Famal lam yajid fa siyaamu shahraini mutataabi`ayni min qabli any-yatamaaassaa famal lam yastati` fa-it`aamu sitteena miskeena; zaalika litu`minoo billaahi wa rasoolih`wa tilka hudoodul laah; wa lilkaafireena `azaabun aleem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ষাট জন মিসকীনকে আহার করাবে। এটা এজন্যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণা দায়ক আযাব।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
फिर जिसको ग़ुलाम न मिले तो दोनों की मुक़ारबत के क़ब्ल दो महीने के पै दर पै रोज़े रखें और जिसको इसकी भी क़ुदरत न हो साठ मोहताजों को खाना खिलाना फर्ज़ है ये (हुक्म इसलिए है) ताकि तुम ख़ुदा और उसके रसूल की (पैरवी) तसदीक़ करो और ये ख़ुदा की मुक़र्रर हदें हैं और काफ़िरों के लिए दर्दनाक अज़ाब है
যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ষাট জন মিসকীনকে আহার করাবে। এটা এজন্যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণা দায়ক আযাব।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لَمْ يَجِدْ — খুঁজে না পাওয়া, সামর্থ্য না থাকা।
مُتَتَابِعَيْنِ — একটানা, বিরতি ছাড়া পরপর।
يَتَمَاسَّا — স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস করা (শারীরিক মিলন)।
যে ব্যক্তি দাস-দাসী মুক্ত করার সামর্থ্য রাখে না, তার ওপর ওয়াজিব হলো পরপর দুই মাস রোজা রাখা—তার আগে পর্যন্ত নয়, যতক্ষণ না সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে। অর্থাৎ, এই রোজা শুরু করার পর সহবাস করা যাবে না; যদি সহবাস করে ফেলে, তাহলে রোজা ভেঙে যায় এবং আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। তবে রমজান মাস, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং তাশরিকের দিনগুলোতে এই রোজা রাখা যাবে না।
আর যে ব্যক্তি দুই মাস একটানা রোজা রাখতেও সক্ষম নয়—যেমন গুরুতর অসুস্থতা বা এমন দুর্বলতা যা তাকে রোজা রাখতে বাধা দেয়—সে ক্ষেত্রে তার ওপর ওয়াজিব হলো ষাটজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো, যাতে তারা পরিতৃপ্ত হয়।
এই বিধানগুলো আল্লাহ তাআলা এজন্য দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, তাঁর আদেশ মেনে চলো এবং জাহিলিয়াতের যুগের ভুল প্রথা পরিত্যাগ করো। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, যা লঙ্ঘন করা হারাম। যারা এই বিধান মানতে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর সীমা অতিক্রম করে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
ফায়দা (শিক্ষা ও উপদেশ):
ইসলাম ধীরে ধীরে কঠিন থেকে সহজের দিকে বিধান দিয়েছে। দাস মুক্তির সামর্থ্য না থাকলে রোজা, আর রোজার সামর্থ্য না থাকলে খাদ্য দান—এভাবে প্রতিটি স্তরে মানুষের সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। এটি ইসলামের সহজতা ও মানবতার প্রতি গভীর দয়ার প্রমাণ।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলাম স্ত্রীর মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় অত্যন্ত যত্নবান। স্ত্রীকে মায়ের সাথে তুলনা করার মতো জঘন্য প্রথা ইসলাম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে এবং এর জন্য কঠোর কাফফারা নির্ধারণ করেছে।
আল্লাহর সীমারেখা মেনে চলা মুমিনের কর্তব্য। ইসলামের প্রতিটি বিধান মানুষের কল্যাণের জন্যই—তা আমরা বুঝি বা না বুঝি, তা মেনে চলা ঈমানের দাবি।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ভুল করলে শুধু অনুতপ্ত হলেই হয় না; বরং ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। এটি আমাদের দায়িত্বশীল করে তোলে এবং সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।
যারা আল্লাহর বিধানকে তুচ্ছ করে এবং সীমা লঙ্ঘন করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির সতর্কবার্তা। এটি আমাদের আল্লাহর আদেশের প্রতি বিনয়ী ও অনুগত হওয়ার শিক্ষা দেয়।
তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা কেবল তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।
যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, অতঃপর নিজেদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা এই একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসকে মুক্তি দিবে। এটা তোমাদের জন্যে উপদেশ হবে। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর।
যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ষাট জন মিসকীনকে আহার করাবে। এটা এজন্যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণা দায়ক আযাব।
যারা আল্লাহর তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা অপদস্থ হয়েছে, যেমন অপদস্থ হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীরা। আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
সেদিন স্মরণীয়; যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, অতঃপর তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যা তারা করত। আল্লাহ তার হিসাব রেখেছেন, আর তারা তা ভুলে গেছে। আল্লাহর সামনে উপস্থিত আছে সব বস্তুই।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।