Wa qaaloo haaziheee an`aamunw wa harsun hijrun laa yat`amuhaaa illaa man nashaaa`u biza`mihim wa an`aamun hurrimat zuhooruhaa wa an`aamul laa yazkuroonas mal laahi `alaihaf tiraaa`an `alaih; sa yajzeehim bimaa kaanoo yaftaroon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ। আমরা যাকে ইচছা করি, সে ছাড়া এগুলো কেউ খেতে পারবে না, তাদের ধারণা অনুসারে। আর কিছুসংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে আরোহন হারাম করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর উপর তারা ভ্রান্ত ধারনা বশতঃ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না, তাদের মনগড়া বুলির কারণে, অচিরেই তিনি তাদের কে শাস্তি দিবেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
उनको सिवा उसके जिसे हम चाहें कोई नहीं खा सकता और (उनका ये भी ख्याल है) कि कुछ चारपाए ऐसे हैं जिनकी पीठ पर सवारी लादना हराम किया गया और कुछ चारपाए ऐसे है जिन पर (ज़िबह के वक्त) ख़ुदा का नाम तक नहीं लेते और फिर यह ढकोसले (ख़ुदा की तरफ मनसूब करते) हैं ये सब ख़ुदा पर इफ़तेरा व बोहतान है ख़ुदा उनके इफ़तेरा परदाज़ियों को बहुत जल्द सज़ा देगा
তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ। আমরা যাকে ইচছা করি, সে ছাড়া এগুলো কেউ খেতে পারবে না, তাদের ধারণা অনুসারে। আর কিছুসংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে আরোহন হারাম করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর উপর তারা ভ্রান্ত ধারনা বশতঃ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না, তাদের মনগড়া বুলির কারণে, অচিরেই তিনি তাদের কে শাস্তি দিবেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
حِجْرٌ — নিষিদ্ধ, হারাম।
بِزَعْمِهِمْ — তাদের মিথ্যা ধারণা ও মনগড়া কথার ভিত্তিতে।
حُرِّمَتْ ظُهُورُهَا — যেসব পশুর পিঠে চড়া বা বোঝা বহন করা হারাম করা হতো (যেমন: বাহিরা, সায়েবা, ওয়াসিলা, হামি)।
لَا يَذْكُرُونَ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا — যেসব পশু জবাই করার সময় তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করত না, বরং তাদের দেবদেবীর নাম নিত।
افْتِرَاءً — মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করা।
তাফসীর:
মুশরিকরা নিজেদের মনগড়া কিছু নিয়ম-কানুন তৈরি করে সেগুলোকে আল্লাহর নির্দেশ বলে চালিয়ে দিত। তারা বলত, “এই উট, গরু, ছাগল এবং এই শস্যক্ষেত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম)। আমাদের অনুমতি ছাড়া আর কেউ এগুলো খেতে পারবে না।” তাদের এই কথাটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া—তারা নিজেদের ইচ্ছামতো কাউকে অনুমতি দিত আর কাউকে বারণ করত, অথচ আল্লাহ তাআলা এসব কখনো হারাম করেননি।
এরপর তারা আরও কিছু পশুকে এমন ঘোষণা করত যাদের পিঠে চড়া, বোঝা বহন করা বা দুধ দোহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এগুলো তারা তাদের দেবদেবীর নামে উৎসর্গ করত। আবার কিছু পশু এমন ছিল যেগুলো জবাই করার সময় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করত না, বরং তাদের মূর্তি বা দেবদেবীর নাম নিত। এই সমস্ত কিছুই ছিল আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ—তারা দাবি করত যে, আল্লাহই এসব নির্দেশ দিয়েছেন, অথচ আল্লাহ তাআলা এসব থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও মুক্ত।
আল্লাহ তাআলা তাদের এই মিথ্যা অপবাদের কঠোর জবাব দেবেন এবং তাদের এই মনগড়া বিধান ও মিথ্যা প্রচারণার শাস্তি অবশ্যই দেবেন। তাদের এহেন আচরণ ছিল আল্লাহর বিধানকে বিকৃত করার চরম নমুনা, যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা—হালাল-হারাম নির্ধারণের একমাত্র অধিকার আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিজস্ব ইচ্ছা অনুযায়ী হালালকে হারাম বা হারামকে হালাল করার কোনো ক্ষমতা নেই।
আল্লাহর নামে মিথ্যা বলা বা তাঁর ওপর মনগড়া কথা চাপানো সবচেয়ে বড় অন্যায়। কুরআনে এটিকে ঘোরতর পাপ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসলাম মানুষকে কুসংস্কার, ভিত্তিহীন রীতিনীতি এবং মনগড়া বিধান থেকে মুক্তি দিয়ে সরল, যুক্তিসঙ্গত ও সহজ পথ দেখায়। আল্লাহ তাআলা ভালো ও পবিত্র বস্তু হালাল করেছেন এবং ক্ষতিকর ও নাপাক বস্তু হারাম করেছেন—এটাই তাঁর প্রকৃত বিধান।
প্রতিটি কাজে আল্লাহর নাম নেওয়া এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। জবাই, খাওয়া-দাওয়া, এমনকি প্রতিটি ভালো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা আমাদের ঈমানের অংশ।
যারা জেনে-বুঝে আল্লাহর বিধান বিকৃত করে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আল্লাহ কখনো অত্যাচারী ও মিথ্যাবাদীদের শাস্তি দিতে ভুলে যান না।
আল্লাহ যেসব শস্যক্ষেত্র ও জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো থেকে তারা এক অংশ আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে অতঃপর নিজ ধারণা অনুসারে বলে এটা আল্লাহর এবং এটা আমাদের অংশীদারদের। অতঃপর যে অংশ তাদের অংশীদারদের, তা তো আল্লাহর দিকে পৌঁছে না এবং যা আল্লাহর তা তাদের উপাস্যদের দিকে পৌছে যায়। তাদের বিচার কতই না মন্দ।
এমনিভাবে অনেক মুশরেকের দৃষ্টিতে তাদের উপাস্যরা সন্তান হত্যাকে সুশোভিত করে দিয়েছে যেন তারা তাদেরকে বিনষ্ট করে দেয় এবং তাদের ধর্মমতকে তাদের কাছে বিভ্রান্ত করে দেয়। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না। অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মনগড়া বুলিকে পরিত্যাগ করুন।
তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ। আমরা যাকে ইচছা করি, সে ছাড়া এগুলো কেউ খেতে পারবে না, তাদের ধারণা অনুসারে। আর কিছুসংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে আরোহন হারাম করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর উপর তারা ভ্রান্ত ধারনা বশতঃ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না, তাদের মনগড়া বুলির কারণে, অচিরেই তিনি তাদের কে শাস্তি দিবেন।
তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তুর পেটে যা আছে, তা বিশেষ ভাবে আমাদের পুরুষদের জন্যে এবং আমাদের মহিলাদের জন্যে তা হারাম। যদি তা মৃত হয়, তবে তার প্রাপক হিসাবে সবাই সমান। অচিরেই তিনি তাদেরকে তাদের বর্ণনার শাস্তি দিবেন। তিনি প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।
নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা নিজ সন্তানদেরকে নির্বুদ্ধিতাবশতঃ কোন প্রমাণ ছাড়াই হত্যা করেছে এবং আল্লাহ তাদেরকে যেসব দিয়েছিলেন, সেগুলোকে আল্লাহর প্রতি ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে হারাম করে নিয়েছে। নিশ্চিতই তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং সুপথগামী হয়নি।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।