আল-মুজাদালা · 4/22
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মুজাদালা
فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِن قَبْلِ أَن يَتَمَاسَّا ۖ فَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ۚ ذَٰلِكَ لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۗ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ ۝٤
Famal lam yajid fa siyaamu shahraini mutataabi`ayni min qabli any-yatamaaassaa famal lam yastati` fa-it`aamu sitteena miskeena; zaalika litu`minoo billaahi wa rasoolih`wa tilka hudoodul laah; wa lilkaafireena `azaabun aleem
📖 বাংলা অর্থ
যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ষাট জন মিসকীনকে আহার করাবে। এটা এজন্যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণা দায়ক আযাব।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَمْ يَجِدْ — খুঁজে না পাওয়া, সামর্থ্য না থাকা।
  • مُتَتَابِعَيْنِ — একটানা, বিরতি ছাড়া পরপর।
  • يَتَمَاسَّا — স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস করা (শারীরিক মিলন)।
  • لَا يَسْتَطِعْ — সক্ষম না হওয়া, অক্ষম হওয়া।
  • حُدُودُ اللَّهِ — আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা, আইন।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

যে ব্যক্তি দাস-দাসী মুক্ত করার সামর্থ্য রাখে না, তার ওপর ওয়াজিব হলো পরপর দুই মাস রোজা রাখা—তার আগে পর্যন্ত নয়, যতক্ষণ না সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে। অর্থাৎ, এই রোজা শুরু করার পর সহবাস করা যাবে না; যদি সহবাস করে ফেলে, তাহলে রোজা ভেঙে যায় এবং আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। তবে রমজান মাস, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং তাশরিকের দিনগুলোতে এই রোজা রাখা যাবে না।

আর যে ব্যক্তি দুই মাস একটানা রোজা রাখতেও সক্ষম নয়—যেমন গুরুতর অসুস্থতা বা এমন দুর্বলতা যা তাকে রোজা রাখতে বাধা দেয়—সে ক্ষেত্রে তার ওপর ওয়াজিব হলো ষাটজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো, যাতে তারা পরিতৃপ্ত হয়।

এই বিধানগুলো আল্লাহ তাআলা এজন্য দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, তাঁর আদেশ মেনে চলো এবং জাহিলিয়াতের যুগের ভুল প্রথা পরিত্যাগ করো। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, যা লঙ্ঘন করা হারাম। যারা এই বিধান মানতে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর সীমা অতিক্রম করে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।


ফায়দা (শিক্ষা ও উপদেশ):

  1. ইসলাম ধীরে ধীরে কঠিন থেকে সহজের দিকে বিধান দিয়েছে। দাস মুক্তির সামর্থ্য না থাকলে রোজা, আর রোজার সামর্থ্য না থাকলে খাদ্য দান—এভাবে প্রতিটি স্তরে মানুষের সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। এটি ইসলামের সহজতা ও মানবতার প্রতি গভীর দয়ার প্রমাণ।
  2. এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলাম স্ত্রীর মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় অত্যন্ত যত্নবান। স্ত্রীকে মায়ের সাথে তুলনা করার মতো জঘন্য প্রথা ইসলাম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে এবং এর জন্য কঠোর কাফফারা নির্ধারণ করেছে।
  3. আল্লাহর সীমারেখা মেনে চলা মুমিনের কর্তব্য। ইসলামের প্রতিটি বিধান মানুষের কল্যাণের জন্যই—তা আমরা বুঝি বা না বুঝি, তা মেনে চলা ঈমানের দাবি।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ভুল করলে শুধু অনুতপ্ত হলেই হয় না; বরং ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। এটি আমাদের দায়িত্বশীল করে তোলে এবং সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।
  5. যারা আল্লাহর বিধানকে তুচ্ছ করে এবং সীমা লঙ্ঘন করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির সতর্কবার্তা। এটি আমাদের আল্লাহর আদেশের প্রতি বিনয়ী ও অনুগত হওয়ার শিক্ষা দেয়।


📜 আয়াত 2-6 — সূরা আল-মুজাদালা

2الَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنكُم مِّن نِّسَائِهِم مَّا هُنَّ أُمَّهَاتِهِمْ ۖ إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّائِي وَلَدْنَهُمْ ۚ وَإِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنكَرًا مِّنَ الْقَوْلِ وَزُورًا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌ
তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা কেবল তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।
3وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِن نِّسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِّن قَبْلِ أَن يَتَمَاسَّا ۚ ذَٰلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِ ۚ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, অতঃপর নিজেদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা এই একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসকে মুক্তি দিবে। এটা তোমাদের জন্যে উপদেশ হবে। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর।
4فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِن قَبْلِ أَن يَتَمَاسَّا ۖ فَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ۚ ذَٰلِكَ لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۗ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ
যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ষাট জন মিসকীনকে আহার করাবে। এটা এজন্যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণা দায়ক আযাব।
5إِنَّ الَّذِينَ يُحَادُّونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ كُبِتُوا كَمَا كُبِتَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ وَقَدْ أَنزَلْنَا آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ ۚ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُّهِينٌ
যারা আল্লাহর তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা অপদস্থ হয়েছে, যেমন অপদস্থ হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীরা। আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
6يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا ۚ أَحْصَاهُ اللَّهُ وَنَسُوهُ ۚ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ
সেদিন স্মরণীয়; যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, অতঃপর তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যা তারা করত। আল্লাহ তার হিসাব রেখেছেন, আর তারা তা ভুলে গেছে। আল্লাহর সামনে উপস্থিত আছে সব বস্তুই।
আল-মুজাদালাকুরআন সূচী
22আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
4আয়াত

অনুবাদ — আল-মুজাদালা 4

সূরা আল-মুজাদালা আয়াত 4 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে…

সূরা আয়াত 4/22 — সূরা আল-মুজাদালা المجادلة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মুজাদালা শুনুন, সূরা আল-মুজাদালা অনুবাদ, সূরা আল-মুজাদালা mp3, সূরা আল-মুজাদালা pdf. আয়াত 2–6. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না