Qaala sa aaweee ilaa jabaliny ya`simunee minal maaa`; qaala laa `aasimal yawma min amril laahi illaa mar rahim; wa haala bainahumal mawju fakaana minal mughraqeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
সে বলল, আমি অচিরেই কোন পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে। নূহ (আঃ) বল্লেন আজকের দিনে আল্লাহর হুকুম থেকে কোন রক্ষাকারী নেই। একমাত্র তিনি যাকে দয়া করবেন। এমন সময় উভয়ের মাঝে তরঙ্গ আড়াল হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিত হল।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(मुझे माफ कीजिए) मै तो अभी किसी पहाड़ का सहारा पकड़ता हूँ जो मुझे पानी (में डूबने) से बचा लेगा नूह ने (उससे) कहा (अरे कम्बख्त) आज ख़ुदा के अज़ाब से कोई बचाने वाला नहीं मगर ख़ुदा ही जिस पर रहम फरमाएगा और (ये बात हो रही थी कि) यकायक दोनो बाप बेटे के दरमियान एक मौज हाएल हो गई और वह डूब कर रह गया
সে বলল, আমি অচিরেই কোন পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে। নূহ (আঃ) বল্লেন আজকের দিনে আল্লাহর হুকুম থেকে কোন রক্ষাকারী নেই। একমাত্র তিনি যাকে দয়া করবেন। এমন সময় উভয়ের মাঝে তরঙ্গ আড়াল হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিত হল।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
سَآوِي — আমি আশ্রয় নেব, আমি গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করব।
يَعْصِمُنِي — আমাকে রক্ষা করবে, আমাকে নিরাপদ রাখবে।
لَا عَاصِمَ — কোনো রক্ষাকারী নেই, কোনো মুক্তিদাতা নেই।
أَمْرِ اللَّهِ — আল্লাহর নির্দেশ ও শাস্তি (এখানে তুফানের শাস্তি)।
حَالَ — আড়াল হয়ে গেল, মাঝখানে বাধা সৃষ্টি করল।
الْمُغْرَقِينَ — নিমজ্জিতদের, ডুবে মৃতদের।
তাফসির:
নূহ (আ.)-এর ছেলে যখন দেখল যে, প্লাবনের পানি তার পিতার নৌকা থেকে তাকে আলাদা করে দিচ্ছে, তখন সে পিতার ডাকে সাড়া না দিয়ে বলল: “আমি এখনই একটি উঁচু পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেব, সেটি আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে।” অর্থাৎ সে মনে করেছিল যে, পাহাড়ের উচ্চতা তাকে পানির কবল থেকে বাঁচিয়ে রাখবে এবং সে তার পিতার নৌকায় ওঠার প্রয়োজন বোধ করল না।
তখন তার পিতা নূহ (আ.) তাকে সতর্ক করে বললেন: “আজকের এই দিনে আল্লাহর নির্দেশ ও শাস্তি থেকে রক্ষা করার মতো কোনো শক্তি বা উপায় নেই। আল্লাহ যাকে রহমত করেন, শুধুমাত্র সেই রক্ষা পাবে।” অর্থাৎ আল্লাহর আজাব যখন এসে যায়, তখন কোনো প্রাকৃতিক উপায় বা পার্থিব আশ্রয় কাজে লাগে না। বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর রহমত, যা তিনি তাঁর ইচ্ছামতো বিশ্বাসী ও অনুগত বান্দাদের ওপর দেন।
এরপর বিশাল ঢেউটি নূহ (আ.) এবং তার ছেলের মাঝখানে এসে পড়ল এবং তাদের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করে দিল। ফলে সেই ছেলে পানিতে ডুবে গেল এবং ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। তার পার্থিব জ্ঞান, পাহাড়ের ওপর ভরসা এবং পিতার অবাধ্যতা তাকে কোনো কাজে আসল না।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর শাস্তি যখন আসে, তখন কোনো পার্থিব উপায় বা বস্তুগত শক্তি মানুষকে রক্ষা করতে পারে না। বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা আল্লাহর রহমত।
পিতার সৎ উপদেশ ও নবী-রাসূলদের নির্দেশনা অমান্য করা ধ্বংসের কারণ। সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসা সত্ত্বেও ঈমান না থাকলে আত্মীয়তার সম্পর্ক কোনো কাজে আসে না।
আত্মবিশ্বাস বা পার্থিব জ্ঞানের ওপর ভরসা করলে মানুষ আল্লাহর নির্দেশ থেকে বিচ্যুত হতে পারে। প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর আদেশ মেনে চলা এবং তাঁর রহমত কামনা করা।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, দুনিয়ার কোনো সম্পদ, উচ্চ মর্যাদা বা সামাজিক অবস্থান আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা করতে পারে না; বরং ঈমান ও নেক আমলই একমাত্র মুক্তির পথ।
আল্লাহর রহমত অর্জনের জন্য তাঁর নির্দেশিত পথে চলা জরুরি। নূহ (আ.)-এর নৌকা ছিল সেই রহমতের নিদর্শন, আর যে তা গ্রহণ করল সে রক্ষা পেল, আর যে তা প্রত্যাখ্যান করল সে ধ্বংস হলো।
আর নৌকাখানি তাদের বহন করে চলল পর্বত প্রমাণ তরঙ্গমালার মাঝে, আর নূহ (আঃ) তাঁর পুত্রকে ডাক দিলেন আর সে সরে রয়েছিল, তিনি বললেন, প্রিয় বৎস! আমাদের সাথে আরোহন কর এবং কাফেরদের সাথে থেকো না।
সে বলল, আমি অচিরেই কোন পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে। নূহ (আঃ) বল্লেন আজকের দিনে আল্লাহর হুকুম থেকে কোন রক্ষাকারী নেই। একমাত্র তিনি যাকে দয়া করবেন। এমন সময় উভয়ের মাঝে তরঙ্গ আড়াল হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিত হল।
আর নির্দেশ দেয়া হল-হে পৃথিবী! তোমার পানি গিলে ফেল, আর হে আকাশ, ক্ষান্ত হও। আর পানি হ্রাস করা হল এবং কাজ শেষ হয়ে গেল, আর জুদী পর্বতে নৌকা ভিড়ল এবং ঘোষনা করা হল, দুরাত্না কাফেররা নিপাত যাক।
আর নূহ (আঃ) তাঁর পালনকর্তাকে ডেকে বললেন-হে পরওয়ারদেগার, আমার পুত্র তো আমার পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত; আর আপনার ওয়াদাও নিঃসন্দেহে সত্য আর আপনিই সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ ফয়সালাকারী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।