Sa yahlifoona billaahi lakum izanqalabtum ilaihim litu`ridoo `anhum fa a`ridoo `anhum innahum rijsunw wa maawaahum jahannamu jazaaa `ambimaa kaanoo yaksiboon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এখন তারা তোমার সামনে আল্লাহর কসম খাবে, যখন তুমি তাদের কাছে ফিরে যাবে, যেন তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা কর-নিঃসন্দেহে এরা অপবিত্র এবং তাদের কৃতকর্মের বদলা হিসাবে তাদের ঠিকানা হলো দোযখ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जब तुम उनके पास (जिहाद से) वापस आओगे तो तुम्हारे सामने ख़ुदा की क़समें खाएगें ताकि तुम उनसे दरगुज़र करो तो तुम उनकी तरफ से मुँह फेर लो बेशक ये लोग नापाक हैं और उनका ठिकाना जहन्नुम है (ये) सज़ा है उसकी जो ये (दुनिया में) किया करते थे
এখন তারা তোমার সামনে আল্লাহর কসম খাবে, যখন তুমি তাদের কাছে ফিরে যাবে, যেন তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা কর-নিঃসন্দেহে এরা অপবিত্র এবং তাদের কৃতকর্মের বদলা হিসাবে তাদের ঠিকানা হলো দোযখ।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
سَيَحْلِفُونَ — তারা শপথ করবে।
انقَلَبْتُمْ — তোমরা ফিরে আসবে (যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করবে)।
لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ — যাতে তোমরা তাদের (তিরস্কার ও জিজ্ঞাসাবাদ) থেকে বিরত থাকো।
رِجْسٌ — নাপাক, অপবিত্র, ঘৃণ্য।
مَأْوَاهُمْ — তাদের আশ্রয়স্থল, আবাসস্থল।
جَزَاءً — প্রতিদানস্বরূপ, বদলা হিসেবে।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা জিহাদ বা কোনো অভিযান থেকে ফিরে এসে মুনাফিকদের কাছে পৌঁছাবে, তখন তারা তোমাদের সামনে আল্লাহর নামে শপথ করে মিথ্যা ওজর-আপত্তি পেশ করবে, যাতে তোমরা তাদেরকে ভর্ৎসনা ও জিজ্ঞাসাবাদ না করো এবং তাদের অপরাধ ক্ষমা করে দাও। কিন্তু আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, তাদেরকে পরিত্যাগ করো এবং তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো। কারণ, তারা অন্তরে কুফরি ও মুনাফিকির নাপাকি বহন করে, তাদের বাহ্যিক শপথ ও ওজর কোনো কাজে আসবে না। তাদের চূড়ান্ত ঠিকানা হলো জাহান্নামের আগুন, যা তাদের কৃতকর্মেরই উপযুক্ত প্রতিদান। তারা দুনিয়ায় মুনাফিকি, মিথ্যা ও পাপাচারে লিপ্ত ছিল, তাই আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মুনাফিক ও কপটচারীদের মিথ্যা শপথ ও ওজর-আপত্তিতে ধোঁকা খাওয়া উচিত নয়; তাদের আসল পরিচয় হলো অন্তরের নাপাকি ও কুচক্রিতা।
সত্যের পথে চলা মুমিনদের জন্য জরুরি যে, তারা মুনাফিকদের থেকে দূরে থাকবে এবং তাদের সাথে লেনদেনে সতর্কতা অবলম্বন করবে।
আল্লাহ তাআলা প্রতিটি কাজের হিসাব নেবেন; দুনিয়ার প্রতারণা আখিরাতে কোনো কাজে আসবে না। পাপীদের জন্য জাহান্নামই চূড়ান্ত পরিণতি।
এই আয়াত মুমিনদেরকে শেখায় যে, ক্ষমা ও সহনশীলতা সেখানে প্রযোজ্য যেখানে সংশোধনের আশা থাকে; কিন্তু যে ব্যক্তি মিথ্যা ও প্রতারণার ওপর অটল থাকে, তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই উত্তম।
ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অপরিসীম — শারীরিক পবিত্রতার পাশাপাশি অন্তরের পবিত্রতা ও ঈমানের পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য।
অভিযোগের পথ তো তাদের ব্যাপারে রয়েছে, যারা তোমার নিকট অব্যাহতি কামনা করে অথচ তারা সম্পদশালী। যারা পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথে থাকতে পেরে আনন্দিত হয়েছে। আর আল্লাহ মোহর এঁটে দিয়েছেন তাদের অন্তরসমূহে। বস্তুতঃ তারা জানতেও পারেনি।
তুমি যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের নিকট ছল-ছুতা নিয়ে উপস্থিত হবে; তুমি বলো, ছল কারো না, আমি কখনো তোমাদের কথা শুনব না; আমাকে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে দিয়েছেন। আর এখন তোমাদের কর্ম আল্লাহই দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে সেই গোপন ও আগোপন বিষয়ে অবগত সত্তার নিকট। তিনিই তোমাদের বাতলে দেবেন যা তোমরা করছিলে।
এখন তারা তোমার সামনে আল্লাহর কসম খাবে, যখন তুমি তাদের কাছে ফিরে যাবে, যেন তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা কর-নিঃসন্দেহে এরা অপবিত্র এবং তাদের কৃতকর্মের বদলা হিসাবে তাদের ঠিকানা হলো দোযখ।
তারা তোমার সামনে কসম খাবে যাতে তুমি তাদের প্রতি রাযী হয়ে যাও। অতএব, তুমি যদি রাযী হয়ে যাও তাদের প্রতি তবু আল্লাহ তা’আলা রাযী হবেন না, এ নাফরমান লোকদের প্রতি।
বেদুইনরা কুফর ও মোনাফেকীতে অত্যন্ত কঠোর হয়ে থাকে এবং এরা সেসব নীতি-কানুন না শেখারই যোগ্য যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলের উপর নাযিল করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সব কিছুই জানেন এবং তিনি অত্যন্ত কুশলী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।