হে নবী! আপনি এই মুনাফিকদের বলে দিন: “তোমরা নিজেদের ধন-সম্পদ থেকে যেভাবে ইচ্ছা খরচ করো—স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক—আল্লাহ তা কখনোই কবুল করবেন না। কারণ তোমাদের অন্তর ঈমান থেকে শূন্য, তোমরা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছ এবং আল্লাহর আদেশ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অমান্যকারী দলে পরিণত হয়েছ।”
তাদের দান-সদকা বা আর্থিক সহায়তা যত বড়ই হোক না কেন, তা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে না, কারণ কবুল হওয়ার মূল শর্ত হলো ঈমান ও নিষ্ঠা। মুনাফিকদের বাহ্যিক কাজ-কর্ম যত সুন্দরই দেখাক, তাদের অন্তর কুফর ও বিদ্বেষে পরিপূর্ণ থাকায় সেই সব আমল আল্লাহর কাছে মূল্যহীন। এই আয়াতটি তাদের জন্য কঠোর সতর্কবাণী এবং একই সাথে মুমিনদের জন্য শিক্ষা যে, আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতে হলে তা হতে হবে বিশুদ্ধ নিয়তে ও ঈমানের ভিত্তিতে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর কাছে কোনো আমল কবুল হওয়ার জন্য ঈমান ও নিষ্ঠা অপরিহার্য। ঈমান ছাড়া বাহ্যিক সৎকর্ম কোনো উপকারে আসে না।
মুনাফিকি ও ভণ্ডামির পরিচয় হলো—কাজটি ভালো হলেও অন্তরের বিশ্বাস না থাকায় তা আল্লাহর কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়।
এই আয়াত থেকে মুমিনদের জন্য বড় শিক্ষা হলো, নিজেদের অন্তরকে সর্বদা ঈমান ও খাঁটি বিশ্বাসে পরিশুদ্ধ রাখা, যেন আমাদের প্রতিটি ভালো কাজ আল্লাহর দরবারে কবুল হয়।
আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার সময় স্বেচ্ছায় ও আনন্দচিত্তে করা উচিত, আর তা কবুল হওয়ার জন্য জরুরি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসূলের (সা.) অনুসরণ।
আপনি বলুন, তোমরা তো তোমাদের জন্যে দুটি কল্যাণের একটি প্রত্যাশা কর; আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্যে যে, আল্লাহ তোমাদের আযাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হস্তে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।
সুতরাং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন আপনাকে বিস্মিত না করে। আল্লাহর ইচ্ছা হল এগুলো দ্বারা দুনিয়ার জীবনে তাদের আযাবে নিপতিত রাখা এবং প্রাণবিয়োগ হওয়া কুফরী অবস্থায়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।