আল-মুমিনুন · 33/118
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মুমিনুন
وَقَالَ الْمَلَأُ مِن قَوْمِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِلِقَاءِ الْآخِرَةِ وَأَتْرَفْنَاهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا مَا هَٰذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُونَ ۝٣٣
Wa qaalal mala-u min qawmihil lazeena kafaroo wa kazzaboo bi liqaaa`il Aakhirati wa atrafnaahum fil hayaatid dunyaa maa haazaaa illaa basharum mislukum yaakulu mimmaa taakuloona minhu wa yashrabu mimmaa tashraboon
📖 বাংলা অর্থ
তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানরা যারা কাফের ছিল, পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলত এবং যাদেরকে আমি পার্থিব জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছিলাম, তারা বললঃ এতো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নয়। তোমরা যা খাও, সেও তাই খায় এবং তোমরা যা পান কর, সেও তাই পান করে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ব্যাখ্যা:

  • الْمَلَأُ — সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ও সম্মানিত ব্যক্তিরা।
  • أَتْرَفْنَاهُمْ — আমরা তাদেরকে প্রাচুর্য, বিলাসিতা ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন দান করেছিলাম।
  • بِلِقَاءِ الْآخِرَةِ — আখিরাতের সম্মুখীন হওয়া অর্থাৎ মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত-জাহান্নামে বিশ্বাস করা।
  • مَا هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ — এ ব্যক্তি তোমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ, কোনো বিশেষ মর্যাদার অধিকারী নয়।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এখানে নবী হুদ (আঃ)-এর সম্প্রদায় ‘আদ জাতির ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তাদের সম্প্রদায়ের সেই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা, যারা কুফরিতে নিমগ্ন ছিল এবং আখিরাতের মুখোমুখি হওয়াকে অস্বীকার করত, তারা যখন দেখল যে, তাদেরই একজন সাধারণ মানুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল হয়ে এসেছেন, তখন তারা অহংকার ও ঔদ্ধত্যের সাথে তাদের অনুসারীদের বলল: “এ ব্যক্তি তো তোমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ! সে তোমাদের মতোই খায়, তোমাদের মতোই পান করে। তার মধ্যে এমন কোনো বিশেষত্ব নেই যা তাকে তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়। সে তো নবী হলে তার কী এমন বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত ছিল যে, সে ফেরেশতা হতো অথবা তার কাছে কোনো ধন-ভান্ডার থাকত?”

তারা তাদের সীমিত জ্ঞান ও দুনিয়াবিমুখ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বুঝতে পারেনি যে, নবী-রাসূলগণ সবসময়ই মানুষের মধ্য থেকেই প্রেরিত হয়েছেন, যাতে মানুষ তাদের কাছ থেকে সরাসরি শিক্ষা নিতে পারে এবং তাদের জীবনই অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে থাকে। রাসূলের মানব হওয়াটাই তো রহমত, কারণ মানুষ তার মতো মানুষকেই অনুসরণ করতে পারে।

এখানে লক্ষণীয় যে, তারা কুফর ও আখিরাত অস্বীকারের সাথে সাথে দুনিয়ার বিলাসিতায় নিমজ্জিত ছিল। এই বিলাসিতাই তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছিল এবং সত্য গ্রহণ থেকে দূরে রেখেছিল। তারা মনে করেছিল, দুনিয়ার এই প্রাচুর্য ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যই তো সফলতার প্রমাণ। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় এত সমৃদ্ধ, সে-ই সঠিক পথে রয়েছে। আর যে সাধারণ জীবনযাপন করে, সে কীভাবে নবী হতে পারে?

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষা দিচ্ছেন যে, সত্যের মাপকাঠি দুনিয়ার সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদা নয়, বরং সত্যের মাপকাঠি হলো আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসূলদের অনুসরণ। দুনিয়ার বিলাসিতা অনেক সময় মানুষের জন্য পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়, যা তাদেরকে সত্য থেকে বিচ্যুত করে।

প্রিয় পাঠক! আমরা যখন এই আয়াত পাঠ করি, তখন আমাদের নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা করা উচিত। আমরা কি দুনিয়ার বিলাসিতায় এমনভাবে মগ্ন হয়ে পড়েছি যে, আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূলের (সাঃ) শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি? আমাদের উচিত দুনিয়াকে আখিরাতের জন্য ব্যবহার করা, দুনিয়াকে লক্ষ্য না বানিয়ে পথ বানানো। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য বুঝার ও সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।



📜 আয়াত 31-35 — সূরা আল-মুমিনুন

31ثُمَّ أَنشَأْنَا مِن بَعْدِهِمْ قَرْنًا آخَرِينَ
অতঃপর অন্য এক সম্প্রদায় আমি তার স্থলাভিষিক্ত করেছিলাম।
32فَأَرْسَلْنَا فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ أَفَلَا تَتَّقُونَ
এবং তাদেরই একজনকে তাদের মধ্যে রসূলরূপে প্রেরণ করেছিলাম এই বলে যে, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন মাবুদ নেই। তবুও কি তোমরা ভয় করবে না?
33وَقَالَ الْمَلَأُ مِن قَوْمِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِلِقَاءِ الْآخِرَةِ وَأَتْرَفْنَاهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا مَا هَٰذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُونَ
তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানরা যারা কাফের ছিল, পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলত এবং যাদেরকে আমি পার্থিব জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছিলাম, তারা বললঃ এতো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নয়। তোমরা যা খাও, সেও তাই খায় এবং তোমরা যা পান কর, সেও তাই পান করে।
34وَلَئِنْ أَطَعْتُم بَشَرًا مِّثْلَكُمْ إِنَّكُمْ إِذًا لَّخَاسِرُونَ
যদি তোমরা তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য কর, তবে তোমরা নিশ্চিতরূপেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
35أَيَعِدُكُمْ أَنَّكُمْ إِذَا مِتُّمْ وَكُنتُمْ تُرَابًا وَعِظَامًا أَنَّكُم مُّخْرَجُونَ
সে কি তোমাদেরকে এই ওয়াদা দেয় যে, তোমরা মারা গেলে এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হলে তোমাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে?
আল-মুমিনুনকুরআন সূচী
118আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
33আয়াত

অনুবাদ — আল-মুমিনুন 33

সূরা আল-মুমিনুন আয়াত 33 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানরা যারা কাফের ছিল, পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলত…

সূরা আয়াত 33/118 — সূরা আল-মুমিনুন المؤمنون (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মুমিনুন শুনুন, সূরা আল-মুমিনুন অনুবাদ, সূরা আল-মুমিনুন mp3, সূরা আল-মুমিনুন pdf. আয়াত 31–35. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না