আন-নাহল · 28/128
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নাহল
الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ ظَالِمِي أَنفُسِهِمْ ۖ فَأَلْقَوُا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِن سُوءٍ ۚ بَلَىٰ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ۝٢٨
Allazeena tatawaf faahu mul malaaa`ikatu zaalimeee anfusihim fa alqawus salama maa kunnaa na`malu min sooo`; balaaa innal laaha `aleemum bimaa kuntum ta`maloon
📖 বাংলা অর্থ
ফেরেশতারা তাদের জান এমতাঅবস্থায় কবজ করে যে, তারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে। তখন তারা অনুগত্য প্রকাশ করবে যে, আমরা তো কোন মন্দ কাজ করতাম না। হঁ্যা নিশ্চয় আল্লাহ সববিষয় অবগত আছেন, যা তোমরা করতে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • تَتَوَفَّاهُمُ — তাদের প্রাণ হরণ করে।
  • ظَالِمِي أَنفُسِهِمْ — নিজেদের প্রতি অত্যাচারকারী (কুফরির মাধ্যমে)।
  • فَأَلْقَوُا السَّلَمَ — তারা আত্মসমর্পণ করল, বশ্যতা স্বীকার করল।
  • مِن سُوءٍ — কোনো মন্দ কাজ (শিরক বা গুনাহ)।

তাফসির:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই কাফিরদের অবস্থা বর্ণনা করছেন, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে কুফরি ও শিরকের মাধ্যমে। যখন তাদের মৃত্যু আসে এবং ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করতে আসে, তখন তারা ভয় ও আতঙ্কে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে দেয়। মৃত্যুর ভয়াবহতা দেখে তারা অসহায় হয়ে পড়ে এবং সাফাই গাইতে থাকে যে, "আমরা তো কোনো মন্দ কাজ করিনি!" — অর্থাৎ তারা শিরক ও গুনাহকে অস্বীকার করে।

কিন্তু ফেরেশতারা তাদের জবাবে বলে, "হ্যাঁ, তোমরা মন্দ কাজ করেছিলে। আল্লাহ তো সম্পূর্ণ অবগত আছেন যা কিছু তোমরা দুনিয়ায় করতে।" অর্থাৎ তোমাদের অস্বীকার করা সত্ত্বেও আল্লাহ তোমাদের সকল কাজ জানেন — তোমরা যে কুফরি করেছিলে, যে শিরক করেছিলে, যে অন্যায় ও পাপাচারে লিপ্ত ছিলে — সবই তাঁর জানা। তিনি তোমাদেরকে সেই অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন।

এখানে মূল বিষয় হলো, মৃত্যুর সময় কাফির ও পাপীরা যখন সত্য দেখতে পায়, তখন তাদের অনুতাপ ও অস্বীকার কোনো কাজে আসে না। কারণ আল্লাহর জ্ঞান থেকে কিছুই লুকানো যায় না।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. মৃত্যুর আগেই তাওবা করা জরুরি — মৃত্যু যখন চলে আসে, তখন আর তাওবা কবুল হয় না। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
  2. আল্লাহর জ্ঞান থেকে কিছুই লুকানো যায় না — আমরা মনে করি আমাদের গুনাহ লুকিয়ে আছে, কিন্তু আল্লাহ সব জানেন। এই চেতনা আমাদেরকে গুনাহ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
  3. মৃত্যুর সময় সত্য প্রকাশ পায় — দুনিয়ায় মানুষ যতই মিথ্যা বলুক বা সত্য গোপন করুক, মৃত্যুর সময় সব সত্য স্পষ্ট হয়ে যায়। তখন অস্বীকার করা কোনো কাজে আসে না।
  4. নিজের উপর জুলুম করা থেকে বিরত থাকা — কুফরি ও গুনাহ আসলে নিজের উপরই জুলুম করা। কারণ এর পরিণাম ভয়াবহ। তাই আমাদের উচিত নিজের প্রতি সদয় হওয়া এবং আল্লাহর আদেশ মেনে চলা।
  5. ইসলামের সৌন্দর্য — ইসলাম আমাদেরকে মৃত্যুর আগেই সতর্ক করে দেয়, যেন আমরা অনুতপ্ত না হই। এটি আল্লাহর রহমত যে তিনি আমাদেরকে সতর্ক করেছেন, যাতে আমরা দুনিয়াতেই সংশোধন হয়ে যাই এবং আখিরাতের শাস্তি থেকে বাঁচতে পারি।


📜 আয়াত 26-30 — সূরা আন-নাহল

26قَدْ مَكَرَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَأَتَى اللَّهُ بُنْيَانَهُم مِّنَ الْقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَيْهِمُ السَّقْفُ مِن فَوْقِهِمْ وَأَتَاهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ
নিশ্চয় চক্রান্ত করেছে তাদের পূর্ববর্তীরা, অতঃপর আল্লাহ তাদের চক্রান্তের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন। এরপর উপর থেকে তাদের মাথায় ছাদ ধ্বসে পড়ে গেছে এবং তাদের উপর আযাব এসেছে যেখান থেকে তাদের ধারণা ছিল না।
27ثُمَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُخْزِيهِمْ وَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَائِيَ الَّذِينَ كُنتُمْ تُشَاقُّونَ فِيهِمْ ۚ قَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ إِنَّ الْخِزْيَ الْيَوْمَ وَالسُّوءَ عَلَى الْكَافِرِينَ
অতঃপর কেয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেনঃ আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের ব্যাপারে তোমরা খুব হঠকারিতা করতে ? যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিল তারা বলবেঃ নিশ্চয়ই আজকের দিনে লাঞ্ছনা ও দুর্গতি কাফেরদের জন্যে,
28الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ ظَالِمِي أَنفُسِهِمْ ۖ فَأَلْقَوُا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِن سُوءٍ ۚ بَلَىٰ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
ফেরেশতারা তাদের জান এমতাঅবস্থায় কবজ করে যে, তারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে। তখন তারা অনুগত্য প্রকাশ করবে যে, আমরা তো কোন মন্দ কাজ করতাম না। হঁ্যা নিশ্চয় আল্লাহ সববিষয় অবগত আছেন, যা তোমরা করতে।
29فَادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۖ فَلَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ
অতএব, জাহান্নামের দরজসমূহে প্রবেশ কর, এতেই অনন্তকাল বাস কর। আর অহংকারীদের আবাসস্থল কতই নিকৃষ্ট।
30۞ وَقِيلَ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا مَاذَا أَنزَلَ رَبُّكُمْ ۚ قَالُوا خَيْرًا ۗ لِّلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَٰذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ ۚ وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ ۚ وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِينَ
পরহেযগারদেরকে বলা হয়ঃ তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলেঃ মহাকল্যাণ। যারা এ জগতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে এবং পরকালের গৃহ আরও উত্তম। পরহেযগারদের গৃহ কি চমৎকার?
আন-নাহলকুরআন সূচী
128আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
28আয়াত

অনুবাদ — আন-নাহল 28

সূরা আন-নাহল আয়াত 28 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : ফেরেশতারা তাদের জান এমতাঅবস্থায় কবজ করে যে, তারা নিজেদের উপর…

সূরা আয়াত 28/128 — সূরা আন-নাহল النحل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নাহল শুনুন, সূরা আন-নাহল অনুবাদ, সূরা আন-নাহল mp3, সূরা আন-নাহল pdf. আয়াত 26–30. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না