আন-নিসা · 82/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا ۝٨٢
Afalaa yatadabbaroonal Qur`aan; wa law kaana min `indi ghairil laahi la wajadoo fee hikh tilaafan kaseeraa
📖 বাংলা অর্থ
এরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতো অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يَتَدَبَّرُونَ – গভীর চিন্তা-ভাবনা করা, মনোযোগ সহকারে অনুধাবন করা।
  • اخْتِلَافًا – বিরোধ, অসঙ্গতি, পরস্পরবিরোধী কথা।
  • كَثِيرًا – প্রচুর, বহু।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের কাছে একটি যুক্তিনিষ্ঠ প্রশ্ন তুলেছেন—তারা কি কুরআনকে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে পড়ে না? যদি তারা সত্যিই মনোযোগ সহকারে কুরআন অধ্য�়ন করত, তাহলে তারা নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারত যে, এটি কোনো মানুষের রচনা নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। কারণ, কুরআনের প্রতিটি বিষয়, প্রতিটি নির্দেশনা, প্রতিটি ঘটনার বর্ণনা এবং প্রতিটি বিধান এমন সুসংহত ও সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে যে, এর মধ্যে কোথাও কোনো দ্বন্দ্ব বা অসঙ্গতি নেই।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, যদি এই কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে আসত, যেমন—কোনো মানুষের রচনা বা কোনো কবির কল্পনা, তাহলে এর মধ্যে অবশ্যই অনেক বিরোধ ও অসঙ্গতি পাওয়া যেত। কারণ, মানুষের জ্ঞান ও বুদ্ধি সীমিত; সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মতামতও বদলায়, ফলে মানুষের রচনায় স্বাভাবিকভাবেই দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। কিন্তু কুরআন মাজিদ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে, প্রায় ২৩ বছর ধরে অবতীর্ণ হয়েছে, অথচ এর কোনো অংশের সাথে অন্য অংশের কোনো বিরোধ নেই, কোনো বিষয়ই অন্য বিষয়কে বাতিল করে না, বরং সবকিছু একে অপরের পরিপূরক।

এই আয়াতটি কুরআনের সত্যতা প্রমাণের একটি যুক্তিগ্রাহ্য দলিল। যারা কুরআন সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে, তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা যদি মনে করে এটি আল্লাহর বাণী নয়, তাহলে তারা যেন এর মধ্যে কোনো অসঙ্গতি বা দ্বন্দ্ব খুঁজে দেখায়। কিন্তু কিয়ামত পর্যন্ত কেউই তা করতে পারবে না।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. কুরআনকে শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়, বরং গভীর চিন্তা-ভাবনা ও অনুধাবনের জন্য পড়া প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। কুরআন যত বেশি চিন্তা করে পড়া হবে, এর সত্যতা ও মাহাত্ম্য তত বেশি স্পষ্ট হবে।
  2. কুরআনের কোনো অংশে কোনো প্রকার দ্বন্দ্ব বা অসঙ্গতি নেই—এটিই এর আল্লাহর বাণী হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এই প্রমাণ যেকোনো চিন্তাশীল মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করে।
  3. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলাম ধর্ম যুক্তি ও প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম কখনো অন্ধবিশ্বাসের দাবি করে না, বরং মানুষকে চিন্তা-ভাবনা করার আহ্বান জানায়।
  4. কুরআনের এই অমোঘ যুক্তি প্রতিটি যুগের মানুষের জন্য প্রযোজ্য। যারা সত্যের সন্ধানী, তারা কুরআন অধ্য�়ন করলে হেদায়েত পাবে, ইনশাআল্লাহ।
  5. কুরআনের প্রতি গভীর মনোযোগ ও চিন্তা-ভাবনা ঈমানকে মজবুত করে এবং অন্তরকে প্রশান্তি দেয়।


📜 আয়াত 80-84 — সূরা আন-নিসা

80مَّن يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ ۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا
যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।
81وَيَقُولُونَ طَاعَةٌ فَإِذَا بَرَزُوا مِنْ عِندِكَ بَيَّتَ طَائِفَةٌ مِّنْهُمْ غَيْرَ الَّذِي تَقُولُ ۖ وَاللَّهُ يَكْتُبُ مَا يُبَيِّتُونَ ۖ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَكِيلًا
আর তারা বলে, আপনার আনুগত্য করি। অতঃপর আপনার নিকট থেকে বেরিয়ে গেলেই তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ পরামর্শ করে রাতের বেলায় সে কথার পরিপন্থী যা তারা আপনার সাথে বলেছিল। আর আল্লাহ লিখে নেন, সে সব পরামর্শ যা তারা করে থাকে। সুতরাং আপনি তাদের ব্যাপারে নিস্পৃহতা অবলম্বন করুন এবং ভরসা করুন আল্লাহর উপর, আল্লাহ হলেন যথেষ্ট ও কার্যসম্পাদনকারী।
82أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا
এরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতো অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।
83وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ ۖ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَىٰ أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنبِطُونَهُ مِنْهُمْ ۗ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا
আর যখন তাদের কছে পৌঁছে কোন সংবাদ শান্তি-সংক্রান্ত কিংবা ভয়ের, তখন তারা সেগুলোকে রটিয়ে দেয়। আর যদি সেগুলো পৌঁছে দিত রসূল পর্যন্ত কিংবা তাদের শাসকদের পর্যন্ত, তখন অনুসন্ধান করে দেখা যেত সেসব বিষয়, যা তাতে রয়েছে অনুসন্ধান করার মত। বস্তুতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা যদি তোমাদের উপর বিদ্যমান না থাকত তবে তোমাদের অল্প কতিপয় লোক ব্যতীত সবাই শয়তানের অনুসরণ করতে শুরু করত!
84فَقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفْسَكَ ۚ وَحَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ عَسَى اللَّهُ أَن يَكُفَّ بَأْسَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ وَاللَّهُ أَشَدُّ بَأْسًا وَأَشَدُّ تَنكِيلًا
আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করতে থাকুন, আপনি নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ের যিম্মাদার নন! আর আপনি মুসলমানদেরকে উৎসাহিত করতে থাকুন। শীঘ্রই আল্লাহ কাফেরদের শক্তি-সামর্থ খর্ব করে দেবেন। আর আল্লাহ শক্তি-সামর্থের দিক দিয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন শাস্তিদাতা।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
82আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 82

সূরা আন-নিসা আয়াত 82 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি…

সূরা আয়াত 82/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 80–84. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না