপনার যে অকল্যাণ হয়, সেটা হয় আপনার নিজের কারণে। আর আমি আপনাকে পাঠিয়েছি মানুষের প্রতি আমার পয়গামের বাহক হিসাবে। আর আল্লাহ সব বিষয়েই যথেষ্ট-সববিষয়ই তাঁর সম্মুখে উপস্থিত।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
حَسَنَةٍ (হাসানাহ): ভালো জিনিস, সুখ-শান্তি, রিজিক, সন্তান ইত্যাদি যা মানুষের জন্য কল্যাণকর।
سَیِّئَةٍ (সাইয়্যিআহ): খারাপ জিনিস, দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ, ক্ষতি ইত্যাদি।
مِن نَّفْسِكَ (মিন নাফসিকা): তোমার নিজের পক্ষ থেকে, অর্থাৎ তোমার নিজের কাজের কারণে।
شَهِیدًا (শাহিদান): সাক্ষী, প্রমাণদাতা।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে মানুষ! তোমার জীবনে যা কিছু ভালো ঘটে—সুস্থতা, সম্পদ, সন্তান, শান্তি—সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার ফল। আল্লাহই এসব নিয়ামত দান করেন। আর তোমার জীবনে যা কিছু খারাপ ঘটে—দারিদ্র্য, রোগ, বিপদ, দুঃখ—তা তোমার নিজের কৃতকর্মের ফল। তোমার পাপ, গুনাহ, অন্যায় ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই এসব বিপদ তোমাকে স্পর্শ করে। আল্লাহ কখনো বান্দার প্রতি জুলুম করেন না; বান্দা নিজেই নিজের ক্ষতি করে।
আর হে নবী! আমরা তোমাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য রাসূল করে পাঠিয়েছি। তুমি সবার কাছে আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেবে। তোমার সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী। তিনি তোমাকে যে মুজিযা, প্রজ্ঞা ও সত্য দ্বীন দিয়েছেন, তা-ই তোমার সত্যতার প্রমাণ বহন করে। তোমার উপর দায়িত্ব শুধু পৌঁছে দেওয়া; হিদায়াত দেওয়া আল্লাহর কাজ।
শিক্ষা ও উপদেশ:
প্রতিটি ভালো জিনিসের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত, কারণ সব কল্যাণ তাঁরই দান।
খারাপ পরিস্থিতিতে নিজের ভুল-ত্রুটি খোঁজা উচিত, অন্যকে দোষারোপ না করে আত্মসমালোচনা করা ইসলামের শিক্ষা।
বিপদ-আপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি নয়, বরং এটি বান্দার জন্য সতর্কবার্তা ও ক্ষমার সুযোগ—যেন সে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
নবী (সা.)-এর রিসালাত সর্বজনীন; তাঁর শিক্ষা শুধু একটি গোত্র বা যুগের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ।
আল্লাহর সাক্ষ্যই যথেষ্ট; কোনো কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকলে মানুষের সমালোচনা বা প্রশংসা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তুমি কি সেসব লোককে দেখনি, যাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তোমরা নিজেদের হাতকে সংযত রাখ, নামায কায়েম কর এবং যাকাত দিতে থাক? অতঃপর যখন তাদের প্রতি জেহাদের নির্দেশ দেয়া হল, তৎক্ষণাৎ তাদের মধ্যে একদল লোক মানুষকে ভয় করতে আরম্ভ করল, যেমন করে ভয় করা হয় আল্লাহকে। এমন কি তার চেয়েও অধিক ভয়। আর বলতে লাগল, হায় পালনকর্তা, কেন আমাদের উপর যুদ্ধ ফরজ করলে! আমাদেরকে কেন আরও কিছুকাল অবকাশ দান করলে না। ( হে রসূল) তাদেরকে বলে দিন, পার্থিব ফায়দা সীমিত। আর আখেরাত পরহেযগারদের জন্য উত্তম। আর তোমাদের অধিকার একটি সূতা পরিমান ও খর্ব করা হবে না।
তোমরা যেখানেই থাক না কেন; মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভেতরেও অবস্থান কর, তবুও। বস্তুতঃ তাদের কোন কল্যাণ সাধিত হলে তারা বলে যে, এটা সাধিত হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি তাদের কোন অকল্যাণ হয়, তবে বলে, এটা হয়েছে তোমার পক্ষ থেকে, বলে দাও, এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। পক্ষান্তরে তাদের পরিণতি কি হবে, যারা কখনও কোন কথা বুঝতে চেষ্টা করে না।
আপনার যে কল্যাণ হয়, তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আর আপনার যে অকল্যাণ হয়, সেটা হয় আপনার নিজের কারণে। আর আমি আপনাকে পাঠিয়েছি মানুষের প্রতি আমার পয়গামের বাহক হিসাবে। আর আল্লাহ সব বিষয়েই যথেষ্ট-সববিষয়ই তাঁর সম্মুখে উপস্থিত।
যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।
আর তারা বলে, আপনার আনুগত্য করি। অতঃপর আপনার নিকট থেকে বেরিয়ে গেলেই তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ পরামর্শ করে রাতের বেলায় সে কথার পরিপন্থী যা তারা আপনার সাথে বলেছিল। আর আল্লাহ লিখে নেন, সে সব পরামর্শ যা তারা করে থাকে। সুতরাং আপনি তাদের ব্যাপারে নিস্পৃহতা অবলম্বন করুন এবং ভরসা করুন আল্লাহর উপর, আল্লাহ হলেন যথেষ্ট ও কার্যসম্পাদনকারী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।