Man zal lazee yuqridul laaha qardan hasanan fayudaa `ifahoo lahoo ad`aafan kaseerah; wallaahu yaqbidu wa yabsut-u wa ilaihi turja`oon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এমন কে আছে যে, আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ; অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তাঁরই নিকট তোমরা সবাই ফিরে যাবে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
है कोई जो ख़ुदा को क़र्ज़ ए हुस्ना दे ताकि ख़ुदा उसके माल को इस के लिए कई गुना बढ़ा दे और ख़ुदा ही तंगदस्त करता है और वही कशायश देता है और उसकी तरफ सब के सब लौटा दिये जाओगे
এমন কে আছে যে, আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ; অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তাঁরই নিকট তোমরা সবাই ফিরে যাবে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا: আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেওয়া অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের মাল খরচ করা।
فَيُضَاعِفَهُ: অতঃপর তিনি তা বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন।
أَضْعَافًا كَثِيرَةً: অগণিত বহু গুণ।
يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ: তিনি সংকীর্ণ করেন এবং প্রশস্ত করেন (রিজিক সংকুচিত ও প্রসারিত করেন)।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অশেষ করুণা ও দয়ার কারণে তাদেরকে দান-সদকা ও সৎপথে ব্য�় করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন করছেন—কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে? অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজের হালাল সম্পদ থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, বিশুদ্ধ নিয়তে এবং ভালোবাসার সাথে খরচ করবে, আল্লাহ তার এই সামান্য বিনিয়োগকে এত বেশি বৃদ্ধি করে দেবেন যে তার সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। এটি এমন এক লেনদেন, যেখানে ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই, বরং প্রতিটি পয়সার বিনিময়ে অফুরন্ত পুরস্কার ও জান্নাতের নেয়ামত প্রস্তুত রয়েছে।
এরপর আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিচ্ছেন যে রিজিকের মালিক একমাত্র তিনিই। তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক সংকুচিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা প্রসারিত করেন। তাঁর এই সংকোচন-প্রসারণের মধ্যে রয়েছে অসীম হিকমত ও ন্যায়বিচার। কাউকে কম দিয়ে তিনি পরীক্ষা করেন, আবার কাউকে বেশি দিয়ে পরীক্ষা করেন। তাই বান্দার উচিত আল্লাহর দেওয়া সম্পদ থেকে খরচ করা, কারণ এ সম্পদ তো একদিন এখানেই রয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত সবাইকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে, আর তখন তিনি প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী পূর্ণ প্রতিদান দেবেন। যারা দান করেছে তারা সওয়াব পাবে, আর যারা কৃপণতা করেছে তারা জবাবদিহির সম্মুখীন হবে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
দান-সদকা আল্লাহর কাছে এত প্রিয় যে, তিনি একে তাঁর নিজের প্রতি ঋণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন—এটি মুমিনের জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।
দান করলে সম্পদ কমে না, বরং আল্লাহ তা বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন, যা দুনিয়াতেও বরকতের মাধ্যমে এবং আখিরাতে অগণিত সওয়াবের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
রিজিক সংকুচিত বা প্রসারিত হওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তাই কারো সম্পদ দেখে হিংসা করা উচিত নয়, বরং আল্লাহর বণ্টনে সন্তুষ্ট থাকা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
দান করার সময় মনে রাখতে হবে—আমাদের প্রকৃত ফিরে যাওয়ার স্থান আল্লাহর দিকে, তাই সেখানে যেন আমাদের হাত ভরে নেক আমল থাকে, সেদিকেই আমাদের সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।
এই আয়াত মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা ও উদারতার শিক্ষা দেয়; আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে খরচ করলে তিনি আরও বেশি দেবেন—এটাই ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা।
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা মৃত্যুর ভয়ে নিজেদের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন? অথচ তারা ছিল হাজার হাজার। তারপর আল্লাহ তাদেরকে বললেন মরে যাও। তারপর তাদেরকে জীবিত করে দিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের উপর অনুগ্রহকারী। কিন্তু অধিকাংশ লোক শুকরিয়া প্রকাশ করে না।
এমন কে আছে যে, আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ; অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তাঁরই নিকট তোমরা সবাই ফিরে যাবে।
মূসার পরে তুমি কি বনী ইসরাঈলের একটি দলকে দেখনি, যখন তারা বলেছে নিজেদের নবীর কাছে যে, আমাদের জন্য একজন বাদশাহ নির্ধারিত করে দিন যাতে আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে পারি। নবী বললেন, তোমাদের প্রতিও কি এমন ধারণা করা যায় যে, লড়াইর হুকুম যদি হয়, তাহলে তখন তোমরা লড়বে না? তারা বলল, আমাদের কি হয়েছে যে, আমরা আল্লাহর পথে লড়াই করব না। অথচ আমরা বিতাড়িত হয়েছি নিজেদের ঘর-বাড়ী ও সন্তান-সন্ততি থেকে। অতঃপর যখন লড়াইয়ের নির্দেশ হলো, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তাদের সবাই ঘুরে দাঁড়ালো। আর আল্লাহ তা’আলা জালেমদের ভাল করেই জানেন।
আর তাদেরকে তাদের নবী বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তালূতকে তোমাদের জন্য বাদশাহ সাব্যস্ত করেছেন। তারা বলতে লাগল তা কেমন করে হয় যে, তার শাসন চলবে আমাদের উপর। অথচ রাষ্ট্রক্ষমতা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার চেয়ে আমাদেরই অধিকার বেশী। আর সে সম্পদের দিক দিয়েও সচ্ছল নয়। নবী বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তাকে পছন্দ করেছেন এবং স্বাস্থ্য ও জ্ঞানের দিক দিয়ে প্রাচুর্য দান করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তাকেই রাজ্য দান করেন, যাকে ইচ্ছা। আর আল্লাহ হলেন অনুগ্রহ দানকারী এবং সব বিষয়ে অবগত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।