হে বনী-আদম, যদি তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে পয়গম্বর আগমন করে তোমাদেরকে আমার আয়াত সমূহ শুনায়, তবে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ অবলম্বন করে, তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ औलादे आदम जब तुम में के (हमारे) पैग़म्बर तुम्हारे पास आए और तुमसे हमारे एहकाम बयान करे तो (उनकी इताअत करना क्योंकि जो शख्स परहेज़गारी और नेक काम करेगा तो ऐसे लोगों पर न तो (क़यामत में) कोई ख़ौफ़ होगा और न वह आर्ज़दा ख़ातिर (परेशान) होंगे
হে বনী-আদম, যদি তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে পয়গম্বর আগমন করে তোমাদেরকে আমার আয়াত সমূহ শুনায়, তবে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ অবলম্বন করে, তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
إِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ: অর্থাৎ, যখনই তোমাদের কাছে আসবে। এটি একটি শর্তসূচক বাক্য যা ভবিষ্যতে ঘটার বিষয়ে জোর দেয়।
يَقُصُّونَ: কাসাস শব্দ থেকে নির্গত, অর্থাৎ তারা একের পর এক বিবরণ দেবে, বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করবে।
آيَاتِي: আমার আয়াতসমূহ, অর্থাৎ আল্লাহর বিধান ও নির্দেশনাসমূহ।
اتَّقَىٰ: তাকওয়া অবলম্বন করা, অর্থাৎ আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বাঁচা এবং তাঁর আদেশ পালন করা।
أَصْلَحَ: নিজের আমল ও কাজকে সংশোধন করা, ভালো কাজ করা।
তাফসির:
হে আদম সন্তান! যখনই তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে তোমাদেরই মধ্য থেকে রাসূলগণ আসবেন—যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াত ও বিধানসমূহ পাঠ করবেন এবং সত্যের প্রমাণাদি পেশ করবেন—তখন তোমাদের কর্তব্য হবে তাদের কথা মানা এবং তাদের আনীত পথ অনুসরণ করা। কারণ, এই রাসূলগণ তোমাদেরই জাতির লোক হবেন, যাতে তোমরা তাদের কথা সহজে বুঝতে পারো এবং তাদের সাথে মেলামেশা করতে পারো।
এরপর আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করছেন যে, যারা তাকওয়া অবলম্বন করবে—অর্থাৎ শিরক থেকে বেঁচে থাকবে এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে—এবং নিজেদের আমলকে সংশোধন করবে, অর্থাৎ ভালো কাজ করবে ও মন্দ কাজ ছেড়ে দেবে, তাদের জন্য কোনো ভয় নেই। কিয়ামতের দিন যখন সবাই ভীত-সন্ত্রস্ত হবে, তখন তারা নিরাপদ থাকবে। আর তারা চিরকালের জন্য দুঃখিতও হবে না; দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখ-সম্পদ যা তারা পায়নি বা হারিয়েছে, তার জন্য তারা আফসোস করবে না। কারণ, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ ও শান্তি।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত দয়ালু ও মেহেরবান। তিনি কাউকে অজ্ঞতার অন্ধকারে ফেলে রাখেননি; বরং প্রতিটি জাতির জন্য তাদের নিজেদের মধ্য থেকে রাসূল পাঠিয়েছেন, যাতে তারা সহজে সত্য বুঝতে পারে।
তাকওয়া ও আমল সংশোধনই হলো সফলতার মূল চাবিকাঠি। দুনিয়ার কোনো ভয়-ভীতি বা দুশ্চিন্তা মুমিনকে বিচলিত করতে পারে না, যদি সে আল্লাহকে ভয় করে এবং ভালো কাজ করে।
মুমিনের জীবনে কোনো হতাশা নেই। দুনিয়ায় যা কিছু হারায় বা না পায়, তার বিনিময়ে আল্লাহ তাকে আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দেবেন। তাই মুমিন কখনো হতাশ হয় না, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, রাসূলগণের আনীত পথই একমাত্র মুক্তির পথ। তাদের অনুসরণ করলে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায় শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করা যায়।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এটি শুধু আখিরাতের জন্যই নয়, বরং দুনিয়ার জীবনকেও সুন্দর ও শান্তিময় করে তোলে। যারা আল্লাহর বিধান মেনে চলে, তারা দুনিয়াতেও প্রশান্তিতে থাকে এবং আখিরাতেও সফল হয়।
আপনি বলে দিনঃ আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোন, সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না।
হে বনী-আদম, যদি তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে পয়গম্বর আগমন করে তোমাদেরকে আমার আয়াত সমূহ শুনায়, তবে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ অবলম্বন করে, তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
অতঃপর ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিক জালেম কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা তার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে? তারা তাদের গ্রন্থে লিখিত অংশ পেয়ে যাবে। এমন কি, যখন তাদের কাছে আমার প্রেরিত ফেরশতারা প্রাণ নেওয়ার জন্যে পৌছে, তখন তারা বলে; তারা কোথায় গেল, যাদের কে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আহবান করতে? তারা উত্তর দেবেঃ আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে, তারা নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করবে যে, তারা অবশ্যই কাফের ছিল।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।