আল-আনআম · 148/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
سَيَقُولُ الَّذِينَ أَشْرَكُوا لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا أَشْرَكْنَا وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِن شَيْءٍ ۚ كَذَٰلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ حَتَّىٰ ذَاقُوا بَأْسَنَا ۗ قُلْ هَلْ عِندَكُم مِّنْ عِلْمٍ فَتُخْرِجُوهُ لَنَا ۖ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ أَنتُمْ إِلَّا تَخْرُصُونَ ۝١٤٨
Sayaqoolul lazeena ashrakoo law shaaa`al laahu maaa ashraknaa wa laaa aabaa`unaa wa laa harramnaa min shai`; kazaalika kazzabal lazeena min qablihim hattaa zaaqoo baasanaa; qul hal `indakum min `ilmin fatukh rijoohu lanaa in tattabi`oona illaz zanna wa in antum illaa takhhrusoon
📖 বাংলা অর্থ
এখন মুশরেকরা বলবেঃ যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে না আমরা শিরক করতাম, না আমাদের বাপ দাদারা এবং না আমরা কোন বস্তুকে হারাম করতাম। এমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, এমন কি তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করেছে। আপনি বলুনঃ তোমাদের কাছে কি কোন প্রমাণ আছে যা আমাদেরকে দেখাতে পার। তোমরা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • بَأْسَنَا: আমাদের শাস্তি, আমাদের আযাব।
  • تَخْرُصُونَ: মিথ্যা বলা, অনুমানভিত্তিক কথা বলা, বানোয়াট কথা রচনা করা।

তাফসীর:

মুশরিকরা যখন দলীল-প্রমাণে পরাজিত হলো এবং তাদের শিরক ও হারাম-হালাল নির্ধারণের কোনো ভিত্তি নেই বলে প্রমাণিত হলো, তখন তারা একটি ভিত্তিহীন অজুহাত পেশ করবে। তারা বলবে, “আল্লাহ যদি চাইতেন, তাহলে আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষরা শিরক করতাম না এবং আমরা কোনো কিছু (যেমন: বাহিরা, সায়েবা ইত্যাদি) হারাম করতাম না।” অর্থাৎ তারা আল্লাহর ইচ্ছা ও তাকদীরকে অজুহাত বানিয়ে নিজেদের শিরক ও অন্যায়কে ন্যায্য প্রমাণ করতে চাইবে।

আল্লাহ তা‘আলা তাদের এই অজুহাত খণ্ডন করে বলেন, তাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলোরাও ঠিক এমনিভাবে তাদের নবীদেরকে মিথ্যা বলেছিল এবং একই ধরনের অজুহাত পেশ করেছিল। তারা এই মিথ্যা ও অজুহাতে অটল থাকতে থাকতে শেষ পর্যন্ত আমার শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করেছিল। অর্থাৎ তাদের এই অজুহাত তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারেনি।

এরপর আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ দেন, তাদেরকে বলুন: “তোমাদের কাছে কি এমন কোনো জ্ঞান বা প্রমাণ আছে যা তোমরা আমাদের সামনে পেশ করতে পারো যে, আল্লাহ তোমাদের শিরক ও হারাম-হালাল নির্ধারণের অনুমতি দিয়েছেন? তোমরা তো শুধুমাত্র অনুমান ও ধারণার অনুসরণ করছ, আর তোমরা তো কেবল মিথ্যাই বলছ।” অর্থাৎ তোমাদের এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই; এটি নিছক অনুমান, অলীক কল্পনা ও মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর ইচ্ছা ও তাকদীরকে অজুহাত বানিয়ে নিজের গুনাহ ও অন্যায়কে ন্যায্য প্রমাণ করার চেষ্টা করা একটি পুরনো কৌশল, যা যুগে যুগে সত্যের বিরোধীরা ব্যবহার করেছে। কিন্তু আল্লাহর দরবারে এই অজুহাত কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।
  2. তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস রাখা আমাদের ঈমানের অংশ, কিন্তু তা কখনো আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে অব্যাহতি দেয় না। আমরা যা করি তার জন্য আমরা দায়ী থাকব, কারণ আল্লাহ আমাদের বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন এবং সঠিক-ভুলের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন।
  3. ধর্মীয় বিষয়ে অনুমান ও ধারণার কোনো স্থান নেই। ইবাদত, হালাল-হারাম নির্ধারণসহ সকল ধর্মীয় বিষয়ে আমাদের অবশ্যই কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করতে হবে।
  4. পূর্ববর্তী জাতিগুলোর পরিণাম থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। যারা সত্যকে মিথ্যা বলেছে এবং নিজেদের ভুল পথে অটল থেকেছে, তাদের ওপর আল্লাহর শাস্তি নেমে এসেছে। তাই আমাদের উচিত সত্যকে গ্রহণ করা এবং ভুল পথ থেকে ফিরে আসা।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সত্যের পথে আহ্বানকারীদেরকে মিথ্যা অজুহাত ও ভিত্তিহীন যুক্তির মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু তাদের কর্তব্য হলো ধৈর্য ধরে দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।


