আন-নিসা · 87/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۗ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا ۝٨٧
Allaahu laaa ilaaha illaa huwa la yajma`annakum ilaa Yawmil Qiyaamati laa raiba feeh; wa man asdaqu mminallaahi hadeesaa
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ ব্যতীত আর কোনোই উপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সমবেত করবেন কেয়ামতের দিন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাছাড়া আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা আর কার হবে!

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَيَجْمَعَنَّكُمْ — অবশ্যই তিনি তোমাদের একত্র করবেন (এখানে ‘لام’ হলো কসম বা শপথের জন্য, অর্থাৎ আল্লাহর শপথ করে বলা হচ্ছে)।
  • إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ — কিয়ামতের দিন পর্যন্ত, অর্থাৎ কবর থেকে উঠিয়ে হিসাবের জন্য একত্র করা।
  • لَا رَيْبَ فِيهِ — এতে কোনো সন্দেহ নেই।
  • حَدِيثًا — কথা, বাণী বা ঘোষণা।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা একক সত্তা, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের একমাত্র রব, মালিক এবং ইলাহ। তাঁর কোনো শরিক নেই। এই ঘোষণার পর আল্লাহ তাআলা শপথ করে বলেছেন যে, তিনি অবশ্যই তোমাদের সকলকে—আদম (আঃ) থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে আগত প্রত্যেক মানুষকে—কিয়ামতের দিন একত্র করবেন। সেদিন তোমাদেরকে কবর থেকে জীবিত করে উঠানো হবে এবং তোমাদের সকল কাজের হিসাব নেওয়া হবে। এই দিনটি এমন সত্য ও নিশ্চিত যে, এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। যারা এতে সন্দেহ করে, তারা মূলত আল্লাহর ক্ষমতা ও ওয়াদাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে, কিন্তু বাস্তবে তা কখনো মিথ্যা হতে পারে না।

এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহর চেয়ে বেশি সত্যবাদী কথা আর কার হতে পারে? আল্লাহর প্রতিটি ঘোষণা, প্রতিটি ওয়াদা এবং প্রতিটি খবর শতভাগ সত্য। তিনি যা বলেছেন, তা অবশ্যই ঘটবে। মানুষের কথা মাঝে মাঝে মিথ্যা হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কথা কখনো মিথ্যা হয় না। তাই তাঁর এই ওয়াদা—কিয়ামতের দিন একত্র হওয়া—অবশ্যম্ভাবী।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. তাওহীদ বা একত্ববাদই ইসলামের মূল ভিত্তি। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—এই বিশ্বাসই মুমিনের জীবনের ভিত্তিপ্রস্তর।
  2. কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস প্রতিটি মুমিনের জন্য অপরিহার্য। এই বিশ্বাস মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে, কারণ সে জানে তার প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে।
  3. আল্লাহর ওয়াদা শতভাগ সত্য। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা রাখা উচিত। তিনি যা বলেছেন, তা অবশ্যই পূরণ করবেন।
  4. এই আয়াত মানুষকে পরকালমুখী জীবন গড়তে উৎসাহিত করে। যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিনের হিসাবকে সত্য মনে করে, সে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখের পেছনে ছুটে নিজের আখিরাতকে ধ্বংস করে না।
  5. আল্লাহর বাণীই সবচেয়ে সত্য ও নির্ভরযোগ্য। তাই কুরআন ও সুন্নাহকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। মানুষের কথা বা মতামত যতই যুক্তিসঙ্গত মনে হোক না কেন, আল্লাহর বাণীর বিপরীতে তা গ্রহণযোগ্য নয়।


📜 আয়াত 85-89 — আন-নিসা

85مَّن يَشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةً يَكُن لَّهُ نَصِيبٌ مِّنْهَا ۖ وَمَن يَشْفَعْ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُن لَّهُ كِفْلٌ مِّنْهَا ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ مُّقِيتًا
যে লোক সৎকাজের জন্য কোন সুপারিশ করবে, তা থেকে সেও একটি অংশ পাবে। আর যে লোক সুপারিশ করবে মন্দ কাজের জন্যে সে তার বোঝারও একটি অংশ পাবে। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
86وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا
আর তোমাদেরকে যদি কেউ দোয়া করে, তাহলে তোমরাও তার জন্য দোয়া কর; তারচেয়ে উত্তম দোয়া অথবা তারই মত ফিরিয়ে বল। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী।
87اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۗ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا
আল্লাহ ব্যতীত আর কোনোই উপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সমবেত করবেন কেয়ামতের দিন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাছাড়া আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা আর কার হবে!
88۞ فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ وَاللَّهُ أَرْكَسَهُم بِمَا كَسَبُوا ۚ أَتُرِيدُونَ أَن تَهْدُوا مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ ۖ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُ سَبِيلًا
অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের মন্দ কাজের কারনে! তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না।
89وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً ۖ فَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ أَوْلِيَاءَ حَتَّىٰ يُهَاجِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ ۖ وَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا
তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
87আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 87

সূরা আন-নিসা আয়াত 87 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ ব্যতীত আর কোনোই উপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সমবেত…

সূরা আয়াত 87/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 85–89. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না