أَن تَقُولُوا إِنَّمَا أُنزِلَ الْكِتَابُ عَلَىٰ طَائِفَتَيْنِ مِن قَبْلِنَا وَإِن كُنَّا عَن دِرَاسَتِهِمْ لَغَافِلِينَ ١٥٦
🔤 Transliteration
An taqooloo innammaaa unzilal Kitaabu `alaa taaa`ifataini min qablinaa wa in kunnaa `an diraasatihim laghaafileen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এ জন্যে যে, কখনও তোমরা বলতে শুরু করঃ গ্রন্থ তো কেবল আমাদের পূর্ববর্তী দু'সম্প্রদায়ের প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে এবং আমরা সেগুলোর পাঠ ও পঠন সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
শব্দার্থ:
- طَائِفَتَيْنِ – দুটি দল/সম্প্রদায় (এখানে ইয়াহূদী ও নাসারা)।
- دِرَاسَتِهِمْ – তাদের (কিতাব) পাঠ/অধ্য�়ন।
- لَغَافِلِينَ – অবশ্যই গাফিল/উদাসীন (যাদের কোনো খবরই নেই)।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মাদী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি তাঁর বিরাট অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আমি এই কুরআন নাযিল করেছি, যাতে তোমরা (আরবের মুশরিকরা) না বলতে পারো যে, “আমাদের আগে কিতাব তো কেবল দুটি সম্প্রদায়ের উপরই নাযিল হয়েছিল—ইয়াহূদী ও নাসারাদের উপর। আমরা তো তাদের কিতাব পাঠ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম, আমাদের ভাষা তো তাদের ভাষা নয়, আর তাদের কিতাবও আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে আমরা কীভাবে জানবো কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়?”
অর্থাৎ, আগের উম্মতদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিল নাযিল হয়েছিল, কিন্তু তা নির্দিষ্ট কিছু জাতির ভাষায় ও তাদের জন্যই ছিল। তোমরা আরববাসী ছিলে সেই কিতাব ও তার শিক্ষা থেকে সম্পূর্ণ দূরে। তাই যদি কুরআন না আসত, তবে তোমাদের জন্য কোনো অজুহাতের সুযোগ থাকত না—তোমরা বলতে পারতে যে, আমাদের কাছে তো কোনো আসমানী কিতাবই পৌঁছেনি, তাই আমরা কীভাবে সঠিক পথ পেতাম? কিন্তু এখন কুরআন নাযিল করে আল্লাহ তোমাদের ওপর হুজ্জত (প্রমাণ) সম্পূর্ণ করে দিয়েছেন। কুরআন এমন একটি কিতাব যা তোমাদের নিজের ভাষায় (আরবি) নাযিল হয়েছে, যাতে তোমরা তা পড়তে, বুঝতে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে পারো। তাই এখন আর কোনো অজুহাতের অবকাশ নেই।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- আল্লাহর প্রতিটি নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত, বিশেষ করে কুরআন নাযিলের নিয়ামত—যা আমাদের অজ্ঞতা দূর করেছে এবং সঠিক পথ দেখিয়েছে।
- কুরআন সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ আসমানী কিতাব, যা কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য হিদায়াতের উৎস। এটি কোনো নির্দিষ্ট জাতির জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত।
- যে জাতির কাছে আল্লাহর কিতাব পৌঁছে যায়, তাদের কাছে অজুহাতের কোনো সুযোগ থাকে না। তাই আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো কুরআন পড়া, বোঝা এবং তার ওপর আমল করা।
- কুরআন আমাদের নিজের ভাষায় বা সহজলভ্য ভাষায় নাযিল হয়েছে, যাতে আমরা সহজেই তা বুঝতে পারি এবং জীবনকে তার আলোকে সাজাতে পারি—এটাই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।
- এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, জ্ঞান অর্জন ও কিতাব অধ্য্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। অজ্ঞতা কোনো অজুহাত হতে পারে না যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
📜 আয়াত 154-158 — আল-আনআম
154ثُمَّ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ تَمَامًا عَلَى الَّذِي أَحْسَنَ وَتَفْصِيلًا لِّكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لَّعَلَّهُم بِلِقَاءِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ
অতঃপর আমি মূসাকে গ্রন্থ দিয়েছি, সৎকর্মীদের প্রতি নেয়ামতপূর্ণ করার জন্যে, প্রত্যেক বস্তুর বিশদ বিবরণের জন্যে, হোদায়াতের জন্যে এবং করুণার জন্যে-যাতে তারা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতে বিশ্বাসী হয়।
155وَهَٰذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, খুব মঙ্গলময়, অতএব, এর অনুসরণ কর এবং ভয় কর-যাতে তোমরা করুণাপ্রাপ্ত হও।
156أَن تَقُولُوا إِنَّمَا أُنزِلَ الْكِتَابُ عَلَىٰ طَائِفَتَيْنِ مِن قَبْلِنَا وَإِن كُنَّا عَن دِرَاسَتِهِمْ لَغَافِلِينَ
এ জন্যে যে, কখনও তোমরা বলতে শুরু করঃ গ্রন্থ তো কেবল আমাদের পূর্ববর্তী দু'সম্প্রদায়ের প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে এবং আমরা সেগুলোর পাঠ ও পঠন সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।
157أَوْ تَقُولُوا لَوْ أَنَّا أُنزِلَ عَلَيْنَا الْكِتَابُ لَكُنَّا أَهْدَىٰ مِنْهُمْ ۚ فَقَدْ جَاءَكُم بَيِّنَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ ۚ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَذَّبَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَصَدَفَ عَنْهَا ۗ سَنَجْزِي الَّذِينَ يَصْدِفُونَ عَنْ آيَاتِنَا سُوءَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوا يَصْدِفُونَ
কিংবা বলতে শুরু করঃ যদি আমাদের প্রতি কোন গ্রন্থ অবতীর্ণ হত, আমরা এদের চাইতে অধিক পথপ্রাপ্ত হতাম। অতএব, তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সুষ্পষ্ট প্রমাণ, হেদায়েত ও রহমত এসে গেছে। অতঃপর সে ব্যক্তির চাইতে অধিক অনাচারী কে হবে, যে আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে এবং গা বাঁচিয়ে চলে। অতি সত্ত্বর আমি তাদেরকে শাস্তি দেব। যারা আমার আয়াত সমূহ থেকে গা বাঁচিয়ে চলে-জঘন্য শাস্তি তাদের গা বাঁচানোর কারণে।
158هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ ۗ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِن قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا ۗ قُلِ انتَظِرُوا إِنَّا مُنتَظِرُونَ
তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা আগমন করবে কিংবা আপনার পালনকর্তা আগমন করবেন অথবা আপনার পালনকর্তার কোন নির্দেশ আসবে। যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্থাপন তার জন্যে ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে বিশ্বাস স্থাপন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম করেনি। আপনি বলে দিনঃ তোমরা পথের দিকে চেয়ে থাক, আমরাও পথে দিকে তাকিয়ে রইলাম।
অনুবাদ — আল-আনআম 156
সূরা আল-আনআম আয়াত 156 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এ জন্যে যে, কখনও তোমরা বলতে শুরু করঃ গ্রন্থ তো…
সূরা আয়াত 156/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 154–158. বাংলা অর্থ: हिन्दी.