আশ-শুরা · 42/53
অনুবাদ উচ্চারণ — আশ-শুরা
إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَظْلِمُونَ النَّاسَ وَيَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ ۚ أُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ۝٤٢
Innamas sabeelu `alal lazeena yazlimoonan naasa wa yabghoona fil ardi bighairil haqq; ulaaa`ika lahum `azaabun aleem
📖 বাংলা অর্থ
অভিযোগ কেবল তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের উপর অত্যাচার চালায় এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি শব্দের অর্থ:

  • সাবীল (السبيل): এখানে দোষারোপ, পাকড়াও বা শাস্তির পথ।
  • ইয়াবগূন (يبغون): সীমালঙ্ঘন করা, অত্যাচার করা, বিদ্রোহাচরণ করা।
  • বিগাইরিল হাক্ক (بغير الحق): অন্যায়ভাবে, কোনো বৈধ কারণ ছাড়া।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রকৃত দোষ ও পাকড়াও কেবল তাদেরই উপর রয়েছে, যারা মানুষের উপর জুলুম করে এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করে। অর্থাৎ, যারা মানুষের জান-মাল-ইজ্জতের উপর অত্যাচার করে, তাদের প্রাপ্য অধিকার খর্ব করে, এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে — দাম্ভিকতা ও অহংকারবশত আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে। তাদের জন্যই কিয়ামতের দিন রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এই শাস্তি তাদের জুলুম ও সীমালঙ্ঘনেরই ন্যায়সঙ্গত প্রতিফল। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয় (সমান পরিমাণে), তার উপর কোনো দোষ নেই। দোষ শুধু তাদেরই, যারা নিজেরা অত্যাচার শুরু করে এবং জমিনে অন্যায়ভাবে ফাসাদ ছড়ায়।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা ন্যায়বিচার ও ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত। কাউকে জুলুম করা বা কারো হক নষ্ট করা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।
  2. দুর্বল ও অসহায় মানুষের প্রতি অত্যাচার আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। এর শাস্তি শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও কঠিন।
  3. একজন মুমিনের চরিত্র হবে নম্র, বিনয়ী ও সহনশীল। অহংকার ও দাম্ভিকতা মানুষকে অন্যায়ের দিকে ঠেলে দেয়।
  4. ইসলাম অত্যাচারকে প্রশ্রয় দেয় না, তবে প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষেত্রেও সীমা অতিক্রম করতে নিষেধ করে। ন্যায়পরায়ণতা ও ক্ষমাই উত্তম পথ।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, পরকালের সফলতা নির্ভর করে দুনিয়ায় আমাদের আমল ও আচরণের উপর। যে ব্যক্তি মানুষের হক নষ্ট করল, সে যত ইবাদতই করুক না কেন, আল্লাহর দরবারে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।


📜 আয়াত 40-44 — আশ-শুরা

40وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا ۖ فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ
আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। যে ক্ষমা করে ও আপোষ করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে; নিশ্চয় তিনি অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন নাই।
41وَلَمَنِ انتَصَرَ بَعْدَ ظُلْمِهِ فَأُولَٰئِكَ مَا عَلَيْهِم مِّن سَبِيلٍ
নিশ্চয় যে অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে, তাদের বিরুদ্ধেও কোন অভিযোগ নেই।
42إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَظْلِمُونَ النَّاسَ وَيَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ ۚ أُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
অভিযোগ কেবল তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের উপর অত্যাচার চালায় এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
43وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ
অবশ্যই যে সবর করে ও ক্ষমা করে নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।
44وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن وَلِيٍّ مِّن بَعْدِهِ ۗ وَتَرَى الظَّالِمِينَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ يَقُولُونَ هَلْ إِلَىٰ مَرَدٍّ مِّن سَبِيلٍ
আল্লাহ যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তার জন্যে তিনি ব্যতীত কোন কার্যনির্বাহী নেই। পাপাচারীরা যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন আপনি তাদেরকে দেখবেন যে, তারা বলছে আমাদের ফিরে যাওয়ার কোন উপায় আছে কি?
আশ-শুরাকুরআন সূচী
53আয়াত
মাক্কীRevelation
42আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুরা 42

সূরা আশ-শুরা আয়াত 42 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অভিযোগ কেবল তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের উপর অত্যাচার চালায় এবং…

সূরা আয়াত 42/53 — আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আশ-শুরা শুনুন, আশ-শুরা অনুবাদ, আশ-শুরা mp3, আশ-শুরা pdf. আয়াত 40–44. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না