📜 আয়াত 146-150 — আল-আনআম

146وَعَلَى الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا كُلَّ ذِي ظُفُرٍ ۖ وَمِنَ الْبَقَرِ وَالْغَنَمِ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ شُحُومَهُمَا إِلَّا مَا حَمَلَتْ ظُهُورُهُمَا أَوِ الْحَوَايَا أَوْ مَا اخْتَلَطَ بِعَظْمٍ ۚ ذَٰلِكَ جَزَيْنَاهُم بِبَغْيِهِمْ ۖ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ
ইহুদীদের জন্যে আমি প্রত্যেক নখবিশিষ্ট জন্তু হারাম করেছিলাম এবং ছাগল ও গরু থেকে এতদুভয়ের চর্বি আমি তাদের জন্যে হারাম করেছিলাম, কিন্তু ঐ চর্বি, যা পৃষ্টে কিংবা অন্ত্রে সংযুক্ত থাকে অথবা অস্থির সাথে মিলিত থাকে। তাদের অবাধ্যতার কারণে আমি তাদেরকে এ শাস্তি দিয়েছিলাম। আর আমি অবশ্যই সত্যবাদী।
147فَإِن كَذَّبُوكَ فَقُل رَّبُّكُمْ ذُو رَحْمَةٍ وَاسِعَةٍ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُهُ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ
যদি তারা আপনাকে মিথ্যবাদী বলে, তবে বলে দিনঃ তোমার প্রতিপালক সুপ্রশস্ত করুণার মালিক। তাঁর শাস্তি অপরাধীদের উপর থেকে টলবে না।
148سَيَقُولُ الَّذِينَ أَشْرَكُوا لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا أَشْرَكْنَا وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِن شَيْءٍ ۚ كَذَٰلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ حَتَّىٰ ذَاقُوا بَأْسَنَا ۗ قُلْ هَلْ عِندَكُم مِّنْ عِلْمٍ فَتُخْرِجُوهُ لَنَا ۖ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ أَنتُمْ إِلَّا تَخْرُصُونَ
এখন মুশরেকরা বলবেঃ যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে না আমরা শিরক করতাম, না আমাদের বাপ দাদারা এবং না আমরা কোন বস্তুকে হারাম করতাম। এমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, এমন কি তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করেছে। আপনি বলুনঃ তোমাদের কাছে কি কোন প্রমাণ আছে যা আমাদেরকে দেখাতে পার। তোমরা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল।
149قُلْ فَلِلَّهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ ۖ فَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ
আপনি বলে দিনঃ অতএব, পরিপূর্ন যুক্তি আল্লাহরই। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে পথ প্রদর্শন করতেন।
150قُلْ هَلُمَّ شُهَدَاءَكُمُ الَّذِينَ يَشْهَدُونَ أَنَّ اللَّهَ حَرَّمَ هَٰذَا ۖ فَإِن شَهِدُوا فَلَا تَشْهَدْ مَعَهُمْ ۚ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَهُم بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ
আপনি বলুনঃ তোমাদের সাক্ষীদেরকে আন, যারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তা’আলা এগুলো হারাম করেছেন। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে আপনি এ সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন না এবং তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না, যারা আমার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং যারা স্বীয় প্রতিপালকের সমতুল্য অংশীদার করে।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
148আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 148

সূরা আল-আনআম আয়াত 148 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এখন মুশরেকরা বলবেঃ যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে না আমরা…

সূরা আয়াত 148/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 146–150. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না