Man yuti`ir Rasoola faqad ataa`al laaha wa man tawallaa famaaa arsalnaaka `alaihim hafeezaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जिसने रसूल की इताअत की तो उसने ख़ुदा की इताअत की और जिसने रूगरदानी की तो तुम कुछ ख्याल न करो (क्योंकि) हमने तुम को पासबान (मुक़र्रर) करके तो भेजा नहीं है
যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ – যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করে।
فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ – সে যেন আল্লাহরই আনুগত্য করল।
وَمَنْ تَوَلَّى – আর যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নেয় (আনুগত্য থেকে বিমুখ হয়)।
حَفِيظًا – রক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক, যে কারও কাজ পর্যবেক্ষণ করে।
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে ঘোষণা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করা আসলে আল্লাহরই আনুগত্য। কারণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলেন না; তিনি যা কিছু বলেন, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহির মাধ্যমে বলেন। তিনি যা আদেশ করেন, তা আল্লাহরই আদেশ; আর যা থেকে নিষেধ করেন, তা আল্লাহরই নিষেধ। তাই যে ব্যক্তি রাসূলের আদেশ পালন করে এবং তার নিষেধ থেকে বিরত থাকে, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর আদেশ পালন করল এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকল।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন, যারা আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং ইসলামের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না। আপনার দায়িত্ব শুধু পৌঁছে দেওয়া; আপনি তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক বা রক্ষক নিযুক্ত হননি, যারা তাদের প্রতিটি কাজের হিসাব নেবেন। তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহরই কাছে। আল্লাহই তাদের কাজ সংরক্ষণ করেন এবং তাদেরকে যথাযথ প্রতিদান দেবেন। আপনার কর্তব্য কেবল দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া, আর হিদায়াত দেওয়া আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্যেরই অংশ। কারণ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত এবং তার কথা-কাজ সবই ওহিভিত্তিক। তাই যে ব্যক্তি রাসূলকে মেনে চলে, সে যেন আল্লাহকেই মেনে চলল।
এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। কুরআন ও সুন্নাহ উভয়ই অনুসরণ করা ঈমানের দাবি।
দাওয়াতের কাজে ব্যর্থতা বা মানুষের বিরোধিতা দেখে হতাশ হওয়া উচিত নয়। দায়িত্ব শুধু সত্য পৌঁছে দেওয়া; ফলাফল আল্লাহর হাতে। এই শিক্ষা প্রতিটি দাঈকে ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করে।
মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির সাথে দাওয়াত দেওয়া উচিত, কিন্তু কাউকে জোর করে ঈমান আনার চেষ্টা করা উচিত নয়। হিদায়াত আল্লাহর হাতে।
এই আয়াত মুমিনদের জন্য সুসংবাদ যে, রাসূলের অনুসরণের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করে। এটি তাদেরকে রাসূলের পথে চলতে আরও উৎসাহিত করে।
তোমরা যেখানেই থাক না কেন; মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভেতরেও অবস্থান কর, তবুও। বস্তুতঃ তাদের কোন কল্যাণ সাধিত হলে তারা বলে যে, এটা সাধিত হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি তাদের কোন অকল্যাণ হয়, তবে বলে, এটা হয়েছে তোমার পক্ষ থেকে, বলে দাও, এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। পক্ষান্তরে তাদের পরিণতি কি হবে, যারা কখনও কোন কথা বুঝতে চেষ্টা করে না।
আপনার যে কল্যাণ হয়, তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আর আপনার যে অকল্যাণ হয়, সেটা হয় আপনার নিজের কারণে। আর আমি আপনাকে পাঠিয়েছি মানুষের প্রতি আমার পয়গামের বাহক হিসাবে। আর আল্লাহ সব বিষয়েই যথেষ্ট-সববিষয়ই তাঁর সম্মুখে উপস্থিত।
যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।
আর তারা বলে, আপনার আনুগত্য করি। অতঃপর আপনার নিকট থেকে বেরিয়ে গেলেই তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ পরামর্শ করে রাতের বেলায় সে কথার পরিপন্থী যা তারা আপনার সাথে বলেছিল। আর আল্লাহ লিখে নেন, সে সব পরামর্শ যা তারা করে থাকে। সুতরাং আপনি তাদের ব্যাপারে নিস্পৃহতা অবলম্বন করুন এবং ভরসা করুন আল্লাহর উপর, আল্লাহ হলেন যথেষ্ট ও কার্যসম্পাদনকারী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।