Wa kazaalika zaiyana likaseerim minal mushrikeena qatla awlaadihim shurakaaa`uhum liyurdoohum wa liyalbisoo `alaihim deenahum wa law shaaa`al laahu maa fa`aloohu fazarhum wa maa yaftaroon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এমনিভাবে অনেক মুশরেকের দৃষ্টিতে তাদের উপাস্যরা সন্তান হত্যাকে সুশোভিত করে দিয়েছে যেন তারা তাদেরকে বিনষ্ট করে দেয় এবং তাদের ধর্মমতকে তাদের কাছে বিভ্রান্ত করে দেয়। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না। অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মনগড়া বুলিকে পরিত্যাগ করুন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ताकि उन्हें (बदी) हलाकत में डाल दें और उनके सच्चे दीन को उन पर मिला जुला दें और अगर ख़ुदा चाहता तो लोग ऐसा काम न करते तो तुम (ऐ रसूल) और उनकी इफ़तेरा परदाज़ियों को (ख़ुदा पर) छोड़ दो और ये लोग अपने ख्याल के मुवाफिक कहने लगे कि ये चौपाए और ये खेती अछूती है
لِيُرْدُوهُمْ — যাতে তাদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
وَلِيَلْبِسُوا — এবং যাতে তাদের ধর্মকে混淆 (মিশ্রিত) ও বিভ্রান্ত করে দেয়।
يَفْتَرُونَ — মিথ্যা রচনা করে, আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দেয়।
তাফসীর:
যেভাবে শয়তান মুশরিকদের জন্য আল্লাহর সৃষ্ট ফসল ও পশুসম্পদে আল্লাহর অংশ এবং তাদের দেব-দেবীর অংশ নির্ধারণ করা সুন্দর করে দেখিয়েছিল, ঠিক তেমনি শয়তানরা অনেক মুশরিকের কাছে তাদের সন্তানদের হত্যা করাকে সুন্দর ও যুক্তিসঙ্গত করে তুলে ধরেছিল। তারা দারিদ্র্যের ভয় দেখিয়ে বাবাদেরকে তাদের নিজ সন্তান—বিশেষত কন্যা সন্তান—জীবন্ত কবর দেওয়া বা হত্যা করাকে আকর্ষণীয় করে দেখাত। এর মাধ্যমে শয়তানরা তাদেরকে দুটি বড় ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিত: এক. নিরপরাধ মানুষ হত্যা, যা আল্লাহ হারাম করেছেন; দুই. তাদের ধর্মকে এমনভাবে বিকৃত ও বিভ্রান্ত করা যে তারা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে না পারত, হালাল-হারাম সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়ে যেত।
আল্লাহ বলেন, যদি আল্লাহ চাইতেন যে তারা এ কাজ না করুক, তবে তারা তা করতে পারত না। কিন্তু আল্লাহ তাঁর চিরন্তন জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী তাদের এই কাজ পূর্বনির্ধারিত রেখেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন তাদের অন্তর মিথ্যার প্রতি ঝুঁকে পড়বে এবং তারা সত্য গ্রহণ করবে না। তাই হে নবী! আপনি তাদেরকে তাদের মিথ্যা অপবাদ ও মনগড়া কথা বলতে দিন, তাদের ব্যাপারে চিন্তা করবেন না। আল্লাহ তাদের হিসাব নেওয়ার জন্য যথেষ্ট, এবং তিনি তাদের সকল অপকর্মের প্রতিদান দেবেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
শয়তান মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। সে মানুষের কাছে খারাপ কাজকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে, এমনকি নিজের সন্তান হত্যার মতো জঘন্য কাজকেও যুক্তিসঙ্গত দেখায়। তাই প্রতিটি কাজে শয়তানের প্ররোচনা থেকে সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী চলা জরুরি।
সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিকের সাথে আসে। দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তান হত্যা করা বা জন্ম নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে তাদের প্রতি অবহেলা করা ইসলামসম্মত নয়। আল্লাহ প্রতিটি প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছেন।
ইসলাম ধর্মকে বিকৃত করা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো শয়তানের অন্যতম কৌশল। তাই আমাদের উচিত বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞান অর্জন করা এবং কুসংস্কার, ভিত্তিহীন রীতিনীতি ও মনগড়া বিশ্বাস থেকে নিজেদের দূরে রাখা।
আল্লাহর ইচ্ছা ও পূর্বনির্ধারণের প্রতি বিশ্বাস রাখা। মানুষ যা কিছু করে তা আল্লাহর জ্ঞান ও ইচ্ছার বাইরে নয়, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মানুষ তার কর্মের জন্য দায়ী নয়। বরং মানুষ তার ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী কাজ করে এবং তার ফল ভোগ করবে।
সত্যের পথে থাকলে শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা প্রচারণা আমাদের জন্য চিন্তার কারণ হওয়া উচিত নয়। আল্লাহই যথেষ্ট রক্ষক এবং তিনি সত্যের পথে থাকা বান্দাদের সাহায্য করেন।
এমনিভাবে অনেক মুশরেকের দৃষ্টিতে তাদের উপাস্যরা সন্তান হত্যাকে সুশোভিত করে দিয়েছে যেন তারা তাদেরকে বিনষ্ট করে দেয় এবং তাদের ধর্মমতকে তাদের কাছে বিভ্রান্ত করে দেয়। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না। অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মনগড়া বুলিকে পরিত্যাগ করুন।
আপনি বলে দিনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা স্বস্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করি। অচিরেই জানতে পারবে যে, পরিণাম গৃহ কে লাভ করে। নিশ্চয় জালেমরা সুফলপ্রাপ্ত হবে না।
আল্লাহ যেসব শস্যক্ষেত্র ও জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো থেকে তারা এক অংশ আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে অতঃপর নিজ ধারণা অনুসারে বলে এটা আল্লাহর এবং এটা আমাদের অংশীদারদের। অতঃপর যে অংশ তাদের অংশীদারদের, তা তো আল্লাহর দিকে পৌঁছে না এবং যা আল্লাহর তা তাদের উপাস্যদের দিকে পৌছে যায়। তাদের বিচার কতই না মন্দ।
এমনিভাবে অনেক মুশরেকের দৃষ্টিতে তাদের উপাস্যরা সন্তান হত্যাকে সুশোভিত করে দিয়েছে যেন তারা তাদেরকে বিনষ্ট করে দেয় এবং তাদের ধর্মমতকে তাদের কাছে বিভ্রান্ত করে দেয়। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না। অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মনগড়া বুলিকে পরিত্যাগ করুন।
তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ। আমরা যাকে ইচছা করি, সে ছাড়া এগুলো কেউ খেতে পারবে না, তাদের ধারণা অনুসারে। আর কিছুসংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে আরোহন হারাম করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর উপর তারা ভ্রান্ত ধারনা বশতঃ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না, তাদের মনগড়া বুলির কারণে, অচিরেই তিনি তাদের কে শাস্তি দিবেন।
তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তুর পেটে যা আছে, তা বিশেষ ভাবে আমাদের পুরুষদের জন্যে এবং আমাদের মহিলাদের জন্যে তা হারাম। যদি তা মৃত হয়, তবে তার প্রাপক হিসাবে সবাই সমান। অচিরেই তিনি তাদেরকে তাদের বর্ণনার শাস্তি দিবেন। তিনি প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।